নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশে (পিআইবি) সেমিনার ও কর্মশালার নামে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের গোলাম মুর্শেদ নামে এক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, মহাপরিচালকের নির্দেশে এসব বিল তৈরি করা হয়েছিল। তবে পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, বিষয়টি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
পিআইবির কয়েকজন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনায় জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৮ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি চারটি আলাদা কর্মশালা ও অনুষ্ঠানের নামে মোট ২৩ লাখ ৯৭ হাজার ৫০০ টাকার বিল দেখানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, এসব কর্মসূচির কিছুই বাস্তবে অনুষ্ঠিত হয়নি। “তারুণ্যের উৎসব-২০২৫”, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান”, “গণ আন্দোলনের দিশা ও দর্শন” এবং একটি চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর নামে ওই অর্থ উত্তোলনের কথা বিল-ভাউচারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে ২০০ সাংবাদিকের ভাতা ও যাতায়াত খরচ দেখানো হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, কয়েকজন আলোচকের সম্মানীর নামেও অর্থ দেখানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কেউ কেউ জানিয়েছেন, এসব অনুষ্ঠানে তাঁদের অংশগ্রহণের বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না এবং তাদের নামের পাশে স্বাক্ষর তাদের নয়।
এ বিষয়ে পিআইবির পরিচালক (প্রশাসন) কাজী মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার ও উপপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন চৌধুরী শুরুতে সেমিনারের বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিলেও পরে বলেন, ওই সময় কোনো সেমিনার হয়নি। তাঁদের সামনে বিল-ভাউচারের কপি দেখানো হলে স্বাক্ষর নিজেদের বলে স্বীকার করলেও বিলের বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন তাঁরা।
তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, স্বাক্ষর তাঁর হলেও এই কাগজে তিনি স্বাক্ষর করেছেন কি না তা নিশ্চিত নন। নাছির উদ্দীন বলেন, প্রযুক্তির যুগে স্বাক্ষর জাল করা অসম্ভব নয়।
পরে তারুণ্যের উৎসব-২০২৫ এর সমন্বয়কারী ও পিআইবির সিনিয়র প্রশিক্ষক গোলাম মুর্শেদের সঙ্গে কথা বলেন প্রতিবেদকেরা। শুরুতে তিনিও অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং বিল-ভাউচারে থাকা স্বাক্ষর নিজের নয় বলে দাবি করেন। তবে পরে বিভিন্ন নথি ও তথ্য দেখানোর পর তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট বিলগুলো ‘সাজানো’ ছিল এবং ১৮ ও ১৯ ফেব্রুয়ারির কথিত দুটি সেমিনার বাস্তবে হয়নি।
এছাড়া ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বরাদ্দ থেকে ১ কোটি ১২ লাখ টাকা অন্য হিসাবে স্থানান্তর, টেন্ডার ছাড়াই ভবন সংস্কারের নামে কোটি টাকার বিল পরিশোধ এবং বিদেশ সফরের আগে অনুমোদনবিহীন চেক ইস্যুর অভিযোগও রয়েছে।
গোলাম মুর্শেদের দাবি, মহাপরিচালকের নির্দেশেই তারুণ্যের উৎসবের চারটি অনুষ্ঠান দেখিয়ে বিল-ভাউচার তৈরি করা হয়েছিল। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের কিছু অর্থ সমন্বয় করার জন্য ওপর থেকে নির্দেশ ছিল এবং সে অনুযায়ী কয়েকটি ফাইলে তিনি স্বাক্ষর করেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ। তিনি বলেন, পিআইবির একটি চক্র ভুয়া বিল তৈরি করেছিল, কিন্তু তিনি তা অনুমোদন দেননি। তাঁর ভাষ্য, প্রতিদিন অনেক ফাইলে স্বাক্ষর করতে হয়। এর মধ্যে একটি ফাইলে স্বাক্ষর করা হলেও পরে ভুয়া বিলের বিষয়টি সামনে এলে তিনি সেটি বাতিল করেন।
ফারুক ওয়াসিফ আরও বলেন, ওই খাতে কোনো অর্থ ব্যয় হয়নি এবং তাঁকে জড়িয়ে যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা সঠিক নয়।
এদিকে পিআইবির অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। কয়েকজন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, গত বছরের সেপ্টেম্বরে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে মহাপরিচালক বিধিবহির্ভূতভাবে বেশ কিছু অস্থায়ী নিয়োগ দিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে পিআইবির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্যের এই ঘটনায় পিআইবির ভেতরে অনিয়ম ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক : শহীদুল ইসলাম, বার্তা সম্পাদক : ফরহাদ হোসেন
০১৭২৫-৭৩৬৩৫৩, ০১৬০২-৯০৩৬২১ / ০১৭৭০-৪৯৪৯৮১
ঢাকা কার্যালয়ঃ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
আঞ্চলিক কার্যালয়ঃ ডাকবাংলোপাড়া, বদলগাছী, নওগাঁ।
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ গণ সংবাদ২৪