
জাতীয় ডেস্ক: সংবিধান সংস্কার ও সংশোধনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা করেছে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি। সম্প্রতি জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও আইনি কাঠামো শক্তিশালী করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। বৈঠকে অংশ নেওয়া শিক্ষাবিদেরা সংবিধানকে আরও টেকসই, জনবান্ধব ও সর্বজনগ্রহণযোগ্য করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তাঁরা মনে করেন, অতীতে রাষ্ট্রব্যবস্থায় যে ধরনের স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতা দেখা গেছে, তা রোধ করতে সাংবিধানিক সংস্কার অত্যন্ত জরুরি একটি পদক্ষেপ।
বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমকে ব্রিফিংকালে সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত সংসদীয় বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, বর্তমান রাজনৈতিক দলগুলো বিশেষ করে বিএনপি এই প্রক্রিয়ায় শেষ পর্যন্ত অংশ নেবে বলে তাঁরা আশাবাদী। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বিরোধী দল অংশ না নিলেও আইনি প্রক্রিয়া থেমে থাকবে না, তবে তাদের অংশগ্রহণ সংসদীয় বিতর্ককে আরও সমৃদ্ধ করবে। সরকারের পক্ষ থেকে বিরোধী দলকে বারবার আহ্বান জানানো সত্ত্বেও তারা যদি নিজ দায়িত্ব পালনে বিরত থাকে, তবে জাতি তা পর্যবেক্ষণ করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আলোচনাকালে শিক্ষাবিদেরা নির্বাহী বিভাগের অবারিত ক্ষমতা কমানোর পাশাপাশি ক্ষমতার ভারসাম্য এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানান। বিশেষ করে রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বৈরতন্ত্রের পথ চিরতরে বন্ধ করতে সাংবিধানিক কাঠামোর ভেতরেই প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের প্রস্তাব দেন তাঁরা। এ ছাড়াও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা পুরোপুরি নিশ্চিত করা এবং সংবিধানের সঠিক ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য উচ্চ আদালত থেকে আলাদা একটি সাংবিধানিক আদালত প্রতিষ্ঠার ওপরও জোর দেওয়া হয়। রাষ্টীয় বিভিন্ন বলপ্রয়োগকারী সংস্থাকে কঠোর জবাবদিহির আওতায় আনার সুনির্দিষ্ট রূপরেখাও সংবিধানে থাকা উচিত বলে মত দেন বিশিষ্টজনেরা।
বৈঠকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার পুনর্গঠন এবং সংবিধানে উচ্চকক্ষ চালুর মতো জটিল বিষয়গুলো নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। প্রতিনিধি নির্বাচন ও আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি কীভাবে সাজানো যায়, সে বিষয়ে শিক্ষাবিদদের অনেকে লিখিত প্রস্তাব জমা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। এর পাশাপাশি নারী অধিকার ও সুরক্ষাকে সুসংহত করতে সংবিধানের বিভিন্ন ধারায় ব্যবহৃত শব্দচয়ন পরিবর্তনের প্রস্তাবও এসেছে। যেমন—'মহিলা' শব্দের বদলে 'নারী', 'উপজাতি'র পরিবর্তে 'ভিন্ন জাতিসত্তা' এবং 'উপসম্প্রদায়' শব্দের জায়গায় 'ধর্মীয় সম্প্রদায়' ব্যবহারের মতো সামাজিক পরিবর্তনের প্রতিধ্বনিও ঘটেছে এই সভায়।
উল্লেখ্য, সংবিধান সংস্কারের এই ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে খুব শীঘ্রই দেশের শীর্ষস্থানীয় আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করার পরিকল্পনা রয়েছে সংসদের এই বিশেষ কমিটির। দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত ও দীর্ঘমেয়াদী প্রত্যাশা প্রতিফলিত করেই চূড়ান্ত সংস্কার প্রস্তাব তৈরি করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। শতভাগ ঐকমত্য অর্জন কঠিন হলেও আলোচনার পরিধি যত বাড়বে, প্রণীত সংবিধান তত বেশি মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারবে বলেই আশা প্রকাশ করছেন নীতিনির্ধারকেরা।
প্রকাশক ও সম্পাদক : শহীদুল ইসলাম, বার্তা সম্পাদক : ফরহাদ হোসেন
০১৭২৫-৭৩৬৩৫৩, ০১৬০২-৯০৩৬২১ / ০১৭৭০-৪৯৪৯৮১
ঢাকা কার্যালয়ঃ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
আঞ্চলিক কার্যালয়ঃ ডাকবাংলোপাড়া, বদলগাছী, নওগাঁ।
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ গণ সংবাদ২৪