হাকিকুল ইসলাম খোকন, বাপসনিউজ, নিউইয়র্ক:
উপমহাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিক ও গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ১৩৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে জেএসএফ-বাংলাদেশ।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) স্থানীয় সময় রাত ৮টায় নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটনের একটি রেস্টুরেন্টে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেএসএফ-বাংলাদেশের সংগঠক হাজী আনোয়ার হোসেন লিটনের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নিউজ পোর্টাল জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন ও আমেরিকান প্রেস ক্লাব অব বাংলাদেশ অরিজিনের সভাপতি, সিনিয়র সাংবাদিক ও লায়ন হাকিকুল ইসলাম খোকন।

বিশেষ অতিথি ছিলেন আমেরিকান প্রেস ক্লাব অব বাংলাদেশ অরিজিনের সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক হেলাল মাহমুদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাকিকুল ইসলাম খোকন বলেন, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ছিলেন গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও জনঅধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা। তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতা উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত।
তিনি বলেন, ১৮৯২ সালের ৮ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুরের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর জন্ম। তিনি কলকাতা হাইকোর্টের খ্যাতনামা বিচারক স্যার জাহিদ সোহরাওয়ার্দীর কনিষ্ঠ সন্তান ছিলেন।
সোহরাওয়ার্দী অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এবং পরবর্তীতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর তিনি গণতন্ত্র ও জনগণের রাজনৈতিক অধিকারের পক্ষে সোচ্চার ভূমিকা রাখেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পর বাঙালির জাতীয়তাবাদী চেতনার বিকাশ এবং ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের ঐতিহাসিক বিজয়ের পেছনেও তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।
বক্তারা বলেন, গণতান্ত্রিক রীতি, জনমত ও আইনের শাসনের প্রতি তাঁর দৃঢ় অবস্থানের কারণে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ‘গণতন্ত্রের মানসপুত্র’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবন ছিল গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রামের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত।
১৯৬৩ সালের ৫ ডিসেম্বর লেবাননের বৈরুতে একটি হোটেল কক্ষে নিঃসঙ্গ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। ঢাকার সুপ্রিম কোর্ট সংলগ্ন তিন নেতার মাজারে তাঁকে সমাহিত করা হয়।
এদিকে, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ১৩৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশেও বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো আলোচনা সভা, দোয়া ও অন্যান্য কর্মসূচির আয়োজন করে।
যুক্তরাষ্ট্রেও প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সংগঠন দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করে। যুক্তরাষ্ট্র সোহরাওয়ার্দী স্মৃতি পরিষদ, শিরি শিশু সাহিত্য কেন্দ্র, বঙ্গবন্ধু প্রচার কেন্দ্র ও সমাজ কল্যাণ পরিষদ, বনলতা শিল্পী-সাহিত্যিক ও সাংবাদিক গোষ্ঠী এবং শেখ হাসিনা মঞ্চসহ বিভিন্ন সংগঠন আলোচনা সভা, প্রার্থনা এবং কেক কাটার আয়োজন করে।
আমেরিকা-বাংলাদেশ অ্যালায়েন্সের প্রেসিডেন্ট ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এম এ সালাম এক বিবৃতিতে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সোহরাওয়ার্দীর অবদান উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বক্তারা বলেন, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর রাজনৈতিক আদর্শ, গণতন্ত্রের প্রতি অঙ্গীকার এবং সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম নতুন প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হয়ে রয়েছে। তাঁর ১৩৪তম জন্মবার্ষিকী পালনের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়।
প্রকাশক ও সম্পাদক : শহীদুল ইসলাম, বার্তা সম্পাদক : ফরহাদ হোসেন
০১৭২৫-৭৩৬৩৫৩, ০১৬০২-৯০৩৬২১ / ০১৭৭০-৪৯৪৯৮১
ঢাকা কার্যালয়ঃ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
আঞ্চলিক কার্যালয়ঃ ডাকবাংলোপাড়া, বদলগাছী, নওগাঁ।
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ গণ সংবাদ২৪