নেত্রকোনা প্রতিনিধি:
“পুলিশের চাকরি ওয়ান কাইন্ড অব বিজনেস” এমন মন্তব্যসংবলিত একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় নেত্রকোনার কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল হাশেমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছে জেলা পুলিশ প্রশাসন।
শনিবার (৩০ মে) রাতের দিকে প্রায় ৪ মিনিট ৪ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের একটি অডিও ক্লিপ ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। অডিওতে এক ব্যক্তিকে পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে শোনা যায়। সেখানে তিনি পুলিশের চাকরিকে “এক ধরনের ব্যবসা” হিসেবে উল্লেখ করে বিভিন্ন অভিযোগ নিষ্পত্তি ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন।
ভাইরাল হওয়া অডিওতে আরও শোনা যায়, অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির মাধ্যমে খরচের টাকা উঠে আসে এবং সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে অধস্তন সদস্যদের “প্রাপ্য” নিশ্চিত করার বিষয়েও বক্তব্য দিতে শোনা যায়।
অডিওতে এক ব্যক্তিকে পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, যা হুবহু তুলে ধরা হলোঃ
"পুলিশের চাকরি ওয়ান কাইন্ড অব বিজনেস। আমরা কেউ কাউকে ঠকাব না। সবাই মিলেমিশে থাকব। ধরেন দুই হাজার টাকা আমি খরচ করলাম, এই টাকা তো আমার বাড়ির টাকা না, বেতনের টাকাও না। আপনারা একটা অভিযোগ দিলেন এক হাজার টাকা, আরেকটা খারিজ কইরা ফেললেন এক হাজার টাকা, ওইটা দিয়েই কিন্তু আমি পাড়ি দিয়া দিলাম। তাইলে আমার তো রিস্ক নাই, নো টেনশন, খুব রিলাক্সে আছি।"
অডিওতে আরও বলা হয়, পুলিশের যে চাকরিটা, এটা ওয়ান কাউন্ড অব বিজনেস। সবাই কিন্তু এই বিজনেসের সাথে জড়িত না। আমরা কিন্তু একজন আরেকজনরে সেইফে রাখছি। সবাই সমন্বয় করে চলতে হবে। ওসির মাথায় কিন্তু কাঁঠাল ভেঙে খাইতে পারবেন না। সর্বোপরি আমি আপনাদের ঠকাব না, আমি কি বাড়ি থেকে টাকা এনে খরচ করতাছি, না জমি বেইচ্যা আইন্যা আপনাদের চালাইতেছি। সবাই যেন ভালো থাকতে পারি। যার যে-ই অধিকার, সে যেন সেটা পায়। আমার যারা কনস্টেবল আছে-তারা যেন যেটা পাওয়ার, সেটা পায়, তারা যেন বঞ্চিত না হয়। হক মারা আমি পছন্দ করি না। কারণ, যারা হক মারে, রাসুল তারে সাফায়েত করবে না। এটাই কিন্তু ফাইনাল কথা। কেউ চালাকি করবেন না। বর্তমান মিডিয়া অনেক এগিয়ে আছে।
তবে অডিওর বিষয়বস্তু অস্বীকার করেছেন কলমাকান্দা থানার ওসি মো. আবুল হাশেম। গণমাধ্যমকে তিনি দাবি করেন, এমন কোনো বক্তব্য তিনি দেননি এবং অডিওটি কীভাবে ছড়িয়েছে সে সম্পর্কেও তিনি অবগত নন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি দেখেই তিনি জানতে পেরেছেন বলে উল্লেখ করেন।
ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর জেলা পুলিশ প্রশাসন তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেয়। ওসি আবুল হাশেমকে কলমাকান্দা থানা থেকে প্রত্যাহারের পাশাপাশি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জেলা পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলাম জানান, ভাইরাল অডিওটি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা মিললে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, “পুলিশ বাহিনীতে দুর্নীতির বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রকাশক ও সম্পাদক : শহীদুল ইসলাম, বার্তা সম্পাদক : ফরহাদ হোসেন
০১৭২৫-৭৩৬৩৫৩, ০১৬০২-৯০৩৬২১ / ০১৭৭০-৪৯৪৯৮১
ঢাকা কার্যালয়ঃ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
আঞ্চলিক কার্যালয়ঃ ডাকবাংলোপাড়া, বদলগাছী, নওগাঁ।
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ গণ সংবাদ২৪