
সমরেশ রায় ও শম্পা দাস, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারতঃ
২০২৬ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষা আজ সোমবার থেকে শুরু হয়েছে, যা চলবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর পৌনে ১টা পর্যন্ত (৩ ঘণ্টা ১৫ মিনিট) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
পরীক্ষার প্রথম দিনে পরীক্ষার্থীদের উৎসাহ ও মনোবল বাড়াতে বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন ট্রাফিক পুলিশ ও বিভিন্ন সমাজসেবী সংগঠনের সদস্যরা। পরীক্ষার্থীদের কপালে চন্দনের ফোঁটা দিয়ে বরণ করা হয় এবং প্রত্যেককে একটি করে জলের বোতল ও গোলাপ ফুল উপহার দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাঁদের সাফল্য কামনা করে আশীর্বাদ জানানো হয়।
সকাল সাড়ে ৯টায় প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রের গেট খুলে দেওয়া হয়। পরীক্ষার্থীরা নিজ নিজ রোল নম্বর মিলিয়ে নির্ধারিত কক্ষে প্রবেশ করেন। প্রথম দিনে কিছুটা নার্ভাস থাকলেও পরীক্ষা দিতে পেরে খুশি বলে জানায় অধিকাংশ শিক্ষার্থী।
সরকারের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা, যাতে পরীক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেন এবং কোনো ধরনের বিভ্রান্তিতে না পড়েন বা যানজটে আটকে না যান। কয়েকটি কেন্দ্রে সরকারের উদ্যোগে ক্যাম্প বসিয়ে পরীক্ষার্থীদের হাতে জল ও ফুল তুলে দেওয়া হয়। নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ছিল জোরদার, যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে অভিভাবকদেরও ভিড় লক্ষ্য করা যায়। সন্তানেরা কেমন প্রশ্ন পাবে, প্রথম দিনের পরীক্ষা কেমন হবে এ নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা উৎকণ্ঠায় ছিলেন তাঁরা।
বিরাটি মহাজাতি বিদ্যামন্দির উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বেথুন কলেজিয়েট স্কুল ও যোধপুর পার্ক বয়েজ স্কুলসহ কয়েকটি কেন্দ্রের চিত্র আমাদের ক্যামেরায় ধরা পড়ে। যোধপুর পার্ক বয়েজ স্কুলে ৯৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মৌসুমী দাস ও এলাকার বিধায়ক দেবাশীষ কুমার পরীক্ষার্থীদের কপালে চন্দনের ফোঁটা দিয়ে, জল ও গোলাপ ফুল তুলে দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং ভালো ফলের আশীর্বাদ করেন।
পরীক্ষার্থীরা জানান, “প্রথম দিন একটু টেনশন থাকেই। আমরা সিলেবাস অনুযায়ী প্রস্তুতি নিয়েছি। বাকিটা সরস্বতীর আশীর্বাদের উপর।”
অভিভাবকেরা বলেন, “ছেলেমেয়েরা যেন ভালো করে পরীক্ষা দেয় ও ভালো ফল করে এই কামনাই করি।”
দুপুরে পরীক্ষা শেষ করে বেরিয়ে আসা অনেক শিক্ষার্থী জানান, পরীক্ষা মোটের ওপর ভালো হয়েছে। সবার মুখেই দেখা যায় কিছুটা স্বস্তির হাসি, যদিও পরবর্তী পরীক্ষাগুলো নিয়ে হালকা টেনশন রয়েছে।
এদিকে অভিভাবকদের অনেকেই জানান, বহু কষ্ট করে তাঁরা সন্তানদের পড়াশোনা করাচ্ছেন, কেউ দিনমজুরের কাজ করে, কেউ রাজমিস্ত্রি, আবার কেউ অন্যের কাছে সাহায্য চেয়েও সন্তানদের শিক্ষিত করার চেষ্টা করছেন, শুধুমাত্র তাঁদের ভবিষ্যৎ সুন্দর করার আশায়।
প্রকাশক ও সম্পাদক : শহীদুল ইসলাম, বার্তা সম্পাদক : ফরহাদ হোসেন
০১৭২৫-৭৩৬৩৫৩, ০১৬০২-৯০৩৬২১ / ০১৭৭০-৪৯৪৯৮১
ঢাকা কার্যালয়ঃ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
আঞ্চলিক কার্যালয়ঃ ডাকবাংলোপাড়া, বদলগাছী, নওগাঁ।
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ গণ সংবাদ২৪