ওয়াহিদুল করিম, পঞ্চগড় প্রতিনিধি
পঞ্চগড়-২ আসনে আসন্ন ক্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপির পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ফরহাদ হোসেন আজাদের হলফনামায় তার ও তার স্ত্রীর ব্যবসার ধরন নিয়ে অস্পষ্টতা দেখা গেছে।
নির্বাচনী হলফনামায় ফরহাদ হোসেন আজাদ নিজের পেশা হিসেবে ‘ব্যবসা’ উল্লেখ করলেও কী ধরনের ব্যবসা করেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি। একইভাবে তার স্ত্রীকেও বর্তমানে ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করা হলেও ব্যবসার প্রকৃতি স্পষ্ট করা হয়নি।
হলফনামা অনুযায়ী, ফরহাদ হোসেন আজাদের বার্ষিক আয় ২০ লাখ ৫০ হাজার ৫০০ টাকা। এছাড়া ব্যাংক আমানত থেকে তার আয় ৩৮ হাজার ৫০০ টাকা। তার নগদ অর্থ রয়েছে ৩ লাখ ৩৫ হাজার ৫৫ টাকা এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা আছে ১ কোটি ৫৫ লাখ ৮৮ হাজার ৮৪ টাকা। অস্থাবর সম্পত্তির মূল্য দেখানো হয়েছে ৩ কোটি ১ লাখ ৪৩ হাজার ১৩৯ টাকা।
স্থাবর সম্পত্তির হিসাবে তিনি দুটি বাড়ির মূল্য যথাক্রমে ২২ লাখ টাকা ও ২৭ লাখ ৫ হাজার ২৪২ টাকা উল্লেখ করেছেন। এছাড়া তার মালিকানাধীন গাড়ির মূল্য দেখানো হয়েছে ১ কোটি ১৬ লাখ ২০ হাজার টাকা, তবে গাড়ির সংখ্যা বা ধরন উল্লেখ করা হয়নি। তিনি ১১ ভরি সোনার মালিক বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা এলএলবি এবং তার নামে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র নেই।
আয়কর রিটার্নে তিনি বার্ষিক আয় ২০ লাখ ৮৯ হাজার ৫৪ টাকা এবং মোট সম্পদের পরিমাণ ৩ কোটি ২৭ লাখ ৩৯৮ টাকা দেখিয়েছেন। এ জন্য তিনি ৩০ হাজার ৭৪০ টাকা আয়কর প্রদান করেছেন।
হলফনামায় তার স্ত্রীর পেশা হিসেবে ব্যবসা উল্লেখ করা হয়েছে। আগে তিনি গৃহিণী ছিলেন। স্ত্রীর নগদ অর্থ রয়েছে ৩৭ লাখ ৫৬ হাজার ৫৯৮ টাকা এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা রয়েছে ২ লাখ ৪৯ হাজার টাকা। তার কাছে রয়েছে ১০৮ ভরি সোনা এবং ৫ লাখ টাকার আসবাবপত্র। স্ত্রীর মোট সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ২ কোটি ৪৫ লাখ ৫ হাজার ৫৯৮ টাকা। তার বার্ষিক আয় ৫ লাখ ৫৪ হাজার ৫৮৩ টাকা এবং আয়কর দিয়েছেন ১০ হাজার ৫৮৭ টাকা।
ফরহাদ হোসেন আজাদের বিরুদ্ধে অতীতে দুটি মামলা ছিল। এর মধ্যে একটি ১৯৯৭ সালে ঢাকার সিএমএম আদালতে দায়ের হলেও ২০০১ সালে তিনি অব্যাহতি পান। অপর একটি মামলা ২০১১ সালে শাহবাগ থানায় দায়ের হয়, যা ২০১৭ সালে স্থগিত হয়।
নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব অনুযায়ী, তিনি নিজস্ব আয় থেকে ৫ লাখ টাকা ব্যয় করবেন। এছাড়া নির্বাচনী খরচের জন্য পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়দের কাছ থেকে অর্থ নেবেন। এর মধ্যে এক ভাই ১০ লাখ টাকা, তিন বোন ১৫ লাখ টাকা দেবেন। চাচা, মামা, শাশুড়ি ও শ্বশুর প্রত্যেকে ৫ লাখ টাকা করে দেবেন। এছাড়া তিনি ২ লাখ টাকা ধার নেবেন এবং দুইজন আত্মীয়ের কাছ থেকে আরও ১০ লাখ টাকা নেবেন বলে উল্লেখ করেছেন।
অন্যান্য সম্পদের হিসাবে তিনি পঞ্চগড় এমআর সরকারি কলেজ সড়কে ৭৩.৪ শতাংশ জমির মূল্য ৫ লাখ ২২ হাজার টাকা দেখিয়েছেন। তবে সেখানে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন তিনতলা ভবনের কোনো তথ্য উল্লেখ করেননি। এছাড়া ধানমন্ডির একটি বাসার মূল্য ১৭ লাখ ৫ হাজার ২৪২ টাকা এবং রংপুর রেডিসন স্পেশালাইজড হাসপাতালে ৫ লাখ টাকার শেয়ারের তথ্য হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক : শহীদুল ইসলাম, বার্তা সম্পাদক : ফরহাদ হোসেন
০১৭২৫-৭৩৬৩৫৩, ০১৬০২-৯০৩৬২১ / ০১৭৭০-৪৯৪৯৮১
ঢাকা কার্যালয়ঃ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
আঞ্চলিক কার্যালয়ঃ ডাকবাংলোপাড়া, বদলগাছী, নওগাঁ।
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ গণ সংবাদ২৪