নিজস্ব প্রতিবেদক,
বিস্ফোরক মামলা থেকে রেহাই দিতে এক আসামির (আওয়ামী লীগ নেতার) কাছ থেকে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে বিএনপি'র নেতা ও মামলার বাদি বেলাল হোসেন সৌখিনের বিরুদ্ধে। বেলাল হোসেন সৌখিন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের বদলগাছী উপজেলা সহঃ যুব বিষয়ক সম্পাদক পদে রয়েছেন।
থানায় এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৪ নভেম্বর (সোমবার) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার গোবরচাঁপাহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এছাড়া অবিস্ফোরিত ৬টি ককটেল উদ্ধার করে বদলগাছী থানা পুলিশ। ককটেল বিস্ফোরণ ও উদ্ধারের ঘটনায় বদলগাছী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সদর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম মন্ডল, সদর ইউপি’র বর্তমান চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন, মথুরাপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদ রানা, মিঠাপুর ইউপি চেয়ারম্যান ফিরোজ হোসেন, কোলা ইউপি চেয়ারম্যান শাহিনুর ইসলাম স্বপনসহ আওয়ামী লীগ দলীয় ও সহযোগী সংগঠনের ৪০ জন নেতাকর্মীর নামে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১২০ জনকে আসামি করে বিস্ফোরক আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আর এই মামলার বাদি হলেন বিএনপি নেতা বেলাল হোসেন সৌখিন। উক্ত মামলার ১০ নং আসামি করা হয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক কোষাধ্যক্ষ ও সদ্য সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শামছুল আলম খানকে। তাকে মামলা থেকে রেহাই দিতে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বিএনপি নেতা বেলাল হোসেন সৌখিন। মামলার প্রেক্ষিতে বদলগাছী থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ইতিমধ্যে বদলগাছী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এবং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করা মোঃ বাবর আলীসহ তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
গত ৬ নভেম্বর ফোনে কথপোকথন করেন উপজেলা বিএনপির সহঃ যুব বিষয়ক সম্পাদক ও মামলার বাদি বেলাল হোসেন সৌখিন ও আসামি মোঃ শামসুল আলম খান। কথপোকথনের এক পর্যায় বিএনপি নেতা সৌখিন আওয়ামী লীগ নেতা শামসুল আলম খানকে বলেন আমার এই নম্বরে বিকাশ এবং নগদ এ্যাকাউন্ট আছে। এর মাধ্যমে আপনি আমাকে একলক্ষ টাকা পাঠিয়ে দেন। মামলার বাদি ও আসামির কথোপকথনের ১ মিনিট ৩৭ সেকেন্ডের একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
অডিও ক্লিপ ফাঁস হওয়ায় কারণ জানতে চেয়ে উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক মোঃ বেনজির রহমান স্বাক্ষরিত দলীয় প্যাডে ভাইরাল নেতা সৌখিনকে চিঠিতে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে তার লিখিত জবাব দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। এসংক্রান্ত তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন, ১। আব্দুল হাদী চৌধুরী (টিপু), সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা বিএনপি। ২। সাইদুর রহমান (কেটু), সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা বিএনপি ও ৩। রবিউল হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক, উপজেলা বিএনপি।
এ বিষয়ে জানতে সদ্য সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মামলার আসামি শামছুল আলম খান বলেন, বিএনপি নেতা সৌখিন আমার কাছে ফোন করে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং প্রাণ নাশের হুমকি দেয়। শুনছি এই মামলার অন্য আসামিদের কাছ থেকেও চাঁদা দাবী করা হচ্ছে। আমি টাকা দিতে অস্বীকার করায় গোবরচাঁপা হাটে ঘটে যাওয়া ককটেল বিস্ফোরণের মামলায় আমাকে আসামি করা হয়েছে। এতেই প্রমাণিত এটি একটি সাজানো মিথ্যা মামলা। আমি এর তীব্র প্রতিবাদসহ সঠিক তদন্তের মাধ্যমে এর বিচার দাবি করছি।
বিষয়টির তীব্র নিন্দা জানিয়ে বদলগাছী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আওরঙ্গজেব চৌধুরী মানিক মুঠোফোনে বলেন, আমি আমার দলের নেতাদের সাথে আলোচনা করে তার বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সেইভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।
নামপ্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির আর এক নেতা ক্ষোভের সহিত জানান এই মামলা তাদের কাছে এখন চাঁদা আদায়ের রশিদ হয়ে গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বদলগাছী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাদি চৌধুরী টিপু মুঠোফোনে বলেন, ওই কল রেকর্ডের ঘটনা এখনকার না, এটা মামলার অনেক আগের। বিষয়টি গতকাল আমি জেনেছি। তবে বিএনপির নাম ভেঙে যে এধরণের কাজ করবে, তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিএনপির একজন বলেছেন এই মামলাটি তাদের কাছে চাঁদা আদায়ের রশিদ এমন প্রশ্নে সেই বিএনপি নেতার নাম জানতে চান তিনি। এছাড়া তিনি বলেন, এধরণের কিছু করার কোনো সুযোগ নেই।
থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহ্জাহান আলী জানান, বিস্ফোরক মামলাটি সঠিকভাবে তদন্ত পূর্বক আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
এ বিষয়ে বদলগাছী উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি ফজলে হুদা আকন্দ বাবুলের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অডিও প্রকাশের বিষয়টি আমি জানি। সৌখিনের বিরুদ্ধে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পেলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।