
মেহেদি হাসান পলাশ, শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ
অনেকের কাছে ফুচকা শুধু কোনো খাবার নয়, এটি নিখাদ এক আবেগ। আবার ফুসকা প্রেমিরা কেউ কেউ মনে করে থাকেন মন খারাপ? সমাধান একটাই- এক প্লেট টক ঝাল ফুচকা। তবে এই পছন্দের ফুসকা খাওয়াই যে বিপদ হবে, অসুস্থ হয়ে পড়বে প্রায় ২০জন, কে বা জানতো! তবে ঘটেছে এমনটিই।
বগুড়ার শেরপুর উপজেলার মহিপুর এলাকায় ভাইরাল জলমাচাং গিয়ে স্বাদের ফুসকা খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন প্রায় ২০ জন এদের মধ্যে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয় ৯জন কে। বাকিদের অবস্থা আশঙ্কজনক হওয়াই তাদেরকে বগুড়া শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানা যায়।
এই বিষয়ে ভুক্তভোগি ও তাদের পরিবারের সাথে কথা বলা হলে তারা জানান গত বৃহস্পতিবার (২২অক্টোবর) গাড়িদহ ইউনিয়নের মহিপুর এলাকায় জলমাচাং গিয়ে ফুসকা, চটপটি খাওয়ার পড়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন, গুরুতর অসুস্থ হওয়ার কারণে শেরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এসে ভর্তি করা হয়েছে এবং অনেককেই বগুড়া শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপালে ভর্তি করা হয়েছে।
আরও জানা যায়, ফুসকা খেয়ে বাড়িতে আসার পরে একই পরিবারের (১১জন) সদস্যের বমি, ডায়রিয়া ও পেট ব্যাথা শুরু হয় এবং অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়াই তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং চিকিংসা নিচ্ছেন তারা।
বিশ্লেষকদের মতে ফুচকা এবং চটপটি এদেশের অত্যন্ত জনপ্রিয় স্ট্রিট ফুড বা রাস্তার খাবার। তবে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি ফুচকা ও চটপটি খাওয়ার ফলে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। টক পানিকে অতিরিক্ত টক বা মুখরোচক করতে অনেক সময় তেঁতুলের বদলে ক্ষতিকর ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাসিড (যেমন- সাইট্রিক অ্যাসিড বা হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড) ব্যবহার করা হয়, যা পাকস্থলীর মারাত্মক ক্ষতি করে। বিক্রেতাদের নোংরা হাত, ঘাম এবং ধুলাবালির মাধ্যমে খাবারে E. coli বা Salmonella’র মতো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করে। চটপটির ডাল বা ফুচকার আলু অনেক সময় আগের দিনের বা পঁচা থাকে, যা ফুড পয়জনিং এর প্রধান কারণ। এই বিষয় গুলো খেয়াল রেখে খাওয়া উচিত বিশেষ করে সবচেয়ে নিরাপদ হচ্ছে বাইরের অস্বাস্থ্যকর খাবার এড়িয়ে চলা। সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যকর উপায়ে বাসায় ফুচকা ও চটপটি তৈরি করে খাওয়া সবচেয়ে ভালো ও নিরাপদ মাধ্যম বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
Leave a Reply