1. admin@gonosongbad24.com : admin :
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০১:১৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
চকরিয়ায় প্রশাসনের নির্দেশনার পরও বৃত্তি আয়োজনের অভিযোগ ধামইরহাটে অসহায় ৮০ পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ জয়পুরহাটে বসতঘরের আলমারিতে ৯০০ টাপেন্টাডল, ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার রাণীনগরে জাতীয় যুব দিবস উদযাপন নওগাঁয় জেলা পুলিশের অভিযানে উদ্ধার ৮০টি হারানো মোবাইল, মালিকদের কাছে হস্তান্তর নওগাঁয় ডিবি পুলিশের রাতভর অভিযান, ২৪ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ৪ বদলগাছীতে যুবদলের কর্মীসভা অনুষ্ঠিত ভুয়া চিকিৎসাপত্র আর ৯ গুলির ‘নাটক’: শেখ হাসিনাসহ ৮৪ আসামিকে অব্যাহতির সুপারিশ পুলিশের বগুড়ার কাহালুতে গলায় ফাঁস দিয়ে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু  বদলগাছী হাসপাতালে দুই নার্সের রোস্টার বিরোধ: সহকর্মীকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করার অভিযোগ, তিন দিনেও ব্যবস্থা নেই বদলগাছীর বিলাশ বাড়ী ইউনিয়নে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ সিজন-২-এর উদ্বোধন নওগাঁয় পুলিশের অভিযানে দুটি চোরাই চার্জার অটোরিকশা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১ কুড়িগ্রামে এসএসবিসি প্রকল্পের আয়োজনে মাতৃ, নবজাতক, শিশু, কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য ও বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে মতবিনিময় সভা বদলগাছীতে ভিডব্লিউবি’র ১৯০০ কেজি চাল জব্দ: বাজারে বিক্রির সময় গুদাম থেকে আটক শেরপুর সীমান্তে ১৪৭ বোতল ইস্কাফ সিরাপ জব্দ বদলগাছীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতারণা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে গ্রেপ্তার ২, মোটরসাইকেল উদ্ধার রাণীনগরে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেলের কাজ ৮৫ শতাংশ সম্পন্ন, জুলাইয়ে চালু আমু-শাজাহানসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের হেভিওয়েট নেতাদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ভারতে প্রবেশ প্রায় বন্ধ, শেরপুর সীমান্তে আটকে পড়া হাতিগুলোর কী হবে? ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বই মুদ্রণজনিত ত্রুটি সংশোধনে ফেরতের নির্দেশ ‘উই রিভোল্ট’—পাঠ্যবইয়ে যেভাবে তুলে ধরা হচ্ছে জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক ডায়েরির কথা সরকারের সমালোচনা করায় নারীকে পুলিশে দিল বিএনপি নেতা-কর্মীরা বিভাগীয় কমিশনারের নির্দেশেও তথ্য দেয়নি সিলেট জেলা প্রশাসন দিনের ছবি (২৬ অক্টোবর, ২০২৬) কতটা ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় অর্ণব, কবে-কোথায় আঘাত হানবে শুভ নাকি অশুভ শক্তি ঢাকা-কক্সবাজার রুটে আজ থেকে চলবে ‘মহানগর এক্সপ্রেস’ শিল্পের সঙ্গে উচ্চশিক্ষার যোগসূত্র গড়ছে বিইউএফটি চিকিৎসাশিক্ষায় ৬৩ শতাংশই ছাত্রী, ডেন্টাল ও নার্সিংয়েও এগিয়ে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর বেতন বৃদ্ধিতে ধীরে চলো নীতি ধর্ম যার যার… ইউরোপজুড়ে তরুণদের বিক্ষোভ, কেন ফুঁসছে জেন–জি? মধ্যপ্রাচ্যে ভেতরে-ভেতরে ‘লিবারেল বিপ্লব’ নিষিদ্ধ হয়েছিল নাটকটি, স্তালিন দেখেছিলেন ১৪ বার মাদক কারবার: দম্পতির ব্যাংক হিসাবে ১৩ কোটি লেনদেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে চতুর্থ মেয়াদে জয়ী লুলা মাদারীপুরের চরমুগরিয়া: ইকোপার্কের নির্মাণকাজ বন্ধ, চুরি হচ্ছে মালামাল সৌদিতে নিরাপত্তাঝুঁকি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ, মার্কিন নাগরিকদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ সৌদি আরবে থাকা রোহিঙ্গাদের জন্য বিশেষ পাসপোর্ট জাপানের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভুটানের বিপক্ষে থাকছেন হামজা-ফারহান দীর্ঘদিনের ক্ষমতার অবসান, সার্বিয়ার নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের জয় সিলেটে ২০ শ্রমিকের পরিবার পেল ১০ লাখ টাকা অনুদান এমবাপ্পের জোড়া গোলে তছনছ বার্সার ঘর মির্জাপুরে মহাসড়কের পাশে পড়ে আছে মেয়াদোত্তীর্ণ সরকারি ওষুধ মিথিলার কণ্ঠে নতুন গান ‘ভালোবাসি আমি তোমায় বোঝাবো’ চিকিৎসাসেবা বঞ্চিত পাঁচ লাখ মানুষ ডেন্টাল হাইজিনিস্ট থেকে শিল্পী, ফ্লোরিডায় উদ্যোক্তা হিসেবে এগিয়ে চলেছেন সন্দ্বীপের জাহান রিমা চট্টগ্রাম থেকে পরীমনির জন্য ফুল পাঠালেন কে? জয়ের প্রশ্নে নায়িকার জবাব

ছুটির দিনগুলোতে ঘুরে দেখার মতো নওগাঁর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও ঐতিহাসিক স্থান

  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৪
  • ২২৫ বার পঠিত

গণ সংবাদ:

বাংলার বিভিন্ন জনপদে ছড়িয়ে–ছিটিয়ে আছে ধ্বংসপ্রাপ্ত নানা পুরাকীর্তি। প্রাচীন সভ্যতা আর সংস্কৃতির তেমন এক বিচরণভূমি দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জনপদ নওগাঁ। প্রাচীন বাংলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে নওগাঁর প্রত্নতাত্ত্বিক ও প্রাচীন স্থাপনা ঘুরে দেখা ভ্রমণপিপাসু মানুষের কাছে হতে পারে অনন্য অভিজ্ঞতা।

 

এই জেলায় আছে হাজার বছর আগের মহাবিহার (প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়) সোমপুর বিহার, জগদ্দল বিহার, অগ্রপুরী বিহার, বটগোহালী বিহার ও হলুদ বিহারের ধ্বংসস্তুপ। দেখা মিলবে বাংলায় কৈবর্ত বিদ্রোহের স্মারক দিব্য স্তম্ভ, ভীমের পান্টি, যাতে পাথরে খোদাই করা আছে হাজার বছর আগের ইতিহাসের কিছু অংশ। আরও আছে মুঘল আমলের দুর্গ শহরখ্যাত মাহীসন্তোষ। আলাউদ্দিন হোসেন শাহর আমলে নির্মিত স্থাপত্যশৈলীর অনন্য নির্দশন কুসুম্বা মসজিদ। এর বাইরেও প্রাচীন ইতিহাস ও ঐতিহ্যের নানা সাক্ষ্য বহন করে চলেছে নাথ সম্প্রদায়ের তীর্থস্থান প্রাচীন স্থাপনা যোগীঘোপা।

 

সোমপুর বিহার:

বাংলাদেশে ইউনেসকোর স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বিশ্ব ঐতিহ্যের অন্যতম নিদর্শন পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার। এটার প্রকৃত নাম সোমপুর বিহার। জায়গাটি নওগাঁ সদর থেকে ৩৪ কিলোমিটার উত্তর দিকে বদলগাছী উপজেলায় পড়েছে। আবার জয়পুরহাটের জামালগঞ্জ রেলস্টেশন থেকে ৫ কিলোমিটার পশ্চিম দিকে এই বিহার। ধ্বংসপ্রাপ্ত এই প্রাচীন বৌদ্ধবিহারটি কালের বিবর্তনে জঙ্গলাকীর্ণ অবস্থায় পড়ে ছিল। ১৯২৩ সালে এর খনন শুরু হয়। ১৯৩৪ সালে শেষ হয়। জানা যায়, পাল বংশের শাসনামলে দ্বিতীয় রাজা ধর্মপাল অষ্টম শতকে পিতৃভূমি বরেন্দ্রে এক বিশাল বৌদ্ধমন্দির স্থাপনের জন্য পাহাড়পুরে সোমপুর বিহার স্থাপন করেন। খননকালে প্রাপ্ত একটি মাটির সিল থেকে জানা যায়, এটি সোমপুর বিহার। ২৭ একর জমির ওপরে এটি স্থাপিত। এটি এশিয়ার বৃহত্তম বিহার। বৌদ্ধভিক্ষুদের বসবাসের জন্য এর চতুর্দিকে সারিবদ্ধভাবে ১৭৭টি কক্ষ ছিল।

 

সমগ্র বিহার প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। উত্তর দিকে প্রবেশপথ ছিল। মূল দালানে ওঠার সিঁড়িও ছিল। এটি দুর্গের মতো করে তৈরি করা হয়েছিল। এর প্রধান মন্দিরের ভিত্তিমূল–সংলগ্ন দেয়ালে ৩৬টি পাথরের মূর্তি আছে। ভেতরের মন্দিরের গায়ে পোড়ামাটির দুই হাজার চিত্রফলক আছে। খননকালে পোড়ামাটির প্রায় ৮০০ চিত্রফলক বিক্ষিপ্তভাবে পড়ে থাকা অবস্থায় পাওয়া যায়।

 

এই বিহার জ্ঞান-বিজ্ঞান, মীমাংসা ও ধর্মশাস্ত্র চর্চার জন্য একটি উচ্চতর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা লাভ করেছিল। পৃথিবীর নানা দেশে থেকে এখানে শিক্ষার্থীরা জ্ঞানলাভের জন্য আসতেন। আচার্য অতীশ দীপঙ্কর সোমপুর বিহারে কিছুকাল বাস করেছেন। তাঁর গুরু রত্নাকর শান্তি সোমপুর বিহারের মহাস্থবির ছিলেন। এখানে আরও ছিলেন চর্যাপদের গীতিকার কাহ্নপা ও তাঁর গুরু জলন্ধরী পা ওরফে হাড়ী পা। এখানকার উদ্ধারকৃত প্রত্নবস্তু নিয়ে একটি জাদুঘর তৈরি করা হয়েছে। অতিথিদের থাকার জন্য আছে বাংলো।

 

হলুদ বিহার:

পাহাড়পুরের ঠিক এক কিলোমিটার আগে পড়বে আরেকটি বিহার। বদলগাছী উপজেলার বিলাসবাড়ি ইউনিয়নের দ্বীপগঞ্জ গ্রামে এটি অবস্থিত। এটি পাহাড়পুরের সমসাময়িক একটি বৌদ্ধবিহার। এটিও অন্তত হাজার বছরের প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমান হলুদ বিহার তথা দ্বীপগঞ্জ গ্রাম পুরোটাই প্রাচীন জনপদের ধ্বংসাবশেষের ওপর অবস্থিত বলে অনুমান করা যায়। এই গ্রামের সবখানেই প্রাচীন ইট, নকশা করা ইট, পোড়ামাটির চিত্রফলকের টুকরা, কোনো কোনো স্থানে প্রাচীন দালানের ভিত্তিচিহ্নও চোখে পড়বে পর্যটকদের।

 

বটগোহালী বিহার:

পাহাড়পুর বিহার থেকে তিন কিলোমিটার উত্তর–পশ্চিম দিকে একটি প্রাচীন গ্রাম আছে। নাম বটগোহালী। এখানে একটি প্রাচীন জৈনবিহার ছিল। পাহাড়পুর বিহার খননকালে একটি পাণ্ডুলিপি পাওয়া যায়। এই লিপি থেকে জানা যায়, এক ব্রাহ্মণ দম্পতি বটগোহালীতে অবস্থিত একটি জৈনবিহারের ‘অইত’ পূজা এবং একটি বিশ্রামাগারের জন্য কিছু রাষ্ট্রীয় জমি ক্রয় ও দান করা হয়েছিল। এই জৈনবিহারের প্রধান ছিলেন বিখ্যাত জৈনগুরু গুহ নন্দী এবং তাঁর বহু শিষ্য ছিলেন বলে জানা যায়। খ্রিষ্ট্রীয় পঞ্চম শতাব্দীতে জৈনবিহারটি যে একটি বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান ছিল, পাণ্ডুলিপিটি তা প্রমাণ করে।

 

জগদ্দল বিহার:

পাহাড়পুর বিহার থেকে আরও ১৮-২০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে ধামইরহাট উপজেলা। এ উপজেলায় আরও কয়েকটি প্রাচীন নির্দশন আছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য জগদ্দল বিহার। এটি ধামইরহাট উপজেলা সদর থেকে আট কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত। ইতিহাসবিদদের মতে, বিহারটি পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের সমসাময়িক সময়ে নির্মিত। ‘আইন-ই-আকবরী’–র রচয়িতা আবুল ফজল এ স্থানকে রমৌতি বলে উল্লেখ করেছেন। রাজা রামপাল গৌড় রাজ্য পুনরুদ্ধারের পর রামাবতী নগর করেন। সেই নগরে রাজা রামপাল জগদ্দল মহাবিহার প্রতিষ্ঠা করেন। এই বিহারে মূল মন্দির ছাড়াও ভিক্ষুদের বসবাসের জন্য ৫০টি কক্ষ ছিল। পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের মতোই বিহারটি প্রাচীন বাংলার শিক্ষাদীক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল।

 

অগ্রপুরী বিহার:

ধামইরহাট সদর থেকে ১৫ কিলোমিটার পশ্চিমে কাশিপুর মৌজায় আগ্রাদ্বিগুণ বাজারের পশ্চিম পাশে পাহাড়ের মতো উঁচু বিরাট ঢিবি। এর ওপরের অংশ প্রায় সমতল। তিব্বতীয় সাহিত্যে এটাকে অগ্রপুরী বিহার বলা হয়েছে। বৌদ্ধধর্মাবলম্বী পাল রাজাদের আমলে নির্মিত এটি এককালে বৃহৎ প্রতিষ্ঠান ছিল।

 

নাথ সম্প্রদায়ের স্থাপনা:

ধামইরহাট থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দক্ষিণে পত্মীতলা উপজেলায় বাংলার নাথ সম্প্রদায়ের একটি তীর্থস্থান রয়েছে। পত্মীতলা উপজেলার আমইর ইউনিয়নে প্রাচীন ইছামতী নদীর পশ্চিম পাশে যোগীঘোপা বা যোগীগোফায় এই তীর্থস্থান। এখানে নাথ সম্প্রদায়ের কিছু প্রাচীন স্থাপনা আছে। ধারণা করা হয়, এই জায়গার কাছেই আমইর এলাকায় পাল রাজা রামপাল প্রতিষ্ঠিত রামাবতী নগরী ছিল।

 

দিবর দিঘি:

নাথ সম্প্রদায়ের তীর্থস্থান থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দক্ষিণ–পশ্চিমে পত্নীতলা উপজেলার দিবর ইউনিয়নে আছে ঐতিহাসিক দিবর দিঘি। এর মাঝখানে ৩০ ফুট উঁচু একটি স্তম্ভ আছে। এর নাম দিব্য স্তম্ভ। এটা কৈবর্ত বিদ্রোহের স্মারক। বলা হয়, এটি প্রথম সফল বাঙালি বিদ্রোহের প্রতীক। রাজা দ্বিতীয় মহিপাল ১০৭০ খ্রিষ্টাব্দে গৌড় বরেন্দ্রর সিংহাসনে বসেন বলে অনুমান করা হয়। তাঁর সময় কৈবর্ত প্রজারা বিদ্রোহ শুরু করেন। এ যুদ্ধে মহিপাল পরাজিত ও নিহত হন। কৈবর্ত প্রজাদের পক্ষে বরেন্দ্র রাজা দিব্য সিংহাসনে বসেন। দিব্য তাঁর বিজয়চিহ্ন হিসেবে দিবর নামের এক জায়গায় একটি জলাশয় খনন করেন এবং স্তম্ভ নির্মাণ করেন। আজও কালের সাক্ষী হয়ে অনেক স্মৃতি বুকে নিয়ে দিঘির মাঝখানে স্তম্ভটি দাঁড়িয়ে আছে।

 

প্রাচীন শহর মাহীসন্তোষ:

ধামইরহাট উপজেলা সদর থেকে প্রায় আট কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে পাল রাজা মহিপাল স্থাপিত বাংলার প্রাচীন শহর মাহীসন্তোষ। মুঘল আমলে এটি এ অঞ্চলের একটি দুর্গ শহর হিসেবে পরিচিত ছিল। এরও আগে সুলতানি আমলে এখানে একটি বিশ্ববিদ্যালয় সমমানের মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। যেখানে ভারতবর্ষসহ মধ্যপ্রাচ্যের ছাত্ররাও এসে অধ্যয়ন করেছেন। এখানে আছে বখতিয়ার খলজির অন্যতম সেনাপতি শিরন খলজির মাজার। শহরটি বর্তমানে ধ্বংসপ্রাপ্ত। মাটি খুঁড়লে প্রাচীন আমলের প্রচুর ইট–পাথর পাওয়া যায়। স্থানীয় লোকজন সেগুলো তুলে বাড়িঘর বানিয়েছেন।

 

কুসুম্বা মসজিদ:

নওগাঁ শহর থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার পশ্চিমে এবং মান্দা উপজেলার সদর থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার পশ্চিমে রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কের পাশে কুসুম্বা গ্রামে অবস্থিত কুসুম্বা মসজিদ। পাথরের তৈরি এই মসজিদের দেয়ালজুড়ে আছে প্রাচীন টেরাকোটার কাজ। আছে জ্যামিতিক নকশার আদলে পোড়ামাটির সুদৃশ্যপ কারুকাজ। মিহরাবে বিচিত্র ফুল, লতাপাতা, ঝুলন্ত শিকল ও মনোরম শিল্পকর্ম। প্রায় ৪৬৪ বছরের পুরোনো এই মসজিদ স্থাপত্য নান্দনিকতায় আজও মুগ্ধতা ছড়ায়।

প্রাচীন পুরাকীর্তি ছাড়াও এখানে আছে বলিহার রাজবাড়ি, দুবলহাটি রাজবাড়ি ও পতিসরে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছারিবাড়ি। বলিহার রাজবাড়ি নওগাঁ শহর থেকে ১৮ কিলোমিটার পশ্চিমে নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়ক–সংলগ্ন বলিহার গ্রামে অবস্থিত। দুবলহাটি রাজবাড়ি নওগাঁ শহর থেকে পাঁচ কিলোমিটর উত্তরে দুবলহাটি বাজার এলাকায় অবস্থিত। পতিসর রবীন্দ্রকুঠিবাড়ি নওগাঁ শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটর উত্তর-পূর্বে আত্রাই উপজেলার পতিসর এলাকায় নাগর নদের তীরে অবস্থিত।

 

ধান, চাল ও আম উৎপাদনে প্রসিদ্ধ নওগাঁয় বিস্তীর্ণ ফসলি মাঠ আর বিশাল বিশাল আমবাগানের সৌন্দর্য মুগ্ধ করে পর্যটকদের। জবই বিল, ধামইরহাটের আলতাদিঘি জাতীয় উদ্যান, রানীনগরের রক্তদহ বিল ও নওগাঁ সদর উপজেলার হাঁসাইগাড়ি বিলের অপরূপ সৌন্দর্য তো আছেই। শীতকালে এসব জলাশয়ে দেখা মেলে পরিযায়ী পাখির।

Facebook Comments Box

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরও খবর
Theme Customized By Shakil IT Park