
জাতীয় ডেস্ক: রাজধানী ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক বর্তমানে যাত্রী ও চালকদের জন্য একটি ঝুঁকিপূর্ণ পথে রূপ নিয়েছে। বেলপুকুরিয়া থেকে শুরু করে বানেশ্বর, পুঠিয়া ও ঝলমলিয়া পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে কার্পেটিং উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য বিপজ্জনক খানাখন্দ। সড়ক ও জনপথ বিভাগ মাঝে মধ্যে দায়সারাভাবে জোড়াতালির সংস্কার কাজ চালালেও কোনো স্থায়ী সমাধান মিলছে না। ফলে প্রতিদিন এই রুটে চলাচলকারী হাজার হাজার যানবাহন চরম আতঙ্ক ও ঝুঁকির মধ্যে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছে।
মহাসড়কের পুঠিয়া সদর ও ঝলমলিয়া বাজারসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশে পিচ ও খোয়া সরে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুতগতির এই ব্যস্ত সড়কে চলতে গিয়ে চালকরা আকস্মিক এসব গর্তের মুখে পড়ে প্রায়শই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছেন, যা বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের জন্য মারাত্মক বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ওপর মহাসড়কে বেআইনিভাবে তিন চাকার অটোরিকশা ও ভটভটির অবাধ চলাচলের কারণে দুর্ঘটনার শঙ্কা বহুগুণ বেড়ে গেছে। সম্প্রতি এই পথে চলাচলকারী একাধিক যাত্রী ও চালক সড়কের বেহাল দশা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
খনাখন্দের পাশাপাশি বানেশ্বর হাট এলাকায় এই দুর্ভোগের চিত্র আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ব্যস্ত এই মহাসড়কের ওপরই নিয়মিত হাট বসার কারণে যানবাহনের স্বাভাবিক গতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভারী যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ ও বাতাসে ওড়া তীব্র ধুলাবালি, যা পুরো এলাকার পরিবেশকে দূষিত করার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করছে। একদিকে খানাখন্দ আর অন্যদিকে ধুলাবালি ও যানজটের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির অন্ত নেই।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজশাহী অঞ্চলের বিভিন্ন সড়কের জরুরি মেরামতে উল্লেখযোগ্য বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গর্তে কেবল কিছু খোয়া ও ইটের টুকরো ফেলে দায় সারে, যা সামান্য বৃষ্টি বা যানবাহনের চাপে কয়েকদিনের মধ্যেই উঠে গিয়ে আগের চেয়ে বড় গর্তের রূপ নেয়। এতে সরকারি অর্থের অপচয় হলেও সাধারণ মানুষ কোনো দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাচ্ছে না।
বারবার মেরামতের পরও সড়কটি টেকসই না হওয়ার বিষয়ে রাজশাহী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান যে, জরুরি মেরামতের কাজগুলো মূলত প্রাথমিক দুর্ঘটনা এড়ানোর সাময়িক পদক্ষেপ মাত্র। তবে ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা মনে করেন, কেবল নামমাত্র জোড়াতালি না দিয়ে এই মহাসড়কের স্থায়ী সংস্কার করা জরুরি। অবিলম্বে বানেশ্বর হাটের যানজট ও ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলোর স্থায়ী সমাধান করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানির দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
প্রকাশক ও সম্পাদক : শহীদুল ইসলাম, বার্তা সম্পাদক : ফরহাদ হোসেন
০১৭২৫-৭৩৬৩৫৩, ০১৬০২-৯০৩৬২১ / ০১৭৭০-৪৯৪৯৮১
ঢাকা কার্যালয়ঃ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
আঞ্চলিক কার্যালয়ঃ ডাকবাংলোপাড়া, বদলগাছী, নওগাঁ।
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ গণ সংবাদ২৪