
বিশেষ প্রতিনিধি, বদলগাছী (নওগাঁ):
শরতের পূজা মণ্ডপগুলোতে তখন ঢাকের শব্দ আর দীপাবলীর আলো। চারপাশে উৎসবের আমেজ। এর মাঝেই নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার আধাইপুর ইউনিয়নের একাধিক পূজা মণ্ডপে দেখা গেল এক ভিন্ন আবহ। প্রতিমা দর্শনের ফাঁকে কোনো হৈ-চৈ ছাড়া নীরবে খুঁজে নেওয়া হচ্ছিল মা-বাবা হারা এতিম শিশুদের। আর তাদের হাতে যখন তুলে দেওয়া হচ্ছিল কড়কড়ে নতুন টাকার নোট, তখন সেই শিশুদের চোখের বিস্ময় ও মুখের নিষ্পাপ হাসি ছুয়ে যাচ্ছিল মণ্ডপে উপস্থিত সব মানুষের হৃদয়।
শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এতিম শিশুদের মুখে হাসি ফোটানোর এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়ে সংবাদ শিরোনামে এসেছেন বদলগাছী উপজেলার ৭ নম্বর আধাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী আশরাফুল ইসলাম নয়ন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার রাতে আধাইপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শনে যান তিনি। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি তিনি মণ্ডপ কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় নীরবে খোঁজ নিতে শুরু করেন ইউনিয়নের পিতৃ-মাতৃহীন এতিম শিশুদের। শিশু সনাক্ত হওয়ার পর বয়সভেদে তাদের হাতে তুলে দেন ১০০ ও ২০০ টাকার একেবারে নতুন চকচকে নোট। এদিন ইউনিয়নের প্রায় ১৬টি পূজা মণ্ডপ ঘুরে শতাধিক এতিম শিশুর হাতে এভাবে নতুন টাকা তুলে দেওয়া হয়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ঘটনার কয়েকটি ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকা জুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও প্রশংসা।
ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভোটের রাজনীতির উর্ধ্বে উঠে উৎসবের দিনে সমাজবিচ্ছিন্ন বা পিতৃহীন শিশুদের এভাবে প্রাধান্য দেওয়া সত্যিই বিরল। ইউনিয়নের একাধিক প্রবীণ নাগরিক বলেন, “পূজার আমেজে সবাই যখন নিজেদের মতো ব্যস্ত, তখন এতিম শিশুদের খুঁজে বের করে আনন্দ ভাগ করে নেওয়া একজন প্রকৃত মানবিক মানুষের কাজ। আমরা এমন একজন জনপ্রতিনিধিই চাই যিনি অসহায় মানুষের দুঃখ বুঝবেন।”
নিজের এই মানবিক অনুভূতির কথা জানাতে গিয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী আশরাফুল ইসলাম নয়ন বলেন, “যাদের বাবা-মা নেই, উৎসবে তাদের আনন্দ দেওয়ার মানুষের খুব অভাব থাকে। শিশুদের হাতে নতুন নোট তুলে দিলে তাদের চোখে-মুখে যে কৌতূহল ও আনন্দের ছাপ দেখা যায়, সেটাই আমার জীবনের সেরা প্রাপ্তি।”
তিনি আরও জানান, কেবল নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নয়, দীর্ঘ দিন ধরেই তিনি সামাজিক কাজের সাথে যুক্ত। ২০১০ সালে নিজের অর্থায়নে গঠন করেন ‘মানুষ মানুষের জন্য’ নামের একটি সেবামূলক ফাউন্ডেশন। সেই সংগঠনের মাধ্যমে প্রতিটি ঈদ ও পূজায় সাধ্যমতো অসহায়দের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। আশরাফুল ইসলাম নয়নের ভাষ্য, “চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই বা না হই, মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর এই চেষ্টা আমি আজীবন চালিয়ে যাব। এটা আমার আত্মতৃপ্তি।”
রাজনীতির মাঠে প্রতিশ্রুতির ছড়াছড়ির মাঝে উৎসবের দিনে এতিমদের পাশে দাঁড়িয়ে আশরাফুল ইসলাম নয়নের এই উদ্যোগ স্থানীয় জনমনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। একজন জনপ্রতিনিধির সামাজিক দায়বদ্ধতা কেমন হওয়া উচিত, তা নিয়ে নতুন করে ভাবাচ্ছে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনকেও।
Leave a Reply