কক্সবাজার প্রতিনিধি:
আগের বৃত্তি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে ফল পুনর্মূল্যায়ন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অনুমতি ছাড়া নতুন কোনো বৃত্তি পরীক্ষা আয়োজন না করার নির্দেশ দিয়েছিল চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন। সেই নির্দেশনার এক মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও আগের পরীক্ষার ফল পুনর্মূল্যায়ন ও বৃত্তি দেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ হয়নি। এর মধ্যেই নতুন করে ২০২৬ সালের বৃত্তি পরীক্ষা আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে আলোকিত ফাউন্ডেশন।
এ নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার ১৪৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জরুরি বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়েছে। ইউএনওর অনুমোদন ও উপজেলা শিক্ষা অফিসের পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো বৃত্তি পরীক্ষায় বিদ্যালয়গুলোর অংশ না নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন ছাড়া পরীক্ষা আয়োজন করা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালে আলোকিত ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে 'আলোকিত স্বর্ণপদক মেধাবৃত্তি' পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন, ফল প্রকাশ এবং প্রসপেক্টাসে ঘোষিত শর্ত অনুযায়ী বৃত্তি প্রদান নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ করেন চকরিয়ার কয়েকজন অভিভাবক। এ ঘটনায় ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও মহেশখালীর শাপলাপুর এলাকার বাসিন্দা জাফর আমিনের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ এনে ইউএনওর কাছে লিখিত আবেদন করেন তাঁরা।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম, অধ্যাপক ফখরুদ্দীন ফরায়েজি ও রিয়ানুল কবিরকে নিয়ে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন ইউএনও মো. শাহীন দেলোয়ার।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ও সুপারিশের ভিত্তিতে গত ৩০ সেপ্টেম্বর ১৯১(১) নম্বর স্মারকে আদেশ জারি করেন ইউএনও। এতে আলোকিত ফাউন্ডেশনের ঘোষিত ফল পুনর্মূল্যায়নের ব্যবস্থা নিতে এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়। একই আদেশে ইউএনওর অনুমতি ছাড়া চকরিয়া উপজেলায় আলোকিত ফাউন্ডেশনসহ কোনো সংস্থার বৃত্তি পরীক্ষা আয়োজন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
তদন্ত কমিটির সদস্য রিয়ানুল কবির বলেন, ইউএনওর নির্দেশনা জারির পর এক মাসের বেশি সময় পার হলেও ২০২৫ সালের পরীক্ষার ফল পুনর্মূল্যায়ন করে যথাযথভাবে বৃত্তি দেওয়া হয়নি। এর মধ্যেই ফাউন্ডেশনটির পক্ষ থেকে ২০২৬ সালের বৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও সচেতন মহলের অনেকে। তাঁদের প্রশ্ন, আগের পরীক্ষার অনিয়মের অভিযোগের নিষ্পত্তি এবং প্রশাসনের নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করেই কীভাবে একই প্রতিষ্ঠান নতুন করে বৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন করছে।
এদিকে ইউএনওর নির্দেশনা বাস্তবায়নে গতকাল ১ নভেম্বর চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার ১৪৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জরুরি বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়েছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। এতে বলা হয়েছে, ইউএনওর অনুমোদন যাচাই এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসের পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার আয়োজিত বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের উদ্যোগ নেওয়া যাবে না।
চকরিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মহিউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী বিদ্যালয়গুলোকে জরুরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়েছে। অনুমোদন ও পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে বিদ্যালয়গুলোকে কোনো উদ্যোগ না নিতে বলা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আলোকিত ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জাফর আমিন বলেন, আমরা কক্সবাজারের সব জায়গায় বৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন করতেছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের বিষয়ে সরাসরি কথা বলবেন জানিয়ে পরে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন তিনি।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহীন দেলোয়ার বলেন, পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান বৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক : শহীদুল ইসলাম, বার্তা সম্পাদক : ফরহাদ হোসেন
০১৭২৫-৭৩৬৩৫৩, ০১৬০২-৯০৩৬২১ / ০১৭৭০-৪৯৪৯৮১
ঢাকা কার্যালয়ঃ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
আঞ্চলিক কার্যালয়ঃ ডাকবাংলোপাড়া, বদলগাছী, নওগাঁ।
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ গণ সংবাদ২৪