বিশেষ প্রতিবেদক:
নওগাঁর বদলগাছীতে ওএমএসের চাল কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে একটি ভ্যান যোগে পাচারের সময় ভ্যান চালককে হাতেনাতে আটক করে স্থানীয় জনতা। এ সময় তার কাছ থেকে ৩০ কেজি ওজনের ১৫টি চালের বস্তায় মোট ৪৫০ কেজি চাল সহ ঐ ভ্যান চালককে আটক করে। সেই সাথে ৩৮২ কেজি চাল অবৈধভাবে বাড়িতে মজুদ করার দায়ে বিজলী বেগম নামের এক মহিলাকে আটক করা হয়।
আটককৃতরা উপজেলার সদর ইউনিয়নের জিধিরপুর গ্রামের ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী বিজলি বেগম ও একই ইউনিয়নের কাদিবাড়ি গ্রামের ভ্যান চালক অছির উদ্দীন।
বাড়ী থেকে ওএমএস এর আরো ৩৮২ কেজি চাল জব্দসহ বিজলি বেগমকে আটক করে উপজেলা প্রশাসন। যে পাচার করলো সে এখনো ধরাসোয়ার বাহিরে ।
সোমবার (৩ মার্চ) আনুমানিক সকাল ৯টার সময় খাদ্য গুদাম থেকে চাল বের করে সাহেব বাজার ডিলার পয়েন্টে না নিয়ে গিয়ে ভ্যান চালক অছির উদ্দীনের মাধ্যমে কালোবাজারে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যেতে লাগলে বদলগাছী মিনি স্টেডিয়াম সংলগ্ন ঝর্ণা রাইস মিলের কাছে পৌঁছালে স্থানীয় জনতা চালসহ তাকে আটক করে।
সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহকালে জানা যায়, এ বছর আনোয়ার হোসেন টগর উপজেলা সাহেব বাজার মোড়ে প্রতিদিন দেড় টন চাল ৩০ টাকা কেজি দরে সকাল ৯ থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত খোলা বাজারে চাল বিক্রি করবে। প্রতিদিন উপজেলার দুঃস্থ ও গরীব মানুষের মাঝে খোলা বাজারে ৫০ বস্তা (১৫০০ কেজি) চাল বিক্রি করার কথা থাকলেও বেশী লাভের আশায় কালোবাজারে প্রতিদিন ৩০ কেজির ১৫টি বস্তায় মোট (৪৫০ কেজি) চাল কালো বাজারে বিক্রি করে আসছেন এমন তথ্যের ভিত্তিতে স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক আজকে সকাল থেকেই খাদ্য গুদাম এলাকায় অবস্থান কালে আজ আনুমানিক ৯ টার সময় সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে অছির উদ্দিন নামে এক ভ্যান চালক ১৫ বস্তা ওএমএসের চাল নিয়ে জিধিরপুর গ্রামের ইসমাইল হোসেনের বাড়ির দিকে রওনা হয়। পথিমধ্যে মিনি স্টেডিয়াম সংলগ্ন ঝর্ণা রাইচমিল এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় জনতা চাল বোঝাই ভ্যানসহ চালক অছির উদ্দীনকে ধরে জিজ্ঞেস করলে ভ্যান চালক বলে এই চাল জিধিরপুর ইসমাইলের বাড়ীতে নিয়ে যাচ্ছি। এর বেশী কিছু আমি জানিনা। সরকারি চালগুলো তোমাকে দিয়ে কে পাঠিয়েছে বলে জানতে চাইলে অছির উদ্দীন বলেন, খাদ্য গোডাউনের সরদার সাইদুর আমাকে চাল গুলো সেখানে দিয়ে আসতে বলেছে তাই নিয়ে যাচ্ছি। গত রবিবার দিনও আমি ঐ বাড়িতে চালের বস্তা দিয়ে এসেছি। আমাকে শুধু ভ্যানের ১শত টাকা করে ভাড়া দেয়।
বিষয়টি থানায় এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানালে তাঁরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভ্যান বোঝায় চাল জব্দ করে এবং ভ্যান চালককে আটক করে।
পরে বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে ঐ ভ্যান চালকের তথ্যের ভিত্তিতে সরেজমিনে জিধিরপুর গ্রামের ইসমাইল হোসেনের বাড়ীতে গেলে সরকারি আরও ১৪ বস্তা চাল (৩৮২ কেজি) ঐ বাড়ী থেকে জব্দসহ ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী বিজলী বেগমকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।
বিজলী বেগমকে চাল বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, গতকাল সকালে একজন ভ্যান চালক এসে ১৪ বস্তা চাল আমার বাড়ীতে নেমে দিয়ে যায়। কি কারণে কিসের চাল এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। সাংবাদিকরা প্রথমে এসে সরকারি চালের বস্তাসহ ছবি তুলে নিয়ে গেলো আর এখন বস্তা পরিবর্তন করলো কে বলে জানতে চাইলে, সে বলে আমি ভয়ে বস্তা পরিবর্তন করেছি।
বদলগাছী সরকারি খাদ্য গুদামের লেবার সরদার সাইদুর বলেন, আমাকে সাংবাদিক হাসানুজ্জামান বলেছিলো চালগুলো একটি ভ্যানে করে জিধিরপুরে ইসমাইল হোসেনের বাড়িতে পৌঁছে দিতে। আমরা লেবারের কাজ করি সব সময় কাজ না থাকায় আমরা কয়েকজন লেবার অবসর সময়ে ভ্যান চালাই। তাই আমার এক লেবারের ভ্যানে চালগুলো ইসমাইলের বাড়িতে পাঠিয়েছি। আমরা গরীব মানুষ পড়াশুনা জানিনা আমি কি ভাবে বুঝবো এসব।
এ বিষয়ে ওএমএস এর ডিলার আনোয়ার হোসেন টগর বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। তবে প্রথমে আমার কাছ থেকে খাদ্য নিয়ন্ত্রক একটি কাগজে লিখিত নিয়ে সাংবাদিক হাসানুজ্জামানের সাহেব বাজার এলাকায় তার নিজের জায়গায় চাল বিতরণ করতে দিয়েছে। বেশ কিছু জনগণ ও সাংবাদিক নাকি স্থানটি পরিবর্তন করতে বলেছিলেন। তাই উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সাবরিন মোস্তারী আবারো আমকে ডেকে বলেন, আপনি কলেজপাড়া এলাকার ইউসুফ আলীর নামে লিখিত দেন সেই লিখিত নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে আমার অবর্তমানে ইউসুফ আলী নামের একজন ব্যক্তি দেখাশুনা করছে। সে বলতে পারবে।
ডিলার পয়েন্টে থাকা ইউসুফ বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা, সাংবাদিক হাসানুজ্জামান বলতে পারবে। সে ডিলারের এই পয়েন্ট দেখাশুনা করে। আনোয়ার হোসেন টগরের ডিলার তাহলে সাংবাদিক হাসানুজ্জামান দেখাশুনা করবে কেনো এমন প্রশ্ন করলে ইউসুফ বলেন আমি জানি না।
ট্যাগ অফিসার শাহরিয়া দায়সারা ভাবে বলেন, আমি সকালে ডিলারের ঘরে এসে ৩২ বস্তা চাল পেয়েছি। আর ১৮টি খালি বস্তা পেয়েছি। আমি ডিলারের ঘরে আসার পর খাদ্য গুদাম থেকে এখানে কোনও চালের বস্তা আসেনি। পথিমধ্যে চাল কি হয়েছে আমি কিছু বলতে পারবো না।
সাংবাদিক হাসানুজ্জামান এর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, ফুড অফিসে কিছু হলেই আমার উপর দোষ আসে। কি কারণে আমার উপর দোষ আসে আমি সঠিক জানি না। আনোয়ার হোসেন টগরের ডিলার আপনি কেনো দেখাশুনা করেন বলে প্রশ্ন করলে তিনি জবাবে বলেন এগুলো তারা মিথ্যা বলছে।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সাবরিন মোস্তারী বলেন, এটাতে আমার কোনও দায় নেই।
নওগাঁ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফরহাদ হোসেন বলেন, ডিলার চাল বিক্রি না করে গোপনে কালোবাজারে চাল বিক্রির উদ্দেশ্যে পাচারকালে ৮৩২ কেজি চাল জব্দ করা হয়। বিষয়টি তদন্তের জন্য পোরশা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা কাজ করছে। তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলেই এর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বদলগাছী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহজাহান আলী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান ছনি বলেন, দুপুরের পর খাদ্য গুদামে সিসি টিভি ফুটেজ দেখে এর সত্যতা পাওয়া গেছে। মোট ৮৩২ কেজি চাল সহ দুজনকে আটক করা হয়েছে। এর সাথে কারা জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক : শহীদুল ইসলাম, বার্তা সম্পাদক : ফরহাদ হোসেন
০১৭২৫-৭৩৬৩৫৩, ০১৬০২-৯০৩৬২১ / ০১৭৭০-৪৯৪৯৮১
ঢাকা কার্যালয়ঃ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
আঞ্চলিক কার্যালয়ঃ ডাকবাংলোপাড়া, বদলগাছী, নওগাঁ।
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ গণ সংবাদ২৪