সমরেশ রায় ও শম্পা দাস, কলকাতা (পশ্চিমবঙ্গ) ভারতঃ
রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগের দীর্ঘস্থায়ী জট এবং নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগের প্রতিবাদে সোমবার এসএলএসটি’র নতুন চাকরি প্রার্থীদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে হস্তক্ষেপ করে পুলিশ একশোরও বেশি চাকরি প্রার্থীকে আটক করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে দুপুরে ধর্মতলা ডরিনা ক্রসিং এ, যেখানে ঘণ্টাব্যাপী পথ অবরোধে থমকে যায় কলকাতার কেন্দ্রীয় যান চলাচল।

দুপুর ১২টার দিকে শতাধিক যোগ্য প্রার্থী শিয়ালদহ স্টেশন থেকে মিছিল শুরু করে স্লোগানে স্লোগানে এস.এন. ব্যানার্জি রোড হয়ে ধর্মতলায় পৌঁছান। সেখানেই তারা ডরিনা ক্রসিং ঘেরাও করে বসে পড়েন এবং ন্যায়বিচার, স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া ও যোগ্যদের অবিলম্বে নিয়োগের দাবি জানান।
প্রার্থীরা বলেন, “আমরা দশ বছর ধরে আন্দোলন করছি। এক লক্ষেরও বেশি শূন্য পদ থাকা সত্ত্বেও যোগ্য প্রার্থীদের চাকরি দেওয়া হচ্ছে না। সরকার কোনও সহযোগিতা করছে না। শিক্ষামন্ত্রী আমাদের সঙ্গে সরাসরি কথা না বলা পর্যন্ত আমরা এখান থেকে উঠছি না।”

তারা আরও অভিযোগ করেন, প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনাও ফলপ্রসূ হয়নি, “আমাদের কথা শোনার চেষ্টা পর্যন্ত করা হয়নি।”
সংবিধানের ১৬ নম্বর ধারায় সমান সুযোগের অধিকারের কথা উল্লেখ করে বিক্ষোভকারীরা বলেন, তাদের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে।
চাকরি প্রার্থীরা নিয়োগ–পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে জানান, “৭০ নম্বরের পরীক্ষায় কেউ ৭৭ নম্বর পেয়েছে, এটা কিভাবে সম্ভব?”
তাদের অভিযোগ, “চাকরি দুর্নীতিতে অভিযুক্তরা জামিন পাচ্ছে, কিন্তু যোগ্য, শিক্ষিত বেকাররা রাস্তায় বসে আছে।”

দীর্ঘ আলোচনার পরও যখন প্রার্থীরা অবরোধ তুলতে অস্বীকৃতি জানান এবং শিক্ষামন্ত্রী না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, ঠিক সেই সময় পুলিশ হঠাৎ ধরপাকড় শুরু করে। বহু বিক্ষোভকারীকে জোর করে গাড়িতে তোলা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একশোরও বেশি প্রার্থীকে আটক করা হয়েছে।
এতে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়। আটক অভিযানের পর আন্দোলনকারীদের বক্তব্য,
“তিন লক্ষেরও বেশি বেকার মানুষ রাজ্যে। কতজনকে গ্রেফতার করবে? আজ গ্রেফতার করলে কাল আবার আন্দোলনে ফিরব। আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকারের জন্য লড়ছি।”
প্রার্থীদের অভিযোগ, "স্কুলে স্কুলে শিক্ষক নেই, হাজার হাজার শূন্য পদ পড়ে আছে। অথচ সরকার অযোগ্যদের নিয়োগ দিচ্ছে। আমরা শুধু ন্যায়বিচার চাইছি।”
চাকরি প্রার্থীদের দাবি, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ওপর পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে। ধর্মতলা চত্বর একসময় সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে।
ঘটনার পর এখনও সরকারি পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
চাকরি প্রার্থীরা ঘোষণা করেছেন, “ন্যায্য বিচার ও যোগ্যদের নিয়োগ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক : শহীদুল ইসলাম, বার্তা সম্পাদক : ফরহাদ হোসেন
০১৭২৫-৭৩৬৩৫৩, ০১৬০২-৯০৩৬২১ / ০১৭৭০-৪৯৪৯৮১
ঢাকা কার্যালয়ঃ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
আঞ্চলিক কার্যালয়ঃ ডাকবাংলোপাড়া, বদলগাছী, নওগাঁ।
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ গণ সংবাদ২৪