
ধর্ম ডেস্ক: ইসলাম ধর্মে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাত বা নামাজ আদায়ের গুরুত্ব অত্যন্ত অপরিসীম। মানুষ মাত্রই ভুলত্রুটি এবং পাপের পুঞ্জীভূত অন্ধকার হতে পারে, যা তার আত্মাকে কলুষিত করে। তবে গুরুতর অসুস্থতা যেমন জীবন বাঁচানোর প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে না, তেমনি পাপের সাগরে ডুবে যাওয়ার অজুহাতেও কখনো সালাত ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। বরং এই ইবাদতই বান্দাকে সকল ধরনের গোপন পাপাচার ও মন্দ কাজ থেকে দূরে রাখতে প্রধান অস্ত্র হিসেবে কাজ করে।
বিশেষজ্ঞ আলেমরা মনে করেন, শয়তান সবসময় মানুষের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে তাকে ভালো কাজ থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে চায়। মানুষ যখন কোনো বড় ভুল বা গোপন পাপাচার করে ফেলে, তখন এক ধরণের হতাশা ও অপরাধবোধ তাকে গ্রাস করে। এই মানসিক অবস্থার সুযোগ নিয়ে শয়তান তাকে আল্লাহর স্মরণ থেকে দূরে ঠেলে দেয়। কিন্তু প্রকৃত মুমিন কখনো আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয় না এবং সব অবস্থাতেই সালাত কায়েম করার মাধ্যমে স্রষ্টার সান্নিধ্য অর্জনের চেষ্টা চালায়।
পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে প্রমাণিত যে, সঠিক পন্থায় এবং মনোযোগী হয়ে আদায়কৃত সালাত মানুষের মনের ভেতর সৎভাব জাগিয়ে তোলে। এটি কেবল একটি শারীরিক ইবাদত নয়, বরং এটি বান্দা ও সৃষ্টিকর্তার মধ্যকার সরাসরি যোগাযোগের সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম। যখন কেউ নিয়মিত ও যথাযথভাবে সালাত আদায় করতে থাকে, তখন তার ভেতরের আত্মোপলব্ধি বৃদ্ধি পায় যা তাকে যেকোনো ধরনের গোপন পাপ বা অপরাধমূলক কাজ থেকে বিরত রাখতে সাহায্য করে।
অতএব, জীবনের চলার পথে যতই কঠিন পরিস্থিতি বা পাপাচারের কালো ছায়া নেমে আসুক না কেন, ইবাদতের রজ্জু শক্তভাবে ধরে রাখা জরুরি। সালাতের মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা এবং সাহায্য কামনা করলে মানুষ পুনরায় সঠিক পথে ফিরে আসার শক্তি পায়। তাই সব ধরনের প্রতিকূলতা ও ভুলত্রুটি সত্ত্বেও নিয়মিত সালাত আদায়ের ওপর অবিচল থাকাই আত্মশুদ্ধি এবং মুক্তিলাভের একমাত্র প্রধান পথ।
প্রকাশক ও সম্পাদক : শহীদুল ইসলাম, বার্তা সম্পাদক : ফরহাদ হোসেন
০১৭২৫-৭৩৬৩৫৩, ০১৬০২-৯০৩৬২১ / ০১৭৭০-৪৯৪৯৮১
ঢাকা কার্যালয়ঃ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
আঞ্চলিক কার্যালয়ঃ ডাকবাংলোপাড়া, বদলগাছী, নওগাঁ।
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ গণ সংবাদ২৪