নিজস্ব প্রতিবেদক
বগুড়ার শিবগঞ্জ ও নবঘোষিত মোকামতলা উপজেলায় নতুন ইউনিয়ন গঠনের সরকারি প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পর স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার ব্যবহার নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রশাসনিক পুনর্গঠনের সিদ্ধান্তে কয়েকটি ইউনিয়নের নাম প্রতিমন্ত্রীর পারিবারিক পরিচয়ের সঙ্গে মিল রয়েছে—এমন অভিযোগ সামনে আসায় সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, জনস্বার্থের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত কি ব্যক্তি-প্রভাবমুক্ত ছিল?
অভিযোগ অনুযায়ী, শিবগঞ্জ উপজেলার নতুন ইউনিয়নের নাম রাখা হয়েছে ‘মীরবাড়ী ইউনিয়ন’, যা প্রতিমন্ত্রীর পারিবারিক পরিচয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে দাবি করা হচ্ছে। একইভাবে মোকামতলা উপজেলার দুটি ইউনিয়নের নাম ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ যা তাঁর দুই সন্তানের নামের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ বলে সমালোচকেরা উল্লেখ করছেন।
সমালোচকদের বক্তব্য, যদি প্রশাসনিক এককের নামকরণে ব্যক্তিগত বা পারিবারিক পরিচয় প্রভাব ফেলে থাকে, তবে তা শুধু নৈতিক প্রশ্নই নয়, জনপ্রতিনিধিত্বের চেতনার সঙ্গেও সাংঘর্ষিক। তাঁদের মতে, ইউনিয়নের নাম স্থানীয় ইতিহাস, ভূগোল, সংস্কৃতি কিংবা জনগণের দীর্ঘদিনের পরিচয়ের ভিত্তিতে হওয়া উচিত; কোনো রাজনৈতিক পদধারীর পারিবারিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়।
স্থানীয় পর্যায়ের সমালোচকেরা বলছেন, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা জনগণের অর্পিত দায়িত্ব, ব্যক্তিগত পরিচয় প্রতিষ্ঠার উপায় নয়। প্রশাসনিক কাঠামোকে রাজনৈতিক বা পারিবারিক প্রতীকায়নের অভিযোগ সত্য হলে তা ভবিষ্যতে ক্ষমতার সীমা ও জবাবদিহি নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ একে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে ‘ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রভাবের উদাহরণ’ বলছেন, আবার অনেকে পুরো প্রক্রিয়া প্রকাশ ও জনমত গ্রহণের দাবি তুলেছেন।
তবে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রী বা প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে এসব অভিযোগের জবাব পাওয়া গেলে বিষয়টির পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।
প্রশ্ন এখন একটাই, এটি কি কেবল কাকতালীয় নাম নির্বাচন, নাকি প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহারের সীমা নিয়ে নতুন বিতর্কের সূচনা?
প্রকাশক ও সম্পাদক : শহীদুল ইসলাম, বার্তা সম্পাদক : ফরহাদ হোসেন
০১৭২৫-৭৩৬৩৫৩, ০১৬০২-৯০৩৬২১ / ০১৭৭০-৪৯৪৯৮১
ঢাকা কার্যালয়ঃ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
আঞ্চলিক কার্যালয়ঃ ডাকবাংলোপাড়া, বদলগাছী, নওগাঁ।
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ গণ সংবাদ২৪