
প্রযুক্তি ডেস্ক: ভারতে বেকারত্ব বৃদ্ধি, সরকারি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে তরুণ সমাজের মধ্যে যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে, তা এখন নতুন রূপ নিয়েছে। দেশটির ক্ষুব্ধ তরুণ প্রজন্ম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে রাজনৈতিক অসন্তোষ প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে অনলাইন গেমকে। এসব ব্যঙ্গাত্মক গেমে মূলত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাধা অতিক্রম করে প্রতিবাদস্থলে পৌঁছানো কিংবা আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করার মতো বিভিন্ন দৃশ্যপট ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। হাস্যরস ও কটাক্ষের আশ্রয়ে রাজনৈতিক প্রতিবাদ জানানোর এই অভিনব ধারাটি সম্প্রতি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
এই ধারার অন্যতম আলোচিত একটি ত্রিমাত্রিক ভিডিও গেম হলো জন্তর মন্তর চলো। সাতাইশ বছর বয়সী তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবী সূরজ কুশওয়াহ গেমটি তৈরি করেছেন এবং এটি প্রকাশের পর থেকেই তরুণদের মাঝে দারুণ সাড়া ফেলেছে। গেমটিতে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির পরিচিত প্রতিবাদস্থল জন্তর মন্তরে পৌঁছানোর সময় আন্দোলনকারীদের যেসব বাধা বিপত্তির মুখে পড়তে হয়, তা তুলে ধরা হয়েছে। এতে খেলোয়াড়রা চাইলে একটি শোভাযাত্রা তৈরি করে পুলিশের ব্যারিকেড এড়িয়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে পারেন, আবার চাইলে বিপরীত ভূমিকা নিয়েও আন্দোলন দমন করার সুযোগ রয়েছে।
গেমটির নির্মাতা সূরজ কুশওয়াহর মতে, এটি মূলত একধরনের অন্ধকার বাস্তবতানির্ভর হাস্যরস বা ডার্ক হিউমার। গণমাধ্যমে সাধারণ মানুষের বিক্ষোভ প্রদর্শনের দৃশ্য দেখে তাঁর মনে হয়েছিল পুরো বিষয়টি একধরনের সার্কাসের মতো, যেখানে মানুষ প্রতিবাদস্থলে যেতে চাইলেও তাঁদের বারবার আটকে দেওয়া হচ্ছে। সেই অদ্ভুত বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি এই গেমটি তৈরির অনুপ্রেরণা পান এবং তাঁর দাবি অনুযায়ী গেমটি বাজারে আসার পর থেকে সবসময়ই হাজার হাজার মানুষ এটি খেলছেন। এছাড়া আরও একটি ভিন্নধর্মী গেমে একজন বামপন্থী কর্মীকে মূল চরিত্র হিসেবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, যা পুরোনো আট-বিট আর্কেড গেমের আদলে তৈরি করা হয়েছে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে তরুণদের এই ব্যঙ্গাত্মক প্রতিবাদের পেছনে সাম্প্রতিক কিছু সামাজিক আন্দোলনেরও বড় ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে কিছুদিন আগে দেশটিতে অনুষ্ঠিত আলোচিত তেলাপোকা আন্দোলন রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছিল এবং এর জেরে একজন মন্ত্রীকে পদ থেকেও সরে দাঁড়াতে হয়েছিল। এর পাশাপাশি ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে নানা অভিযোগ তোলা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ক্ষমতাসীন পক্ষ তা নাকচ করে দিয়েছে। সবমিলিয়ে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইন্টারনেট ও মাঠের রাজনীতিতে প্রচলিত বয়ানকে চ্যালেঞ্জ জানাতে তরুণ প্রজন্ম এখন প্রযুক্তির নানান সৃজনশীল মাধ্যম সফলভাবে ব্যবহার করছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক : শহীদুল ইসলাম, বার্তা সম্পাদক : ফরহাদ হোসেন
০১৭২৫-৭৩৬৩৫৩, ০১৬০২-৯০৩৬২১ / ০১৭৭০-৪৯৪৯৮১
ঢাকা কার্যালয়ঃ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
আঞ্চলিক কার্যালয়ঃ ডাকবাংলোপাড়া, বদলগাছী, নওগাঁ।
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ গণ সংবাদ২৪