1. admin@gonosongbad24.com : admin :
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
চকরিয়ায় প্রশাসনের নির্দেশনার পরও বৃত্তি আয়োজনের অভিযোগ ধামইরহাটে অসহায় ৮০ পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ জয়পুরহাটে বসতঘরের আলমারিতে ৯০০ টাপেন্টাডল, ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার রাণীনগরে জাতীয় যুব দিবস উদযাপন নওগাঁয় জেলা পুলিশের অভিযানে উদ্ধার ৮০টি হারানো মোবাইল, মালিকদের কাছে হস্তান্তর নওগাঁয় ডিবি পুলিশের রাতভর অভিযান, ২৪ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ৪ বদলগাছীতে যুবদলের কর্মীসভা অনুষ্ঠিত ভুয়া চিকিৎসাপত্র আর ৯ গুলির ‘নাটক’: শেখ হাসিনাসহ ৮৪ আসামিকে অব্যাহতির সুপারিশ পুলিশের বগুড়ার কাহালুতে গলায় ফাঁস দিয়ে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু  বদলগাছী হাসপাতালে দুই নার্সের রোস্টার বিরোধ: সহকর্মীকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করার অভিযোগ, তিন দিনেও ব্যবস্থা নেই বদলগাছীর বিলাশ বাড়ী ইউনিয়নে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ সিজন-২-এর উদ্বোধন নওগাঁয় পুলিশের অভিযানে দুটি চোরাই চার্জার অটোরিকশা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১ কুড়িগ্রামে এসএসবিসি প্রকল্পের আয়োজনে মাতৃ, নবজাতক, শিশু, কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য ও বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে মতবিনিময় সভা বদলগাছীতে ভিডব্লিউবি’র ১৯০০ কেজি চাল জব্দ: বাজারে বিক্রির সময় গুদাম থেকে আটক শেরপুর সীমান্তে ১৪৭ বোতল ইস্কাফ সিরাপ জব্দ বদলগাছীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতারণা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে গ্রেপ্তার ২, মোটরসাইকেল উদ্ধার রাণীনগরে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেলের কাজ ৮৫ শতাংশ সম্পন্ন, জুলাইয়ে চালু আমু-শাজাহানসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের হেভিওয়েট নেতাদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ভারতে প্রবেশ প্রায় বন্ধ, শেরপুর সীমান্তে আটকে পড়া হাতিগুলোর কী হবে? ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বই মুদ্রণজনিত ত্রুটি সংশোধনে ফেরতের নির্দেশ ‘উই রিভোল্ট’—পাঠ্যবইয়ে যেভাবে তুলে ধরা হচ্ছে জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক ডায়েরির কথা সরকারের সমালোচনা করায় নারীকে পুলিশে দিল বিএনপি নেতা-কর্মীরা বিভাগীয় কমিশনারের নির্দেশেও তথ্য দেয়নি সিলেট জেলা প্রশাসন দিনের ছবি (২৬ অক্টোবর, ২০২৬) কতটা ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় অর্ণব, কবে-কোথায় আঘাত হানবে শুভ নাকি অশুভ শক্তি ঢাকা-কক্সবাজার রুটে আজ থেকে চলবে ‘মহানগর এক্সপ্রেস’ শিল্পের সঙ্গে উচ্চশিক্ষার যোগসূত্র গড়ছে বিইউএফটি চিকিৎসাশিক্ষায় ৬৩ শতাংশই ছাত্রী, ডেন্টাল ও নার্সিংয়েও এগিয়ে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর বেতন বৃদ্ধিতে ধীরে চলো নীতি ধর্ম যার যার… ইউরোপজুড়ে তরুণদের বিক্ষোভ, কেন ফুঁসছে জেন–জি? মধ্যপ্রাচ্যে ভেতরে-ভেতরে ‘লিবারেল বিপ্লব’ নিষিদ্ধ হয়েছিল নাটকটি, স্তালিন দেখেছিলেন ১৪ বার মাদক কারবার: দম্পতির ব্যাংক হিসাবে ১৩ কোটি লেনদেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে চতুর্থ মেয়াদে জয়ী লুলা মাদারীপুরের চরমুগরিয়া: ইকোপার্কের নির্মাণকাজ বন্ধ, চুরি হচ্ছে মালামাল সৌদিতে নিরাপত্তাঝুঁকি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ, মার্কিন নাগরিকদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ সৌদি আরবে থাকা রোহিঙ্গাদের জন্য বিশেষ পাসপোর্ট জাপানের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভুটানের বিপক্ষে থাকছেন হামজা-ফারহান দীর্ঘদিনের ক্ষমতার অবসান, সার্বিয়ার নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের জয় সিলেটে ২০ শ্রমিকের পরিবার পেল ১০ লাখ টাকা অনুদান এমবাপ্পের জোড়া গোলে তছনছ বার্সার ঘর মির্জাপুরে মহাসড়কের পাশে পড়ে আছে মেয়াদোত্তীর্ণ সরকারি ওষুধ মিথিলার কণ্ঠে নতুন গান ‘ভালোবাসি আমি তোমায় বোঝাবো’ চিকিৎসাসেবা বঞ্চিত পাঁচ লাখ মানুষ ডেন্টাল হাইজিনিস্ট থেকে শিল্পী, ফ্লোরিডায় উদ্যোক্তা হিসেবে এগিয়ে চলেছেন সন্দ্বীপের জাহান রিমা চট্টগ্রাম থেকে পরীমনির জন্য ফুল পাঠালেন কে? জয়ের প্রশ্নে নায়িকার জবাব

অসময়ের বৃষ্টিতে পানির নিচে আলুর ক্ষেত, লোকসানের শঙ্কায় তারাগঞ্জের কৃষক

  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬
  • ৬৬ বার পঠিত

জুয়েল ইসলাম, তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি:

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় অসময়ে হওয়া ভারী বর্ষণে বিস্তীর্ণ আলুর ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের আলু চাষিরা বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কায় পড়েছেন। ইতোমধ্যেই অনেক জমিতে পানি জমে আলুর গাছ নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। কৃষকদের আশঙ্কা, জমিতে যদি আরও দুই থেকে তিন দিন পানি জমে থাকে, তবে আলু পচে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন তারা।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে উপজেলার নিচু এলাকার অনেক জমিতে পানি জমে গেছে। বিশেষ করে কুর্শা, আলমপুর, ইকরচালি ও হাড়িয়ারকুটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের আলুর ক্ষেত পানিতে তলিয়ে রয়েছে। জমিতে পানি জমে থাকায় আলুর গাছ হলুদ হয়ে যাচ্ছে এবং অনেক ক্ষেতেই গাছ মরে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
কুর্শা ইউনিয়নের রহিমাপুর চাকলা গ্রামের আলু চাষি তাপস রায় বলেন,
“এবার এক একরের বেশি জমিতে আলু চাষ করেছি। হঠাৎ টানা বৃষ্টিতে পুরো জমি পানির নিচে চলে গেছে। এখন যদি দুই–তিন দিনের মধ্যে পানি না নামে, তাহলে আলু পচে যাবে। এত খরচ করে চাষ করেছি, সবই লোকসান হয়ে যাবে।”
একই ধরনের আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন আলমপুর ইউনিয়নের অনেক কৃষক। তারা বলেন, গত বছর আলুর দাম কম থাকায় বড় ধরনের লোকসান গুনতে হয়েছিল। চলতি মৌসুমে ফলন তুলনামূলক ভালো হলেও বাজারে আলুর দাম উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় অনেক কম হওয়ায় তারা আগে থেকেই দুশ্চিন্তায় ছিলেন। এর মধ্যে হঠাৎ বৃষ্টিতে ক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সেই দুশ্চিন্তা আরও বেড়ে গেছে।
ইকরচালি ইউনিয়নের চরকডাঙ্গা গ্রামের কৃষক লাল মিয়া বলেন,
“প্রতি কেজি আলু উৎপাদন করতে খরচ পড়ে প্রায় ১৪ থেকে ১৬ টাকা। কিন্তু বাজারে এখন আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭ থেকে ৮ টাকায়। তার ওপর আবার বৃষ্টিতে জমি ডুবে গেছে। এখন যদি আলু নষ্ট হয়, তাহলে আমাদের আর কিছুই থাকবে না।”
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, অনেক ক্ষেতেই আলুর গাছ পানির নিচে ডুবে আছে। কোথাও কোথাও জমিতে হাঁটুসমান পানি জমে রয়েছে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় অনেক কৃষক জমি থেকে পানি বের করতে হিমশিম খাচ্ছেন। কেউ কেউ নালা কেটে পানি সরানোর চেষ্টা করছেন, আবার অনেকেই বৃষ্টির পানি দ্রুত নেমে যাওয়ার অপেক্ষায় আছেন।

নারায়নজন গ্রামের কৃষক মুকুল কবির বলেন,
“এবার তিন বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছি। হঠাৎ বৃষ্টিতে পুরো জমি ডুবে গেছে। জমে থাকা পানি কীভাবে বের করবো সেটাই এখন বড় চিন্তা। যদি দুই–তিন দিন পানি থাকে, তাহলে আলু পচে যাবে। তখন সব পরিশ্রমই বৃথা যাবে।”
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, প্রতি বছরই তারা উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় কম দামে আলু বিক্রি করতে বাধ্য হন। পর্যাপ্ত হিমাগার না থাকায় অনেক সময় বাধ্য হয়ে মাঠ থেকেই কম দামে আলু বিক্রি করতে হয়। ফলে কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, গত বছর তারাগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে মোট ৪ হাজার ৫৩০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়েছিল। ওই মৌসুমে প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার ৯৫ মেট্রিক টন আলু উৎপাদিত হয়। কিন্তু উপজেলায় বিদ্যমান হিমাগারগুলোর মোট ধারণক্ষমতা মাত্র ১৬ হাজার টন হওয়ায় বিপুল পরিমাণ আলু সংরক্ষণের বাইরে থেকে যায়। ফলে কৃষকেরা বাধ্য হয়ে কম দামে আলু বিক্রি করেন।
কৃষি বিভাগ জানায়, গত বছরের লোকসানের কারণে চলতি মৌসুমে অনেক কৃষক আলুর আবাদ কমিয়ে দিয়েছেন। ফলে এবার উপজেলার মোট আবাদি জমি কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৪৬৩ হেক্টরে। তবুও বাজারদর উৎপাদন ব্যয়ের নিচে থাকায় কৃষকেরা নতুন করে সংকটে পড়েছেন।
আলমপুর ইউনিয়নের কৃষক মিলন মিয়া বলেন,
“বারবার লোকসান খেতে খেতে অনেক কৃষক এখন আলুর আবাদ ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন। যদি ন্যায্যমূল্য না পাই, তাহলে ভবিষ্যতে আর আলু চাষ করা সম্ভব হবে না।”

এদিকে কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আলুর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগ বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত হিমাগার নির্মাণ এবং আলুভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত খাদ্যশিল্প গড়ে তোলা গেলে কৃষকেরা উৎপাদিত ফসল সংরক্ষণ ও বাজারজাত করতে পারবেন।
তারাগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীবা রানী রায় বলেন,
“আলু সংরক্ষণের জন্য হিমাগারের ধারণক্ষমতা বাড়ানো এবং আলুভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত শিল্প গড়ে তোলা জরুরি। এতে কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং ভবিষ্যতে এমন সংকট কিছুটা হলেও কমবে।”
বর্তমান পরিস্থিতিতে কৃষকেরা আলুর ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নির্ধারণ, সরকারি পর্যায়ে সরাসরি আলু ক্রয়ব্যবস্থা চালু এবং নতুন হিমাগার নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, এ ধরনের পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে অনেক কৃষক আলুর আবাদ থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হবেন, যা দেশের আলু উৎপাদনের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

Facebook Comments Box

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরও খবর
Theme Customized By Shakil IT Park