
আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক,
শুক্রবার ইসরায়েলের এক নজিরবিহীন হামলায় ইরানের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তা ও পরমাণু বিজ্ঞানী নিহত হয়েছেন। এই হামলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এবং পরমাণু কর্মসূচির হূদয়ে আঘাত হেনেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ইসরায়েল ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ নামে এই অভিযান চালায়, যেখানে তাদের লক্ষ্য ছিল ইরানের পরমাণু গবেষণা কেন্দ্র, সামরিক ঘাঁটি এবং কিছু বেসামরিক স্থাপনা। ইরান জানিয়েছে, এই হামলায় নিহতদের মধ্যে রয়েছে:

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান এবং দেশের সর্বোচ্চ র্যাংকের সামরিক কর্মকর্তা ছিলেন বাঘেরি।
১৯৮০ সালে মাত্র ২০ বছর বয়সে তিনি রেভলিউশনারি গার্ডস কর্পস (IRGC)-এ যোগ দেন এবং ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় গোয়েন্দা বিভাগের প্রতিষ্ঠায় মুখ্য ভূমিকা রাখেন।
বাঘেরিকে অপেক্ষাকৃত “কম কট্টরপন্থী” হিসেবে বিবেচনা করা হতো এবং যুদ্ধ এড়িয়ে শান্তির পক্ষে বক্তব্য দেওয়ায় তিনি আলোচনায় এসেছিলেন।
তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন আব্দোলরাহিম মৌসাভি।

রেভলিউশনারি গার্ডসের কমান্ডার ইন চিফ ছিলেন সালামি।
তিনি ২০১৯ সাল থেকে বাহিনীটির নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ও আগ্রাসী ভাষণের জন্য পরিচিত ছিলেন তিনি।
মৃত্যুর আগে তিনি বলেছিলেন, “ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্র হামলা করলে নরকের দরজা খুলে যাবে।”
তার স্থানে দায়িত্ব নিয়েছেন মোহাম্মাদ পাকপোর।

IRGC এবং সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযান পরিচালনাকারী ‘খাতাম-আল আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স’-এর প্রধান ছিলেন রাশিদ।
তিনি ইরান-ইরাক যুদ্ধে সরাসরি অংশ নেন এবং পরে সেনাবাহিনীর উপ-প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন আলি সাদমানি।

IRGC-এর এরোস্পেস ফোর্সের প্রধান এবং ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কার্যক্রমের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন তিনি।
ইসরায়েল দাবি করেছে, হাজিযাদেহ মাটির নিচে গোপন ঘাঁটি থেকে ইসরায়েলে হামলার পরিকল্পনা করছিলেন, তখনই তাকে টার্গেট করা হয়।
২০২০ সালে ইউক্রেনিয়ান একটি বিমান ভূপাতিত করার দায় স্বীকার করেছিলেন তিনি, যার ফলে দেশে তার গ্রহণযোগ্যতা অনেকটাই হ্রাস পায়।

২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইরানের পরমাণু শক্তি কমিশনের প্রধান ছিলেন।
২০২০ সাল থেকে সংসদ সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি প্রকাশ্যে পরমাণু অস্ত্র তৈরির পক্ষে মত দিয়েছিলেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানায়, এই হামলায় আরও অন্তত ছয়জন শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানী নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন:
মোহাম্মদ মেহদি তেহরানচি: তেহরান আজাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান
আবদুল্লাহামিদ মিনৌচেহর: শহিদ বেহেশতি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং প্রধান
আহমেদ রেজা জোলফাঘারি: একই বিভাগের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক
আমিরহোসেইন ফেকহি: নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক
ইরান এরইমধ্যে ইসরায়েলের ওপর পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, যাতে অন্তত দুইজন নিহত এবং ৬৩ জন আহত হন।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) জানিয়েছে, “এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
অন্যদিকে, ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, “ইসরায়েলকে এই হামলার কঠিন মূল্য দিতে হবে।”
বিশ্লেষকদের মত, এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যে এক নতুন উত্তেজনার অধ্যায় শুরু করলো বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
ইরানের সামরিক ও পরমাণু কর্মসূচিতে এমন সরাসরি আঘাত ২০১০ সালের পর আর দেখা যায়নি।
প্রকাশক ও সম্পাদক : শহীদুল ইসলাম, বার্তা সম্পাদক : ফরহাদ হোসেন
০১৭২৫-৭৩৬৩৫৩, ০১৬০২-৯০৩৬২১ / ০১৭৭০-৪৯৪৯৮১
ঢাকা কার্যালয়ঃ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
আঞ্চলিক কার্যালয়ঃ ডাকবাংলোপাড়া, বদলগাছী, নওগাঁ।
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ গণ সংবাদ২৪