
ধর্ম ডেস্ক: দৈনন্দিন জীবনে মানুষের সঙ্গে ভালো ও মার্জিত ভাষায় কথা বলা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি বিষয়। ইসলাম ধর্মে সুন্দর কথাকে 'কালিমাতুত তাইয়্যিবাহ' হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে এবং পবিত্র কোরআনেও মানবজাতির সঙ্গে সুন্দর ও নম্র ভাষায় কথা বলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সমাজে শান্তি, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে এবং একটি আদর্শ সমাজ গঠনে পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে মধুর ভাষা ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই। ইসলামি অনুশাসন অনুযায়ী, ভালো কথা কেবল সামাজিক সম্পর্কের উন্নয়নই ঘটায় না, বরং এর মাধ্যমে পরকালীন জীবনেও প্রভূত সওয়াব ও মুক্তির পথ সুগম হয়।
সুন্দর কথার সুফল সমাজজীবনে অত্যন্ত ব্যাপক ও দীর্ঘমেয়াদি হয়ে থাকে, যা পবিত্র কোরআনে একটি সুদৃঢ় ও ফলদায়ক গাছের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। সমাজে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভালোবাসা বৃদ্ধিতেও ভালো কথা জাদুকরী ভূমিকা পালন করে, যার মাধ্যমে এমনকি চরম শত্রুকেও অন্তরঙ্গ বন্ধুতে পরিণত করা সম্ভব। এছাড়া, সামর্থ্যহীন ব্যক্তিদের জন্য দান-সদকার চমৎকার বিকল্প হতে পারে একটি ভালো কথা, যা মহানবী (সা.)-এর হাদিসেও অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। এমনকি খেজুরদানার টুকরো দিয়ে সদকা করার সুযোগ না থাকলেও হাসিমুখে নরম ভাষায় কথা বলার মাধ্যমে দোজখের আগুন থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব বলে ইসলামে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।
মধুর ও মার্জিত ভাষা ব্যবহারের মাধ্যমে বেহেশত লাভ করাও অনেক সহজ হয়ে যায়, যা ইসলামি বিভিন্ন হাদিস ও বর্ণনায় স্পষ্ট করা হয়েছে। মহানবী (সা.) মানুষকে খাবার খাওয়ানোর পাশাপাশি উত্তম কথা বলার অভ্যাসকে জান্নাত অর্ชণের অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইতিহাস সাক্ষী রয়েছে যে, কঠোর ভাষা দিয়ে কখনোই মানুষের প্রকৃত মন জয় করা সম্ভব নয় এবং প্রিয়নবী (সা.)-এর কোমল স্বভাব ও মিষ্টি ভাষণের কারণেই মানুষ তাঁর চারপাশে ভিড় জমিয়েছিল। অপরদিকে, কারো প্রয়োজন পূরণ করা সম্ভব না হলেও নম্র ও ভালো কথা বলার মাধ্যমে তার মনে গভীর প্রশান্তির পরশ বুলিয়ে দেওয়া যায়।
কঠোরতম ব্যক্তি বা চরম শত্রুর সঙ্গেও কথোপকথনের ক্ষেত্রে ইসলাম নমনীয়তা অবলম্বনের শিক্ষা দেয়, যার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আমরা দেখতে পাই হযরত মুসা ও হারুন (আ.)-কে ফেরাউনের কাছে পাঠানোর নির্দেশনার মধ্যে। পক্ষান্তরে, যে সমস্ত কথাবার্তা বা আচরণ মানুষের মনে কষ্ট দেয় কিংবা যারা কথায় কথায় অভিসম্পাত ও অশ্লীল শব্দ ব্যবহার করে, তারা প্রকৃত মুমিন হতে পারে না বলে সতর্ক করা হয়েছে। তাই পার্থিব জীবনকে সুন্দর ও পরকালের মুক্তি নিশ্চিত করতে আমাদের প্রত্যেকেরই প্রাত্যহিক জীবনে ভালো কথা বলার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত।
প্রকাশক ও সম্পাদক : শহীদুল ইসলাম, বার্তা সম্পাদক : ফরহাদ হোসেন
০১৭২৫-৭৩৬৩৫৩, ০১৬০২-৯০৩৬২১ / ০১৭৭০-৪৯৪৯৮১
ঢাকা কার্যালয়ঃ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
আঞ্চলিক কার্যালয়ঃ ডাকবাংলোপাড়া, বদলগাছী, নওগাঁ।
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ গণ সংবাদ২৪