নিজস্ব প্রতিবেদক,
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় হঠাৎ বেড়ে গেছে চুরির ঘটনা। গত এক মাসে উপজেলায় অন্তত ৩৫টি চুরি সংঘটিত হয়েছে। দোকানপাট, মোটরসাইকেল থেকে শুরু করে গরু–ছাগল কিংবা গভীর নলকূপের ট্রান্সফরমার কিছুই বাদ যাচ্ছে না। এতে আতঙ্কে দিন কাটছে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের।
সবচেয়ে বেশি চুরি হচ্ছে উপজেলার প্রাণকেন্দ্র বদলগাছী বাজারে। কখনও দোকানের দেয়াল ভেঙে, কখনও টিন খুলে মালামাল নিয়ে যাচ্ছে চোরেরা। কয়েক দিনের ব্যবধানে উপজেলার অন্তত ছয়টি বড় মুদি দোকানে চুরির ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে গ্রামাঞ্চলেও বাড়িঘর টার্গেট হচ্ছে। চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার না হওয়ায় ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা।
মুদি ব্যবসায়ী শরিফুল হোসেন বলেন, “প্রায় প্রতিদিনই বাজারে চুরি হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ব্যবসা করা কঠিন হয়ে পড়বে।
আরেক ভূক্তভোগী সবজি ব্যবসায়ী সুমন হোসেন বলেন, আমার মোটরসাইকেল চুরি হওয়ার পর থানায় গিয়েছি জিডি করার জন্য। পুলিশ জিডি না নিয়ে অভিযোগ দিতে বলে। সেই মোতাবেক অভিযোগ লিখে আমি ওসির কাছে জমা দিতে গেলে ওসি আমাকে বলেন, আপনার কাছে যদি এক লাখ টাকা থাকে বাহিরে রাখবেন? টাকা আর গাড়ী একই জিনিস। গাড়ী বাড়ির বাহিরে রাখলেন কেন? এখন চুরি হয়েছে সব দোষ পুলিশের হবে। সুমন আরও বলেন, থানায় অভিযোগ দিতে গেলে উল্টো তাকেই দায়ী করেছেন ওসি।
সাংবাদিক ও ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী সানজাদ রয়েল সাগর ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, দোকান ভেঙে নগদ টাকা আর মালামাল নিয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত পুলিশ আমার চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার করতে পারেনি। উল্টো এলাকাতে চুরির ঘটনা বেড়ে গেছে।
বদলগাছী থানার ওসি আনিছুর রহমান বলেন, নির্দিষ্ট করে অভিযোগ পাওয়া যায়নি। যেগুলো আছে সেগুলোর আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি। মূল্যবান জিনিস নিজেকেও সেফটি দিতে হবে। তিনি দাবি করেন, চুরি রোধে পেট্রোল ডিউটি বাড়ানো হয়েছে।
এ বিষয়ে নওগাঁর অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি জন্য তার মন্তব্য পাওয়া যায় নি।
এক মাসে এত চুরি হওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এখন মানুষ রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে। কেউ উঠানে শুয়ে থাকছেন, কেউ আবার হাতে টর্চলাইট নিয়ে টহল দিচ্ছেন। ভুক্তভোগীরা জানান, চুরির মালামাল উদ্ধার ও চোরদের গ্রেপ্তারে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার কারণে চোরেরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। অনেকে মনে করেন, নেশার টাকা জোগাড় ও পুলিশের কঠোর পদক্ষেপের অভাবে চুরি বেড়েছে। চোরদের লাগাম টানবে কে? পুলিশের ভূমিকা নিয়ে এখন বড় প্রশ্ন উঠছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক : শহীদুল ইসলাম, বার্তা সম্পাদক : ফরহাদ হোসেন
০১৭২৫-৭৩৬৩৫৩, ০১৬০২-৯০৩৬২১ / ০১৭৭০-৪৯৪৯৮১
ঢাকা কার্যালয়ঃ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
আঞ্চলিক কার্যালয়ঃ ডাকবাংলোপাড়া, বদলগাছী, নওগাঁ।
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ গণ সংবাদ২৪