নিজস্ব প্রতিবেদক
লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী নাজিমুল হক সরকারের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়া ও ঠিকাদারদের হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। ই-জিপি টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ পাওয়া একাধিক ঠিকাদার অভিযোগ করেছেন, ঘুষ ছাড়া তিনি কোনো ফাইলে সই করেন না।
ঠিকাদার আবু ছিদ্দিকের অভিযোগ, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তিনি জেলা পরিষদের লাইসেন্স নিয়ে ই-জিপি টেন্ডারে অংশ নেন। পরে ৬ লাখ ৮৪ হাজার টাকায় সাতটি রাস্তার কাজ পান। ছয় মাস ধরে প্রকৌশলীর কাছে ঘুরেও তিনি কেবল চারটি কাজ বুঝে পান। বাকি তিনটি কাজ এখনো বুঝে পাননি।
আবু ছিদ্দিক বলেন, ‘কাজের বিল উত্তোলনের সময় প্রকৌশলী নাজিমুল ২০ হাজার টাকা ঘুষ চান। পরে ১০ হাজার টাকা দিলে তিনি ফাইলে সই করেন। বাকি তিনটি কাজ বুঝে নিতে গেলে গত ১৭ মার্চ তিনি আমাকে ধাক্কা দিয়ে চেয়ার থেকে মেঝেতে ফেলে দেন। পরে হিসাবরক্ষকের কক্ষে গেলে সেখান থেকেও বের করে দেন।’
তিনি আরও জানান, ‘বাকি কাজের ব্যাপারে প্রকৌশলী আমাকে কাজ না করেই বিল করার প্রস্তাব দেন। আমি রাজি না হলে তিনি বিল আটকে রাখেন।’
এই ঘটনার পরদিনই তিনি জেলা প্রশাসক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক রাজীব কুমার সরকারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। প্রশাসক তিন দিনের মধ্যে বিষয়টি নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন।
অন্যদিকে, রামগঞ্জের ঠিকাদার নজরুল ইসলাম জিএস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করে লিখেছেন, “এই প্রকৌশলী মসজিদের বিল থেকেও টাকা খায়। তার অত্যাচারে আমি এখন টেন্ডার দিই না।” ঠিকাদার ইসমাইল হোসেন বাপ্পী বলেন, “এই প্রকৌশলী ঘুষ ছাড়া কিছু বোঝেন না।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিন ঠিকাদার দাবি করেন, সহকারী প্রকৌশলীর প্রভাবে জেলা পরিষদে সব ঠিকাদার ও কর্মকর্তারা কার্যত জিম্মি। তিনি ও কয়েকজন কর্মকর্তা ঘনিষ্ঠ কিছু ঠিকাদারের লাইসেন্স ব্যবহার করে টেন্ডার ছাড়াই কোটি টাকা প্রকল্পের কাজ করছেন।
সম্প্রতি ‘জেলা পরিষদের প্রকৌশলীই ঠিকাদার, টেন্ডার ছাড়াই ৩০ লাখের গেট নির্মাণ’ শিরোনামের একটি সংবাদ প্রচার হওয়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। অভিযোগ রয়েছে, ওই কাজেও নাজিমুল হক সরকারের সম্পৃক্ততা আছে।
অভিযোগের বিষয়ে সহকারী প্রকৌশলী নাজিমুল হক সরকার বলেন, ‘আবু ছিদ্দিকের অভিযোগ মিথ্যা। উনি উত্তেজিত হয়ে পড়ায় আমি তাকে চলে যেতে বলেছিলাম। তার বিল দেওয়া হয়েছে। বাকি তিনটি কাজের লোকেশন খুঁজে পাচ্ছি না।’
জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুন নাহার বলেন, ‘ঠিকাদার আবু ছিদ্দিকের কাছ থেকে আমি কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। হেনস্তা বা ঘুষের বিষয়ে তিনিও কিছু জানাননি।’
তবে ঠিকাদারের লাইসেন্স ব্যবহার করে ৩০ লাখ টাকার গেট নির্মাণের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘ঠিকাদার যদি অভিযোগ না করেন, তাহলে তদন্তের সুযোগ থাকে না।’
প্রকাশক ও সম্পাদক : শহীদুল ইসলাম, বার্তা সম্পাদক : ফরহাদ হোসেন
০১৭২৫-৭৩৬৩৫৩, ০১৬০২-৯০৩৬২১ / ০১৭৭০-৪৯৪৯৮১
ঢাকা কার্যালয়ঃ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
আঞ্চলিক কার্যালয়ঃ ডাকবাংলোপাড়া, বদলগাছী, নওগাঁ।
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ গণ সংবাদ২৪