
আবু মুসা স্বপন, ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধি
নওগাঁর ধামইরহাটে গভীর রাতে বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর পরিদর্শন করেছেন নওগাঁ-২ (ধামইরহাট-পত্নীতলা) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মো. এনামুল হক।
রোববার (৪ অক্টোবর) সকালে উপজেলার দক্ষিণ ফার্শিপাড়া গ্রামে গিয়ে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের অভিযোগ শোনেন। এ সময় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
ভুক্তভোগী সোলায়মান আলী অভিযোগ করেন, গত ১ অক্টোবর রাত দেড়টার দিকে মোজাম্মেল হকসহ ৫০-৬০ জন লোক তার বাড়িতে হামলা চালান। এ সময় বাড়িতে থাকা লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। হামলাকারীরা বাড়িঘরে ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সোলায়মান আলীর দাবি, হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় তাঁর বাড়ির পাঁচজন ভাড়াটিয়াসহ প্রায় আট লাখ টাকার মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত বা লুট হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি ধামইরহাট থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত তোজাম্মেল হক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিরোধপূর্ণ জমিটি তিনি বৈধভাবে কিনেছেন। জমিটির অনলাইন খাজনা-খারিজ তাঁর নামে রয়েছে এবং আদালতের রায়ও তাঁর পক্ষে রয়েছে। প্রতিপক্ষ আদালতে আপিল করলেও তা খারিজ হয়ে গেছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, জমিটি তাঁর দখলে রয়েছে এবং তিনি কোনো হামলার সঙ্গে জড়িত নন। তৃতীয় কোনো পক্ষের মাধ্যমে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে থাকলে সে বিষয়ে তিনি অবগত নন।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে কথা বলার পর এমপি এনামুল হক বলেন, “আইন সবার জন্য সমান। কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করলে তা মেনে নেওয়া যায় না। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে এর বিচার হওয়া উচিত।” তিনি ভুক্তভোগীদের প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তার আশ্বাস দেন।
ধামইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিন্টু রহমান বলেন, বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী জমির মালিকানা বিষয়ে তোজাম্মেল হকের পক্ষে সিদ্ধান্ত রয়েছে। এ কারণে উভয় পক্ষকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে বিরোধের বিষয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে কোনো পক্ষ আইন ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
Leave a Reply