রাজবাড়ী প্রতিনিধিঃ
পুলিশের উপস্থিতিতে এক নারীকে কয়েকজনের লাথি মারার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। ২৭ সেকেন্ডের ভিডিওটি ঘিরে কেউ বলছেন, ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরে অভিযোগ করায় ওই নারীকে মারধর করা হয়েছে। আবার কেউ দাবি করছেন, তিনি একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
তবে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন তথ্য।
ভাইরাল ভিডিওতে মারধরের শিকার নারী কোনো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নন, ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযোগকারীও নন। ঘটনাটির সঙ্গে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের কোনো অভিযানও ছিল না।
ভাইরাল ভিডিওটি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ঘটনাস্থলের পেছনে ‘উত্তরা ব্যাংক পিএলসি, রাজবাড়ী শাখা’ লেখা একটি সাইনবোর্ড রয়েছে। ওই সূত্র ধরে স্থানটি যাচাই করলে রাজবাড়ীর কাপড় বাজারের সঙ্গে ভিডিওটির দৃশ্যের মিল পাওয়া যায়।
পরবর্তী অনুসন্ধানে জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনেও একই ঘটনার তথ্য পাওয়া যায়।
প্রতিবেদনগুলো অনুযায়ী, গত ২৯ আগস্ট রাজবাড়ীর কাদেরিয়া মার্কেট এলাকায় নারী উদ্যোক্তা জাকিয়া সুলতানাকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে পুলিশ তাঁকে সরিয়ে নেওয়ার সময় কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে কিল-ঘুষি-লাথি দেন।
জাকিয়া সুলতানা কাদেরিয়া মার্কেটের তৃতীয় তলায় ‘আস্থা পোশাকশিল্প’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক। তাঁর সঙ্গে সাবেক কর্মী শাহানা পারভীন বৃষ্টির ব্যবসায়িক বিরোধকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
সম্প্রতি জাকিয়াকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে কয়েকজন নারী বাজারে বিক্ষোভ করেন। পরে জাকিয়া বাজারে অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করলে ব্যবসায়ী ও কর্মচারীদের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ে।
একপর্যায়ে তাঁকে ধাওয়া করা হলে পুলিশ তাঁকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। সেই সময়ই কয়েকজন তাঁকে কিল-ঘুষি-লাথি দেন বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবচেয়ে বেশি ছড়ানো দাবিগুলোর একটি হলো- ওই নারী কোনো দোকানের বিরুদ্ধে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরে অভিযোগ করেছিলেন এবং অধিদপ্তরের অভিযান চলাকালে তাঁকে হামলা করা হয়।
কিন্তু জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এ দাবি সরাসরি নাকচ করেছে।
অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভাইরাল ভিডিওর ঘটনার সঙ্গে রাজবাড়ী জেলা কার্যালয় বা অধিদপ্তরের কোনো অভিযানের সম্পর্ক নেই। ভিডিওতে থাকা নারীও এ বিষয়ে অধিদপ্তরে কোনো অভিযোগ করেননি।
তাহলে ম্যাজিস্ট্রেটের পরিচয় এল কোথা থেকে?
ভিডিওটির আরেকটি প্রচারে দাবি করা হয়, মারধরের শিকার নারী একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
তবে অনুসন্ধানে এমন দাবিরও কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্র ও প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই নারী রাজবাড়ীর নারী উদ্যোক্তা ও পোশাক ব্যবসায়ী জাকিয়া সুলতানা।
ঘটনাটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো- ভিডিওতে নারীকে মারধরের ঘটনা সত্য, কিন্তু ভিডিওটির সঙ্গে যে পরিচয় ও প্রেক্ষাপট জুড়ে দেওয়া হয়েছে, সেগুলো সত্য নয়।
ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযান ছিল না।
মারধরের শিকার নারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নন।
তিনি ভোক্তা অধিকারের অভিযোগকারীও নন।
বরং এটি রাজবাড়ীর একটি মার্কেটে ব্যবসায়িক বিরোধকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার সময়কার ঘটনা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক বক্তব্য ও ভিন্ন ভিন্ন পরিচয় যুক্ত করে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ায় প্রকৃত ঘটনাটি আড়ালে পড়ে গেছে।
ভিডিওটি সত্য- কিন্তু ভিডিওকে ঘিরে ছড়ানো গল্পটি সত্য নয়। যা একাধিক নির্ভরযোগ্য মাধ্যম নিশ্চিত করে।
প্রকাশক ও সম্পাদক : শহীদুল ইসলাম, বার্তা সম্পাদক : ফরহাদ হোসেন
০১৭২৫-৭৩৬৩৫৩, ০১৬০২-৯০৩৬২১ / ০১৭৭০-৪৯৪৯৮১
ঢাকা কার্যালয়ঃ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
আঞ্চলিক কার্যালয়ঃ ডাকবাংলোপাড়া, বদলগাছী, নওগাঁ।
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ গণ সংবাদ২৪