
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের নিকটবর্তী একটি ঐতিহাসিক মসজিদ খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভূমি ও উন্নয়ন দপ্তরের পক্ষ থেকে সম্প্রতি জারি করা একটি নোটিসের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য মাত্র ছয় দিন সময় বেঁধে দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, এই মসজিদটি সম্পূর্ণ অবৈধভাবে সরকারি জমিতে নির্মাণ করা হয়েছে। এই নোটিস জারির আগে থেকেই ওই এলাকার বিভিন্ন পরিষেবা বন্ধ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল বলে জানা যায়।
এর আগে গত ৭ অক্টোবর কর্তৃপক্ষ মসজিদটির সমস্ত বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়, যার ফলে সেখানে নিয়মিত ইবাদত পরিচালনা ব্যাহত হয়। এদিকে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ দাবি করেছে যে, নয়াদিল্লি পৌর পরিষদের ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার তালিকাভুক্ত রয়েছে এই মসজিদটি। ঐতিহ্যবাহী ও ধর্মীয় এই স্থাপনাটি রক্ষার্থে সংগঠনটির পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর কাছে লিখিত আবেদন জানানো হয় এবং তার দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ হারুন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, মসজিদটি রক্ষা করার জন্য তিনি গত ছয় মাস ধরে দিল্লি ওয়াকফ বোর্ডের কাছে একাধিকবার আবেদন করেছেন, কিন্তু সেখান থেকে কোনো কার্যকর সহায়তা বা পদক্ষেপ পাওয়া যায়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে পরিচালিত একটি সরকারি জরিপেও এই মসজিদটিকে কোনো অবৈধ স্থাপনা বা জবরদখল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। তা সত্ত্বেও বর্তমানে হঠাৎ করে এটিকে ভেঙে ফেলার পাঁয়তারা চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অপরদিকে, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনসংলগ্ন সমগ্র এলাকাটিতে বর্তমানে ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। জানা গেছে, দিল্লি হাইকোর্ট এই এলাকার স্থানীয় বস্তিবাসীদের উচ্ছেদ করার অনুমতি দিয়েছেন এবং তাদের বর্তমান অবস্থান থেকে প্রায় পঁয়তাল্লিশ কিলোমিটার দূরে সাভদা ঘেওরা পুনর্বাসন কেন্দ্রে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের এই নির্দেশ অনুযায়ী পুনর্বাসন কেন্দ্রে শিক্ষা, যাতায়াত এবং উন্নত পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক : শহীদুল ইসলাম, বার্তা সম্পাদক : ফরহাদ হোসেন
০১৭২৫-৭৩৬৩৫৩, ০১৬০২-৯০৩৬২১ / ০১৭৭০-৪৯৪৯৮১
ঢাকা কার্যালয়ঃ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
আঞ্চলিক কার্যালয়ঃ ডাকবাংলোপাড়া, বদলগাছী, নওগাঁ।
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ গণ সংবাদ২৪