
প্রযুক্তি ডেস্ক: প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জয়জয়কারের মধ্যেও মানবীয় বুদ্ধিমত্তা ও অনুভূতির গুরুত্ব কোনোভাবেই কমিয়ে দেখার সুযোগ নেই। আধুনিক যুগে প্রযুক্তির ওপর মানুষের নির্ভরতা দিন দিন বাড়লেও আমাদের নিজস্ব চিন্তাশক্তি সবসময়ই অনন্য অবস্থানে রয়েছে। প্রযুক্তি অনেক জটিল কাজ নিমিষেই সমাধান করে দিতে পারলেও মানুষের মনের গভীরের সুক্ষ্ম অনুভূতিগুলো অনুধাবন করার ক্ষমতা শুধু মানুষেরই আছে।
প্রখ্যাত সাংবাদিক ও বিশ্লেষক ফরিদ জাকারিয়া সম্প্রতি মানবীয় মেধার এই বিশেষ দিকটির ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। তাঁর মতে, যান্ত্রিক কোড কিংবা অ্যালগরিদম কখনোই মানুষের স্বাভাবিক স্বজ্ঞাত বোধ এবং আবেগের সম্পূর্ণ বিকল্প হয়ে উঠতে পারে না। মানুষের সামাজিক মিথস্ক্রিয়া এবং পারস্পরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে সূক্ষ্ম বিষয়গুলো উপলব্ধি করার জন্মগত ক্ষমতা রয়েছে, যা কোনো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পক্ষে অনুকরণ করা অত্যন্ত দুরূহ।
দৈনন্দিন জীবনে আমরা মানুষের মুখের একটি সাধারণ হাসি কিংবা চোখের পলকে তার পেছনের আসল উদ্দেশ্য খুব সহজেই বুঝে ফেলতে পারি। কেউ কোনো কথা না বললেও তার শারীরিক ভাষা বা অভিব্যক্তির মাধ্যমে তার মন খারাপ কিংবা মানসিক চাপ সহজেই টের পাওয়া যায়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যতই উন্নত হোক না কেন, মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত সহানুভূতি এবং পারস্পরিক মানসিক সংযোগের ক্ষেত্রটিতে তারা সম্পূর্ণভাবে অপারগ।
তাই প্রযুক্তির এই যুগে দাঁড়িয়ে মানুষের বুদ্ধিমত্তা এবং আবেগীয় দক্ষতার মূল্যায়ন নতুন করে করা জরুরি হয়ে পড়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কেবল আমাদের সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করতে পারে, কিন্তু মানুষের সৃজনশীলতা ও মনস্তাত্ত্বিক বোধের স্থলাভিষিক্ত হতে পারে না। এই সত্যটি অনুধাবন করেই ভবিষ্যতের প্রযুক্তি ও মানব সমাজের সম্পর্ক নির্ধারণ করা উচিত বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রকাশক ও সম্পাদক : শহীদুল ইসলাম, বার্তা সম্পাদক : ফরহাদ হোসেন
০১৭২৫-৭৩৬৩৫৩, ০১৬০২-৯০৩৬২১ / ০১৭৭০-৪৯৪৯৮১
ঢাকা কার্যালয়ঃ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
আঞ্চলিক কার্যালয়ঃ ডাকবাংলোপাড়া, বদলগাছী, নওগাঁ।
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ গণ সংবাদ২৪