বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি:
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার গয়ড়া তেঁতুলীয়া ডিএম ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার একটি পরিত্যক্ত ভবন নিলামে কিনে পুরো টাকা পরিশোধ না করেই সমস্ত মালামাল সরিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ওই নেতার নাম জামিল হোসেন, যিনি কোলা ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। বকেয়া ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ না করে উল্টো রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসী ও প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল মাসে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) সভাপতি করে গঠিত ১১ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটির তত্ত্বাবধানে মাদ্রাসার মাঠে থাকা পরিত্যক্ত ভবনটি উন্মুক্ত নিলামে তোলা হয়। এই নিলামে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা দর হাঁকিয়ে ভবনটির মালিকানা লাভ করেন যুবদল নেতা জামিল হোসেন।
সংশ্লিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী, নিলামের পুরো অর্থ ব্যাংকে বা নির্দিষ্ট তহবিলে জমা দেওয়ার পরই কেবল মালামাল অপসারণ করার কথা ছিল। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে যে, জামিল হোসেন মাত্র ১ লাখ টাকা দুই কিস্তিতে পরিশোধ করেই তড়িঘড়ি করে সমস্ত মালামাল সরিয়ে নেন। এরপর বাকি ৩০ হাজার টাকা পরিশোধের জন্য মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও নিলাম কমিটির সদস্যরা বারবার তাগাদা দিলেও তিনি তা নানা অজুহাতে এড়িয়ে যাচ্ছেন। এদিকে, সমুদয় অর্থ বুঝে না পেয়েই ভবনের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার অনুমতি দেওয়ায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
নিলাম কমিটির শিক্ষক প্রতিনিধিদের দাবি, বকেয়া টাকার জন্য জামিল হোসেনকে চাপ প্রয়োগ করা হলে তিনি উল্টো তাদের বিভিন্নভাবে হেনস্তা ও হুমকি দিচ্ছেন। স্থানীয়ভাবে দলীয় প্রভাব থাকায় শিক্ষকরাও এখন খোলামেলাভাবে পাওনা টাকা চাইতে সাহস পাচ্ছেন না।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে যুবদল নেতা জামিল হোসেন বলেন, 'আমি ১ লাখ টাকা জমা দিয়েই মালামাল এনেছি। তাছাড়া ভবনের দুটি দেয়ালের নিচের অংশ তো এখনো ওখানেই রয়ে গেছে। যদি সঠিক হিসাব করা হয়, তবে বড়জোর ১০/১৫ হাজার টাকা বাকি থাকতে পারে।' তবে তার দাবির পক্ষে কোনো ধরনের লিখিত বা ব্যাংকিং রশিদ তিনি দেখাতে পারেননি।
জামিল হোসেনের এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ লুৎফর রহমান জানান, 'তিনি স্পষ্টতই ৩০ হাজার টাকা বাকি রেখেই সব মালামাল নিয়ে গেছেন। একলক্ষ টাকা দেওয়ার পর যেদিন বিল্ডিংটি ভাঙতে যায় সেদিন ছিল ছুটির দিন। আমি জানতে পেরে ওইদিনই ইউএনও সাহেবকে বিষয়টি দেখার জন্য জানানো হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনও সাড়া পাইনি। তারপর থেকে টাকা চাইতে গেলেই জামিল রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রভাব দেখাচ্ছেন। টাকার জন্য চাপ দিতে ভয় পাচ্ছেন বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে কোলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফারুক হোসেন কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে বলেন, 'দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কোনো কাজ সহ্য করা হবে না। তদন্তে টাকা পরিশোধ না করার বিষয়টি প্রমাণিত হলে যুবদল নেতা জামিলের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'
সার্বিক বিষয়ে বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান ছনির সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি কল রিসিভ না করায় তার কোনও বক্তব্য পাওয়া যায় নি।
প্রকাশক ও সম্পাদক : শহীদুল ইসলাম, বার্তা সম্পাদক : ফরহাদ হোসেন
০১৭২৫-৭৩৬৩৫৩, ০১৬০২-৯০৩৬২১ / ০১৭৭০-৪৯৪৯৮১
ঢাকা কার্যালয়ঃ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
আঞ্চলিক কার্যালয়ঃ ডাকবাংলোপাড়া, বদলগাছী, নওগাঁ।
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ গণ সংবাদ২৪