
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বের ব্যাংকিং খাত ও ইন্টারনেট যোগাযোগব্যবস্থাকে অচল করে দেওয়ার লক্ষ্যে হরমুজ প্রণালির তলদেশ দিয়ে যাওয়া সাবমেরিন কেব্ল কেটে ফেলার হুমকি দিয়েছে ইরান। দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসির মুখপাত্র জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি এই সাবমেরিন যোগাযোগ কেব্লগুলোকে নতুন ও বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে অভিহিত করেছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফের একটি প্রতিবেদনে সম্প্রতি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এই হুমকি বাস্তবায়ন করা হলে বিশ্বজুড়ে আর্থিক বাজার, ব্যাংক লেনদেন, স্বাস্থ্যসেবা খাত এবং সাধারণ মানুষের ইন্টারনেট ব্যবহার মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘদিনের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই নতুন কৌশলগত হুমকির কথা সামনে এসেছে। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনার তীব্রতা কিছুটা প্রশমিত হলেও পরিস্থিতি যেকোনো সময় তৃতীয় ধাপের সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেই সম্ভাব্য সংঘাতে ইরান নতুন ভৌগোলিক ক্ষেত্র, অভিনব অস্ত্রশস্ত্র এবং ভিন্ন ধরনের লক্ষ্যবস্তু সামনে আনার পরিকল্পনা করছে। আইআরজিসির পক্ষ থেকে বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে ইউরোপ পর্যন্ত বিস্তৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রতলের কেবলের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ভারতসহ বিভিন্ন অঞ্চলের ডিজিটাল যোগাযোগ রক্ষা করা হয়।
নিরাপত্তা ও কৌশলগত বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তিগত দিক থেকে ইরানের এই হুমকি পুরোপুরি বাস্তবায়নযোগ্য এবং এটি দীর্ঘদিন ধরেই একটি সম্ভাব্য কৌশল হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। সমুদ্রের তলদেশের এই কেব্লগুলো সাধারণত তুলনামূলক অগভীর পানির মধ্য দিয়ে স্থাপন করা হয়, যা সহজে নাগাল পাওয়ার উপযোগী। আধুনিক যুগে উন্নত ডুবুরি দল কিংবা দূরনিয়ন্ত্রিত ও স্বয়ংক্রিয় ডুবোযানের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস করার কাজ আরও সহজ হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও বৈরিতা এড়াতে তেহরান এখন পর্যন্ত এই কেব্লগুলোতে সরাসরি হামলার চূড়ান্ত নির্দেশ দেওয়া থেকে বিরত রয়েছে।
আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী তথ্যের আদান-প্রদানের প্রায় পুরোটাই সমুদ্রের তলদেশের এই বিশাল কেব্ল নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভরশীল। হরমুজ প্রণালির তলদেশে থাকা গুরুত্বপূর্ণ কেব্লগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলে অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসের মতো বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অবকাঠামো এবং বহুজাতিক কোম্পানির কার্যক্রম বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। এছাড়া বিকল্প উপায়ে তথ্য আদান-প্রদানের কারণে বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট সেবার গতি নাটকীয়ভাবে হ্রাস পেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতিকে রাতারাতি সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাওয়ার মতো কোনো সাধারণ বিষয় হিসেবে না দেখে একটি সুদূরপ্রসারী ও মারাত্মক ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
প্রকাশক ও সম্পাদক : শহীদুল ইসলাম, বার্তা সম্পাদক : ফরহাদ হোসেন
০১৭২৫-৭৩৬৩৫৩, ০১৬০২-৯০৩৬২১ / ০১৭৭০-৪৯৪৯৮১
ঢাকা কার্যালয়ঃ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
আঞ্চলিক কার্যালয়ঃ ডাকবাংলোপাড়া, বদলগাছী, নওগাঁ।
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ গণ সংবাদ২৪