ঢাকা প্রতিনিধি:
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সাম্প্রতিক একাধিক কেনাকাটায় অনিয়ম ও অতিরিক্ত দামের অভিযোগ উঠেছে। ছবি তোলার সরঞ্জামসহ বিভিন্ন আইটেম বাজারমূল্যের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি দামে কেনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪ হাজার টাকা মূল্যের একটি ব্যাগের দাম ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার ৪০০ টাকা। একইভাবে ৩ হাজার টাকার একটি কার্ড রিডার কেনা হয়েছে ২১ হাজার ৫০০ টাকায়। এছাড়া প্রায় ৩ লাখ ৩৮ হাজার টাকা মূল্যের একটি ডিজিটাল এসএলআর ক্যামেরা বডির দাম ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৯ হাজার ৫০০ টাকা।
জানা গেছে, চারটি ক্যামেরা বডির জন্য মোট ২৮ লাখ ৩৮ হাজার টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। সব মিলিয়ে ক্যামেরা ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম কিনতে সরকারি কোষাগার থেকে নেওয়া হয়েছে ৫৮ লাখ ৪৪ হাজার ১৩০ টাকা। অথচ বাজারমূল্যে এসব পণ্যের মোট দাম ২০ লাখ টাকার কম হতে পারে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা যায়, গত ১২ মার্চ সংসদের কার্যক্রম শুরুর পর ২৫ মার্চ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত ৩০ দিনের সময়সীমার পরিবর্তে মাত্র ১৯ দিনের মধ্যে ১৫ এপ্রিল এসব পণ্য সরবরাহ করা হয়।
কেনাকাটার তালিকায় চারটি ক্যামেরা বডির পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের লেন্স, মেমোরি কার্ড, ফ্ল্যাশ, ব্যাটারি ও কার্ড রিডারসহ মোট ১২টি আইটেম রয়েছে। এর মধ্যে ২৪-৭০ মি.মি লেন্স তিনটি কেনা হয়েছে ৩৭ লাখ ৪১ হাজার টাকায়, যেখানে প্রতিটির বাজারমূল্য সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার টাকা বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এ ছাড়া ১৪-২৪ মি.মি লেন্স কেনা হয়েছে ৪ লাখ ৪৭ হাজার ২০০ টাকায়, যার বাজারমূল্য প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। ১০০-৪০০ মি.মি লেন্সের জন্য ব্যয় দেখানো হয়েছে ৫ লাখ ৭৬ হাজার ২০০ টাকা, যা বাজারমূল্যের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
ফ্ল্যাশ (স্পিডলাইট), মেমোরি কার্ড ও ব্যাটারির ক্ষেত্রেও একই ধরনের অস্বাভাবিক মূল্য নির্ধারণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কিছু ক্ষেত্রে নির্ধারিত ব্র্যান্ডের পরিবর্তে নিম্নমানের পণ্য সরবরাহেরও অভিযোগ রয়েছে।
এসব সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে ‘সেফ ট্রেডার্স’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির প্রোপ্রাইটর হিসেবে সঞ্জয় কুমার দাসের নাম উল্লেখ আছে। যোগাযোগ করা হলে প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মকর্তা দাবি করেন, ব্র্যান্ডেড পণ্য, ভ্যাট ও ট্যাক্সের কারণে দাম বেশি হয়েছে। তবে বাজারমূল্যের সঙ্গে বড় ধরনের পার্থক্য এবং ভিন্ন ব্র্যান্ডের পণ্য সরবরাহের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি আর কোনো মন্তব্য করেননি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. মহিদুল হক বলেন, কেনাকাটার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল এবং তাদের সুপারিশের ভিত্তিতেই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, পদাধিকার বলে তিনি কার্যাদেশে স্বাক্ষর করেছেন, তবে প্রক্রিয়াটি তার যোগদানের আগেই শুরু হয়েছিল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা দাবি করেন, সাবেক সচিব কানিজ মাওলা এ কেনাকাটা তত্ত্বাবধান করেন। তবে সব প্রক্রিয়া নিয়মের মধ্যে রেখেই তা সম্পন্ন করা হয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন।
সংসদ সচিবালয়ের একাধিক অভিজ্ঞ ফটোগ্রাফার জানান, অধিবেশন কক্ষের জন্য ৪ থেকে ১০ লাখ টাকার মধ্যেই মানসম্মত ক্যামেরা সেট যথেষ্ট। ৫৮ লাখ টাকার সরঞ্জাম কেনাকে তারা ‘অস্বাভাবিক’ বলে মন্তব্য করেছেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অভিযোগগুলো সঠিক হলে এ বিষয়ে স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র উদঘাটন জরুরি।
প্রকাশক ও সম্পাদক : শহীদুল ইসলাম, বার্তা সম্পাদক : ফরহাদ হোসেন
০১৭২৫-৭৩৬৩৫৩, ০১৬০২-৯০৩৬২১ / ০১৭৭০-৪৯৪৯৮১
ঢাকা কার্যালয়ঃ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
আঞ্চলিক কার্যালয়ঃ ডাকবাংলোপাড়া, বদলগাছী, নওগাঁ।
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ গণ সংবাদ২৪