
রাজনীতি ডেস্ক: কুমিল্লা কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের শীর্ষ পদটি নিজেদের দখলে নেওয়ার প্রচেষ্টা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র অসন্তোষ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ব্যাংকটির বর্তমান নেতৃত্ব ও প্রভাবশালী এক রাজনৈতিক নেতার মধ্যে এই পদ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের দ্বন্দ্ব ও বিরোধ চলে আসছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি অনুযায়ী, সব নিয়মনীতিকে পাশ কাটিয়ে একটি পক্ষ এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য নানামুখী তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। আর এই পুরো ঘটনা কেন্দ্র করে স্থানীয় সমবায় অঙ্গন ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম হয়েছে। দীর্ঘদিনের পুরোনো এই সমবায় প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ গঠন ও নেতৃত্ব ধরে রাখা নিয়ে শুরু হওয়া এই দ্বন্দ্ব এখন প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির নির্বাচনে অংশ নিতে হলে প্রার্থীকে নির্দিষ্ট সময় ধরে প্রাথমিক সমিতির সদস্য থাকা বাধ্যতামূলক এবং বার্ষিক সাধারণ সভায় উপস্থিত থাকার শর্ত পূরণ করতে হয়। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে যে, সম্প্রতি একটি নতুন প্রাথমিক সমিতির সদস্যপদ নিয়ে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আমিরুজ্জামান ভূঁঞা এই নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার চেষ্টা করছেন। এর আগে তিনি এই ব্যাংকের অধিভুক্ত কোনো সমবায় সমিতির সঙ্গেই যুক্ত ছিলেন না বলে দাবি করা হচ্ছে। এমনকি যে সমিতির মাধ্যমে তিনি সদস্য হয়েছেন, সেই সমিতিটিও দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকের কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে তার এই প্রার্থিতার বৈধতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন ব্যাংকের বর্তমান দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা।
এই সার্বিক বিষয় নিয়ে সম্প্রতি ব্যাংক ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বর্তমান চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট কাজী নাজমুস সাদাত ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং প্রতিদ্বন্দ্বী নেতার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক পদ দখলের চেষ্টার অভিযোগ আনেন। তিনি দাবি করেন যে, বিগত দুই মাস ধরে আমিরুজ্জামান ভূঁঞা বিভিন্ন উপায়ে এই পদে বসতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন এবং তার বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ তদন্ত করার জন্য সরকারের উচ্চ মহলে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত অন্যান্য সমবায় নেতারাও এই কথার পুনরাবৃত্তি করে জানান যে, অতীতে কখনোই ওই নেতাকে সমবায় আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত দেখা যায়নি। তারা মনে করছেন, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অনৈতিক উপায়ে একটি ঐতিহাসিক সমবায় প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পাঁয়তারা চলছে।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন বিএনপি নেতা আমিরুজ্জামান ভূঁঞা। তিনি দাবি করেন যে, তিনি প্রকৃত অর্থেই একজন সমবায়ী এবং ব্যাংক দখলের কোনো ধরণের অভিপ্রায় তাদের নেই। উল্টো বর্তমান চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিগত সরকারের আমলের প্রভাবশালী মন্ত্রীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং ব্যাংকে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন এই বিএনপি নেতা। তিনি আরও বলেন যে, তারা দলের নাম ভাঙিয়ে কোনো অবৈধ সুবিধা নিতে চান না এবং আইনের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল থেকেই ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন। অন্যদিকে, বর্তমান চেয়ারম্যান কাজী নাজমুস সাদাতের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও আইনি পেশার ইতিহাস তুলে ধরে তার অনুসারীরা দাবি করছেন যে, তিনি সবসময় জাতীয়তাবাদী মতাদর্শের রাজনীতিকেই লালন করে আসছেন। ১৯১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ঐতিহ্যবাহী ব্যাংকের নির্বাচন ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে চলমান এই বিরোধ শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে ঠেকে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
প্রকাশক ও সম্পাদক : শহীদুল ইসলাম, বার্তা সম্পাদক : ফরহাদ হোসেন
০১৭২৫-৭৩৬৩৫৩, ০১৬০২-৯০৩৬২১ / ০১৭৭০-৪৯৪৯৮১
ঢাকা কার্যালয়ঃ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
আঞ্চলিক কার্যালয়ঃ ডাকবাংলোপাড়া, বদলগাছী, নওগাঁ।
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ গণ সংবাদ২৪