নিজস্ব প্রতিনিধি:
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার আধাইপুর ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের নতুন বই বিতরণের সময় ৩৬ জন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২০০ টাকা করে মোট সাত হাজার দুইশত টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। টাকা না দেওয়ায় কিছু শিক্ষার্থী এখনও নতুন বই পায় নি। তবে প্রধান শিক্ষকের দাবি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে যে টাকা নেওয়া হয়েছে এটি স্কুলের উন্নয়নের কাজে ব্যয় করা হবে। পরে তাদের নতুন বই দেওয়া হয়েছে। বইয়ের জন্য কোনও টাকা নেয়া হয়নি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয় মাঠে এলাকাবাসী এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে সমবেত হয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১ জানুয়ারি বই দেওয়ার নামে ৩৬ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে, প্রধান শিক্ষক ২০০ টাকা করে নিয়ে নতুন বই দিয়েছেন। তবে কোনও রশিদ দেননি। তারা প্রথম দিন বই নিতে এলে টাকা না দেওয়ায় তাদের বই দেওয়া হয়নি।
বিদ্যালয়ের সবুজ হোসেন অভিযোগ করে বলেন, সারা দেশের শিক্ষার্থীরা ১ জানুয়ারি নতুন বই পেয়ে আনন্দ করেছে। অন্যদিকে বিষ্ণুপুর সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কিছু শিক্ষার্থী এ আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। সরকার বিনামূল্যে বই দিচ্ছে কিন্তু প্রধান শিক্ষক লিলি পারভীন টাকা ছাড়া বই দিচ্ছেন না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক লিলি পারভিন বলেন, ৩৬ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ২০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। এই টাকা দিয়ে বিদ্যালয়ের উন্নয়নমূলক কাজ করা হবে। নতুন বইয়ের জন্য কোনও টাকা নেওয়া হয়নি। বই উৎসব পালন করেই প্রত্যেক শিক্ষার্থীর হাতে নতুন বই দিয়েছি। তাছাড়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশে এই টাকা নেওয়া হয়েছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন্দ ও অরণ্যের সাথে কথা হলে তারা বলেন, বই দেওয়ার দিন ম্যাডাম ২০০ টাকা নিয়ে আসতে বলছিলো। তাই ২০০ টাকা করে দিয়ে বই নিয়ে গেছি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকার ছাত্র-ছাত্রীদের বই দিচ্ছেন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। সরকারি বই বিতরণ নীতিমালা অনুযায়ী বিতরণের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনও রকম অর্থ নেওয়ার সুযোগ নেই। উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমানকে নির্দেশ দিয়েছি তদন্ত করার জন্য। সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুব হাসান বলেন, আমি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।
প্রকাশক ও সম্পাদক : শহীদুল ইসলাম, বার্তা সম্পাদক : ফরহাদ হোসেন
০১৭২৫-৭৩৬৩৫৩, ০১৬০২-৯০৩৬২১ / ০১৭৭০-৪৯৪৯৮১
ঢাকা কার্যালয়ঃ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
আঞ্চলিক কার্যালয়ঃ ডাকবাংলোপাড়া, বদলগাছী, নওগাঁ।
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ গণ সংবাদ২৪