নিউজ ডেস্ক,
সন্ত্রাসবিরোধী আইনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
শনিবার (১০ মে) রাত ১১টার দিকে উপদেষ্টা পরিষদের জরুরি বৈঠক শেষে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এ তথ্য জানান।
আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেন, আজ শনিবার ১০ মে উপদেষ্টা পরিষদে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আইনের সংশোধন অনুমোদিত হয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কোনও রাজনৈতিক দল তার অঙ্গ সংগঠন বা সমর্থক গোষ্ঠীকে শাস্তি দিতে পারবে। উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বাংলাদেশের আওয়ামী লীগ ও তার নেতাদের বিচার কাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জুলাই আন্দোলনের নেতা কর্মীদের নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বাদী ও সাক্ষীদের সুরক্ষার জন্য সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে সাইবার স্পেসসহ আওয়ামী লীগের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরিপত্র পরবর্তী কর্মদিবসে জারি করা হবে। তিনি আরও বলেন, আগামী ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে জুলাই ঘোষণা পত্র চূড়ান্ত করা হবে।
এ নিয়ে তিনবার নিষিদ্ধ হলো দলটি।
প্রসঙ্গত, ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পুরান ঢাকার রোজ গার্ডেনে "পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ" নামে প্রতিষ্ঠিত হয়। মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এবং শামসুল হক প্রমুখ সূচনালগ্নে এই দলের নেতৃত্ব দেন। ১৯৫৭ সালে মাওলানা ভাসানীর পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে মতবিরোধ দেখা দিলে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) গঠন করেন তিনি। ১৯৬৬ সালে দলটির (বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ) নেতৃত্বে আসে শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর নেতৃত্বে ১৯৭০ এর সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে ১৬৯টির মধ্যে ১৬৭টি আসন লাভ করে। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানায়। ১৯৭১ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে প্রবাসী সরকার গঠিত হয় এবং ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। স্বাধীন দেশে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়। ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আওয়ামী সরকার গঠন করে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সেনাবাহিনীর একটি অংশ শেখ মুজিব ও তার পরিবারকে হত্যা করে। পরবর্তীকালে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হয়। ১৯৮১ সালে শেখ মুজিবের কন্যা শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি সামরিক শাসন (জিয়া-এরশাদ আমল) বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপির কাছে পরাজিত হলেও ১৯৯৬ এর জুনে আওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতায় আসে। এরপর ২০০৯ থেকে টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতাসীন ছিল আওয়ামী লীগ। ছাত্র-জনতার দাবি গণঅভ্যূত্থানে পরিনত হলে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে।
প্রকাশক ও সম্পাদক : শহীদুল ইসলাম, বার্তা সম্পাদক : ফরহাদ হোসেন
০১৭২৫-৭৩৬৩৫৩, ০১৬০২-৯০৩৬২১ / ০১৭৭০-৪৯৪৯৮১
ঢাকা কার্যালয়ঃ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
আঞ্চলিক কার্যালয়ঃ ডাকবাংলোপাড়া, বদলগাছী, নওগাঁ।
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ গণ সংবাদ২৪