
ডেস্ক রিপোর্ট: যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি শিশুকে নিজের মালিকানাধীন মহাকাশ গবেষণা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের শেয়ার উপহার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। সম্প্রতি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে প্রযুক্তি জগতের এই আলোচিত ব্যক্তিত্ব জানান যে, আগামী বছর থেকে দেশের প্রতিটি শিশু এই কোম্পানির একটি করে শেয়ার পাবে এবং এটি কেবল একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ মাত্র। বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সামাজিক দায়বদ্ধতা ও প্রভাব নিয়ে বিশ্বজুড়ে নানা মহলে যখন সমালোচনা চলছে, ঠিক সেই সময়েই মাস্ক এমন যুগান্তকারী ঘোষণা দিলেন। মার্কিন আদমশুমারি ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী দেশটিতে ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুর সংখ্যা প্রায় সাত কোটি ত্রিশ লাখ, যার ফলে এই উদ্যোগের আর্থিক পরিমাণ আকাশছোঁয়া হতে পারে।
চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও সম্পন্ন করার পর থেকেই স্পেসএক্স আনুষ্ঠানিকভাবে শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু করে। বিশাল এই কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের বাজারমূল্য ইতিমধ্যে দুই ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে এবং বাজার বন্ধের সময় প্রতিটি শেয়ারের মূল্য প্রায় ১৪৬ ডলারে লেনদেন হচ্ছিল। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী ইলন মাস্কের প্রস্তাবিত এই শেয়ার বরাদ্দের মোট আর্থিক মূল্য প্রায় দশ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিপুলসংখ্যক এই শিশুর মাঝে কীভাবে এবং কোন নিয়মে এসব শেয়ার বণ্টন করা হবে কিংবা সব শিশু এর আওতায় আসবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো পরিষ্কার রূপরেখা দেননি তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, মাস্কের এই ঘোষণার পেছনে অন্য একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক কার্যক্রমের বড় ভূমিকা রয়েছে। কিছুদিন আগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক ঘোষণা দেয় যে, তারা তাদের কোম্পানির উল্লেখযোগ্য একটি অংশ জনকল্যাণমূলক ফান্ডে দান করবে, যা এআইয়ের কারণে সৃষ্ট কর্মসংস্থানের ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যয় হবে। এই পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে ইলন মাস্ক জানান যে, প্রথাগত কোনো তহবিলে অর্থ জমা না দিয়ে তিনি সরাসরি সাধারণ মানুষের হাতে শেয়ার তুলে দিতে চান। এর আগে গত জুলাইয়ে স্পেসএক্সের প্রেসিডেন্ট গুইন শটওয়েলও কম আয়ের পরিবারের শিশুদের অগ্রাধিকার দিয়ে প্রায় ২০ লাখ সন্তানকে কোম্পানির শেয়ার দেওয়ার কথা বলেছিলেন।
প্রথাগত দাতব্য কাজের কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে অতীতেও একাধিকবার প্রশ্ন তুলেছেন ইলন মাস্ক। তাঁর মতে, কেবল লোকদেখানোর জন্য অনুদান দেওয়া তুলনামূলক সহজ হলেও প্রকৃত অর্থে মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা বেশ কঠিন কাজ। ২০১২ সালে তিনি নিজের সম্পদের বড় অংশ জনকল্যাণে দান করার অঙ্গীকারপত্রে স্বাক্ষর করলেও তাঁর প্রতিষ্ঠিত ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে সমালোচনা হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তি খাতের অনিয়ম নিয়ে যখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানামুখী আলোচনা চলছে, তখন মাস্কের এই শেয়ার বিতরণের ঘোষণা নতুন এক অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক : শহীদুল ইসলাম, বার্তা সম্পাদক : ফরহাদ হোসেন
০১৭২৫-৭৩৬৩৫৩, ০১৬০২-৯০৩৬২১ / ০১৭৭০-৪৯৪৯৮১
ঢাকা কার্যালয়ঃ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
আঞ্চলিক কার্যালয়ঃ ডাকবাংলোপাড়া, বদলগাছী, নওগাঁ।
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ গণ সংবাদ২৪