
নিজস্ব প্রতিনিধি:
বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে নওগাঁর ঐতিহাসিক বলিহার রাজবাড়ী ও পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার পরিদর্শন করেছেন রাজশাহীতে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার মনোজ কুমার।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নওগাঁ সদর উপজেলার ঐতিহাসিক বলিহার রাজবাড়ী পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপু ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে তাকে অভ্যর্থনা জানান। পরে রাজবাড়ী চত্বরে পৌঁছালে স্থানীয়রা তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।
পরিদর্শনকালে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার ও সংসদ সদস্য রাজবাড়ীর বিভিন্ন স্থাপনা, মন্দির ও ঐতিহাসিক নিদর্শন ঘুরে দেখেন। এ সময় স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী ও মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ রাজবাড়ী ও মন্দিরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সংরক্ষণের দাবি জানান।
বলিহার রাজেশ্বরী দুর্গা মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক খোকন চন্দ্র প্রামানিক বলেন, মন্দিরের উন্নয়ন ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার মনোজ কুমার।
সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপু বলেন, “বলিহার রাজবাড়ী শুধু একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান নয়, এটি আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতীক। এই প্রত্নসম্পদ রক্ষা ও চত্বরের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”
পরে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার বদলগাছী উপজেলার ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার ও জাদুঘর পরিদর্শন করেন। দুপুর থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত তিনি বৌদ্ধবিহারের বিভিন্ন স্থাপনা ও জাদুঘর ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি প্রত্নস্থলটির বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে অবগত হন এবং পরিদর্শন বহিতে নিজের মন্তব্য লিখে যান।
পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের সহকারী পরিচালক (কাস্টোডিয়ান) মোহাম্মদ ফজলুল করিম আরজু বলেন, পরিদর্শনকালে মনোজ কুমার বিহার ও জাদুঘরের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানতে চান এবং স্থানটির প্রশংসা করেন। তিনি ভবিষ্যতে পরিবার নিয়ে আবারও পাহাড়পুরে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

উল্লেখ্য, পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার বা সোমপুর মহাবিহার পাল আমলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থল। ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়। অন্যদিকে, বলিহার রাজবাড়ী নওগাঁর প্রাচীন জমিদারি ঐতিহ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে পরিচিত।
Leave a Reply