
ধর্ম ডেস্ক: শারদীয় দুর্গোৎসব কেবল একটি সনাতন ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা আনন্দের দিন নয়, এর গভীরে রয়েছে এক সুদূরপ্রসারী দার্শনিক ও আধ্যাত্মিক তাৎপর্য। সনাতন ধর্মে দেবী দুর্গাকে শক্তি ও মাতৃসত্তার এক অপূর্ব সম্মিলন হিসেবে বর্ণনা করা হয়। সৃষ্টির স্থিতি ও সুরক্ষার জন্য তার এই রূপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। পৌরাণিক যুগ থেকেই নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে শুভশক্তির বিজয়ের প্রতীক হিসেবে পূজিত হয়ে আসছেন দেবী দুর্গা।
পুরাণের বিভিন্ন উপাখ্যানে দেখা যায়, যখনই পৃথিবীতে অশুভ শক্তি ও অন্যায় মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধি পেয়েছে, তখনই দেবতারা সম্মিলিতভাবে মহাশক্তির আরাধনা করেছেন। এই আরাধনার মধ্য দিয়ে আবির্ভূত হয়েছেন দেবী দুর্গা, যিনি সমস্ত আসুরিক শক্তিকে পরাস্ত করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। অসুর বিনাশের এই পৌরাণিক কাহিনী মূলত সমাজের ভেতরের অন্ধত্ব, হিংসা ও নেতিবাচক প্রবৃত্তিগুলো দূর করার এক রূপক বার্তা বহন করে।
পৌরাণিক বর্ণনার পাশাপাশি এই উৎসবের একটি গভীর মানবিক দিক রয়েছে যা সাধারণ মানুষকে একত্রিত করে। দেবী দুর্গার রূপের মধ্যে একজন জননীর স্নেহময়ী প্রকাশ যেমন লক্ষণীয়, তেমনই অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রামী মনোভাবও স্পষ্ট। এই দ্বৈত রূপ মানবজীবনের চলার পথে ভারসাম্য বজায় রাখতে উৎসাহিত করে। সমাজের প্রতিটি মানুষের অন্তরে যে সুপ্ত শক্তি ও মানবিক গুণাবলি রয়েছে, তা জাগিয়ে তোলার এক বড় মাধ্যম হলো এই পূজা।
উৎসবের সার্বজনীন রূপটি সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এক সুতোয় বাঁধতে সাহায্য করে যা সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। জাতি, ধর্ম কিংবা বর্ণ নির্বিশেষে সবাই এই আনন্দে অংশ নেন এবং ভেদাভেদ ভুলে একে অপরের কাছাকাছি আসেন। দেবী দুর্গার আরাধনা তাই কেবল দেবপূজা নয়, বরং আত্মশুদ্ধি এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠার এক অনন্য উপলক্ষ হিসেবে যুগ যুগ ধরে পালিত হয়ে আসছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক : শহীদুল ইসলাম, বার্তা সম্পাদক : ফরহাদ হোসেন
০১৭২৫-৭৩৬৩৫৩, ০১৬০২-৯০৩৬২১ / ০১৭৭০-৪৯৪৯৮১
ঢাকা কার্যালয়ঃ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
আঞ্চলিক কার্যালয়ঃ ডাকবাংলোপাড়া, বদলগাছী, নওগাঁ।
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ গণ সংবাদ২৪