1. admin@gonosongbad24.com : admin :
রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১১:২০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নওগাঁয় জেলা পুলিশের অভিযানে উদ্ধার ৮০টি হারানো মোবাইল, মালিকদের কাছে হস্তান্তর নওগাঁয় ডিবি পুলিশের রাতভর অভিযান, ২৪ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ৪ বদলগাছীতে যুবদলের কর্মীসভা অনুষ্ঠিত ভুয়া চিকিৎসাপত্র আর ৯ গুলির ‘নাটক’: শেখ হাসিনাসহ ৮৪ আসামিকে অব্যাহতির সুপারিশ পুলিশের বগুড়ার কাহালুতে গলায় ফাঁস দিয়ে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু  বদলগাছী হাসপাতালে দুই নার্সের রোস্টার বিরোধ: সহকর্মীকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করার অভিযোগ, তিন দিনেও ব্যবস্থা নেই বদলগাছীর বিলাশ বাড়ী ইউনিয়নে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ সিজন-২-এর উদ্বোধন নওগাঁয় পুলিশের অভিযানে দুটি চোরাই চার্জার অটোরিকশা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১ কুড়িগ্রামে এসএসবিসি প্রকল্পের আয়োজনে মাতৃ, নবজাতক, শিশু, কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য ও বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে মতবিনিময় সভা বদলগাছীতে ভিডব্লিউবি’র ১৯০০ কেজি চাল জব্দ: বাজারে বিক্রির সময় গুদাম থেকে আটক শেরপুর সীমান্তে ১৪৭ বোতল ইস্কাফ সিরাপ জব্দ বদলগাছীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতারণা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে গ্রেপ্তার ২, মোটরসাইকেল উদ্ধার রাণীনগরে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেলের কাজ ৮৫ শতাংশ সম্পন্ন, জুলাইয়ে চালু আমু-শাজাহানসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের হেভিওয়েট নেতাদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ভারতে প্রবেশ প্রায় বন্ধ, শেরপুর সীমান্তে আটকে পড়া হাতিগুলোর কী হবে? ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বই মুদ্রণজনিত ত্রুটি সংশোধনে ফেরতের নির্দেশ ‘উই রিভোল্ট’—পাঠ্যবইয়ে যেভাবে তুলে ধরা হচ্ছে জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক ডায়েরির কথা সরকারের সমালোচনা করায় নারীকে পুলিশে দিল বিএনপি নেতা-কর্মীরা বিভাগীয় কমিশনারের নির্দেশেও তথ্য দেয়নি সিলেট জেলা প্রশাসন দিনের ছবি (২৬ অক্টোবর, ২০২৬) কতটা ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় অর্ণব, কবে-কোথায় আঘাত হানবে শুভ নাকি অশুভ শক্তি ঢাকা-কক্সবাজার রুটে আজ থেকে চলবে ‘মহানগর এক্সপ্রেস’ শিল্পের সঙ্গে উচ্চশিক্ষার যোগসূত্র গড়ছে বিইউএফটি চিকিৎসাশিক্ষায় ৬৩ শতাংশই ছাত্রী, ডেন্টাল ও নার্সিংয়েও এগিয়ে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর বেতন বৃদ্ধিতে ধীরে চলো নীতি ধর্ম যার যার… ইউরোপজুড়ে তরুণদের বিক্ষোভ, কেন ফুঁসছে জেন–জি? মধ্যপ্রাচ্যে ভেতরে-ভেতরে ‘লিবারেল বিপ্লব’ নিষিদ্ধ হয়েছিল নাটকটি, স্তালিন দেখেছিলেন ১৪ বার মাদক কারবার: দম্পতির ব্যাংক হিসাবে ১৩ কোটি লেনদেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে চতুর্থ মেয়াদে জয়ী লুলা মাদারীপুরের চরমুগরিয়া: ইকোপার্কের নির্মাণকাজ বন্ধ, চুরি হচ্ছে মালামাল সৌদিতে নিরাপত্তাঝুঁকি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ, মার্কিন নাগরিকদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ সৌদি আরবে থাকা রোহিঙ্গাদের জন্য বিশেষ পাসপোর্ট জাপানের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভুটানের বিপক্ষে থাকছেন হামজা-ফারহান দীর্ঘদিনের ক্ষমতার অবসান, সার্বিয়ার নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের জয় সিলেটে ২০ শ্রমিকের পরিবার পেল ১০ লাখ টাকা অনুদান এমবাপ্পের জোড়া গোলে তছনছ বার্সার ঘর মির্জাপুরে মহাসড়কের পাশে পড়ে আছে মেয়াদোত্তীর্ণ সরকারি ওষুধ মিথিলার কণ্ঠে নতুন গান ‘ভালোবাসি আমি তোমায় বোঝাবো’ চিকিৎসাসেবা বঞ্চিত পাঁচ লাখ মানুষ ডেন্টাল হাইজিনিস্ট থেকে শিল্পী, ফ্লোরিডায় উদ্যোক্তা হিসেবে এগিয়ে চলেছেন সন্দ্বীপের জাহান রিমা চট্টগ্রাম থেকে পরীমনির জন্য ফুল পাঠালেন কে? জয়ের প্রশ্নে নায়িকার জবাব কোর্তোয়া কেন নেই, দেখে নিন এল ক্লাসিকোয় দুই দলের একাদশ সুরের টানে জমজমাট সিডনি অপেরা হাউস অ্যানফিল্ডে লিভারপুলের ‘প্রথম’ জয়, ম্যানইউনাইটেডের লজ্জার হার ১০০-র পর ২০০ মিটারেও সোনা জিতলেন ইমরানুর ও শিরিন

সরকার বদল মানেই পাঠ্য বইয়ে নতুন সংস্করণ

  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ৬ জানুয়ারী, ২০২৫
  • ৪২৯ বার পঠিত

 

গণ সংবাদ নিউজ ডেস্ক,

নতুন বছরের শুরুতে দেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যবইয়ে সাহিত্যের পাশাপাশি ইতিহাস নির্ভর বিষয়বস্তুতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে অন্তর্বর্তী সরকার।

পরিবর্তিত পাঠ্যসূচি নিয়ে শিক্ষাবিদ, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

বিশেষত, ইতিহাস এবং মুক্তিযুদ্ধের বর্ণনায় আনা সংযোজন-বিয়োজন বিষয়টিকে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।

গত ৫ই অগাস্ট ২০২৪ ইং আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার শিক্ষাক্ষেত্রে সংস্কারের ঘোষণা দেয়। এর অংশ হিসেবে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমের ভিত্তিতে পাঠ্যবইগুলো পরিমার্জন করে।

নতুন বইগুলোতে মুক্তিযুদ্ধের স্বাধীনতার ঘোষণাসহ বেশ কিছু বিষয়ে সংযোজন-বিয়োজন করা হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে লেখা গদ্য, প্রবন্ধ, উপন্যাস ও কবিতা বা বিষয়বস্তু বাদ দেয়া হয়েছে। নতুন করে স্থান দেয়া হয়েছে জুলাই-অগাস্ট আন্দোলনের নানা বিষয়বস্তুসহ নতুন গল্প-কবিতা।

বইয়ের ফ্রন্ট ইনারে শেখ মুজিবুর রহমান এবং মুক্তিযুদ্ধের নানা ইতিহাসের তথ্য ও ছবি যুক্ত থাকতো। সেগুলো এবারের বইগুলোয় দেখা যায়নি। সেইসাথে আগের মতো বইয়ের প্রথম অংশে জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সংগীতও নেই।

এবারে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যবইয়ে পরিবর্তন এসেছে। পাঠ্যবইয়ের পেছনের মলাটে শেখ হাসিনার বাণী বাদ দিয়ে যুক্ত হয়েছে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময়ে শিক্ষার্থীদের আঁকা বিভিন্ন গ্রাফিতি।

পাঠ্যবইয়ের নিয়মিত কিছু লেখক যেমন মুহাম্মদ জাফর ইকবালের লেখা বাদ দেয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) নতুন শিক্ষাক্রম স্থগিত করে ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমের আলোকে ৪১ জন বিশেষজ্ঞ ৪৪১টি পাঠ্যবই পরিমার্জনের কাজ করেছে বলে জানা গিয়েছে।

নতুন বইয়ে এই পরিবর্তন আনার কারণ হিসেবে এনসিটিবির চেয়ারম্যান এ কে এম রিয়াজুল হাসান ইতিহাসে সবার সব অবদান নির্মোহভাবে পাঠ্যবইতে তুলে ধরার প্রচেষ্টার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন,”মু্ক্তিযুদ্ধে যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন তাদের অনেকের অবদানকে অবহেলা, অবজ্ঞা করা হয়েছে, বিদ্বেষবশত অনেকের বিরুদ্ধেও লেখা হয়েছে। পাঠ্যপুস্তককে রাজনৈতিক প্রচারমাধ্যম হিসেবেও ব্যবহার হয়েছে। এজন্য প্রজন্মের সামনে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা জরুরি হয়ে পড়েছিল।”

বাংলাদেশের ইতিহাসে সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পাঠ্যবইয়ের বিষয়বস্তু পরিবর্তন বিশেষ করে ইতিহাসের নতুন কোন ব্যাখ্যা যুক্ত হওয়া এবং পুরনো অধ্যায় বাদ দেয়ার একটি ধারা লক্ষ্য করা যায়। সরকার বদলের সঙ্গে সঙ্গে তো বটেই একই সরকারের আমলেও একাধিকবার পাঠ্যবই পরিবর্তন নতুন কিছু নয়।

এনসিটিবি’র তথ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতার পর থেকে শিক্ষাক্রমে আটবার পরিবর্তন এসেছে। ১৯৭৭ সালে প্রথম শিক্ষাক্রম প্রণয়নের পর ১৯৮৬ সালে পাঠ্যবইয়ে পরিমার্জন করা হয়৷ তার পর দফায় দফায় বইয়ে পরিবর্তন আনা চলতেই থাকে।

১৯৯২ সালে প্রাথমিক স্তরে, ১৯৯৫ সালে মাধ্যমিক, ২০০২ সালে প্রাথমিক শিক্ষাক্রমে, এরপর ২০১২ সালে সৃজনশীল পদ্ধতি চালু করা হয়৷ সর্বশেষ ২০২৩ সালের পরিবর্তন-প্রতিটি ধাপেই পাঠ্যবই পুনর্গঠিত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পাঠ্যবই পরিবর্তনের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বড় ভূমিকা পালন করে আসছে।

এ প্রসঙ্গে এনসিটিবি’র চেয়ারম্যান এ কে এম রিয়াজুল হাসান বলেন, “আগের বইগুলোয় শেখ মুজিবর রহমানকে নিয়ে যতো অতিকথন হয়েছে সেগুলো বাদ দেয়া হয়েছে। তার যতোটা অবদান, সেটুকু উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি কোনভাবে বাতিল হন নাই”।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের টানা প্রায় ১৫ বছরের শাসনামলে প্রায় প্রতিটি শ্রেণির পাঠ্যবইতে মুক্তিযুদ্ধ ও শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকাকে বেশি প্রাধান্য দেয়া হলেও নতুন বইতে মুক্তিযুদ্ধে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর অবদানকে হাইলাইট করার চেষ্টা লক্ষ্য করা গিয়েছে।

যুক্ত হয়েছে রাজনীতিবিদ এ কে ফজলুল হক, মুসলিম লীগ ও পাকিস্তান আন্দোলনের প্রধান সংগঠক হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মুক্তিযুদ্ধের সময় অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদ, অস্থায়ী সরকারের রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি জেনারেল আতাউল গণি ওসমানী ও মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া মতো ব্যক্তিদের কথা।

 

মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা ও বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের পাঠ্যক্রমে যুক্ত করার বিষয়টিকে স্বাগত জানালেও কয়েকটি বিষয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এবারের পাঠ্যবইয়ে পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আগের মতোই রাজনৈতিক প্রভাব, ক্ষোভ ও বিভাজনের প্রতিফলন পেয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের শিক্ষক মো. মজিবুর রহমান বলেন “পাঠ্যবইয়ে ইতিহাসের অধ্যায়ে স্বাধীনতার পক্ষে কারা ছিল, কারা নেতৃত্ব দিয়েছিল তাদের সবার কথা যেমন থাকা দরকার তেমনি কারা বিরোধী ছিল, রাজাকার, আল বদর, আল শামস তাদের কথাও থাকা দরকার। আজকে কারো অবদানের কথা বড় করে দেখানো হলো, কাউকে ছোট করা হলো। এগুলো উদ্দেশ্যমূলক রাজনৈতিক প্রভাব।”

বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে শেখ মুজিবুর রহমান মূল নেতৃত্বে থাকলেও তার অবদানকে তুলনা করা বা খাটো করে দেখানোর প্রবণতা রয়েছে অভিযোগ করে এর সমালোচনা করছেন তিনি।

তিনি বলেন, অনেকের ধারণা “এবারে মনে হচ্ছে যেন চব্বিশকে দিয়ে একাত্তরকে ম্লান করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটা ভুল চিন্তা। মুক্তিযুদ্ধের মূল নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু ছিলেন, তার নাম নিয়ে যুদ্ধ হয়েছে, এটা সবাই জানে। এটা দলের কোনও বিষয় না। ইতিহাসে যার যে অবদান সেটা তার মতোই লিখতে হবে”।

ছবির ক্যাপশানঃ তৃতীয় শ্রেণির একটি পাঠ্যবইয়ে ‘আমাদের চার নেতা’

(এ কে ফজলুল হক, আবদুল হামিদ খান ভাসানী, হোসেন সোহরাওয়ার্দী, শেখ মুজিবুর রহমান)

কিন্তু দফায় দফায় ইতিহাসের পাঠে বার বার এই বদল হওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। এর ফলে শিক্ষার ওপর, শিক্ষার্থীদের ওপর যে বিরূপ প্রভাব পড়ে সে বিষয়ে তারা নজর দেয়ার কথা বলেছেন।

অধ্যাপক মো. মজিবুর রহমানের মতে, প্রতিটি সরকার তাদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে শিক্ষাব্যবস্থাকে পরিচালিত করতে চেয়েছে। যখন যে সরকার এসেছে তারা তাদের মতো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে রাজনৈতিক পক্ষপাতমূলক দৃষ্টিভঙ্গী থেকে ইতিহাসকে লিখতে চেয়েছে। ইতিহাস তো কোনও ইচ্ছেমতো লেখার বিষয় না।

তিনি ব্যাখ্যা করছেন, এর ফলে পাঠ্যবই বার বার রাজনৈতিক আদর্শের প্রচার মাধ্যম হয়েছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের হাতিয়ার হয়েছে। ফলে বার বার ইতিহাসের ওপর কাঁচি চলেছে। এতে শিক্ষার উদ্দেশ্য যে ‘জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা’ সেটা বিনষ্ট হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

ইতিহাসের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর প্রবণতা শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভ্রান্তি তৈরি করে, তেমনি বিভিন্ন বইয়ে ভিন্ন ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা ইতিহাস, শিক্ষার ধারাবাহিকতা এবং শিক্ষার মৌলিক উদ্দেশ্য ব্যাহত করছে বলে মনে করেন তিনি।

এভাবে রাজনীতির পালাবদলের সাথে সাথে পাঠ্যপুস্তকের ইতিহাসের পরিবর্তন ঠেকাতে শিক্ষক, অভিভাবক, প্রশাসন, শিক্ষা বিশেষজ্ঞ সবার সমন্বয়ে একটি নিরপেক্ষ শিক্ষা কমিশন গঠন এবং শিক্ষানীতি প্রণয়ন করার ওপর তিনি জোর দিয়েছেন।

তার মতে, নিরপেক্ষ শিক্ষা কমিশন পাঠ্যপুস্তকের কারিকুলাম তৈরি করলে ইতিহাস নিয়ে প্রকৃত ও অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা যাবে। ফলে ইতিহাস নিয়ে আর বিভ্রান্তির সুযোগ থাকবে না।

এজন্য পাঠ্যবই প্রণয়ন ও পরিবর্তনের আগে শিক্ষা কমিশনের প্রত্যেক অংশীজনের নিরপেক্ষ পর্যালোচনা জরুরি বলে তিনি জানান।

প্রাথমিকে পরিবর্তন

দ্বিতীয় শ্রেণির বাংলা বইয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ওপর লেখা ‘সোনার ছেলে’ বাদ দেওয়া হয়েছে।

তৃতীয় শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের একক জীবনী বাদ দিয়ে সেখানে ‘আমাদের চার নেতা’ নামে নতুন একটি অধ্যায় যুক্ত করা হয়েছে। এতে চার নেতা হিসেবে স্থান পেয়েছেন এ কে ফজলুল হক, আবদুল হামিদ খান ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও শেখ মুজিবুর রহমান।

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ে প্রত্যেকের ছবিসহ তাদের সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হয়েছে।

বইটিতে জুলাই আন্দোলনের বিষয়বস্তু স্থান পেয়েছে। সেইসাথে ইংলিশ ফর টুডে বই থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট ছেলে শেখ রাসেলকে নিয়ে লেখা ইংরেজি গদ্যটিও।

চতুর্থ শ্রেণির বাংলা বই থেকে বাদ গেছে শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে মমতাজ উদদীনের লেখা ‘বাংলার খোকা’ এবং নির্মলেন্দু গুণের লেখা ‘মুজিব মানে মুক্তি’ কবিতাটি। একই শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ে ‘১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ’ শীর্ষক লেখায় শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণের ছবির পাশাপাশি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার ছবি স্থান পেয়েছে।

 

পঞ্চম শ্রেণির আমার বাংলা বইয়ে ‘আমরা তোমাদের ভুলব না’ শীর্ষক প্রবন্ধে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত আবু সাঈদ ও মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের ছবিসহ লেখা যুক্ত করা হয়েছে। ব্রিটিশ বিরোধী বিপ্লবী মীর নাসির আলী তিতুমীরের সাথে তাদের স্মরণ করা হয়।

একই শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ে ‘আমাদের মুক্তিযুদ্ধ’ শীর্ষক অধ্যায়ের প্রথম অংশে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ছবি প্রথমে বসানো হয়েছে। পাশে রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি।

তার নীচে সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামরুজ্জামানের ছবিও আছে। পুরনো বইয়ে আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ছবি ছিল না।

এই বইয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং পরদিন বঙ্গবন্ধুর পক্ষে পুনরায় ঘোষণা দেন।

পুরোনো বইয়ে লেখা ছিল, ”গ্রেপ্তার হওয়ার পূর্বে ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ।”

সেইসাথে বইটিতে থাকা ‘আমাদের জাতির পিতা’ অধ্যায়টি এবারের পাঠ্যবইয়ে নেই।

মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিকে পরিবর্তন

ষষ্ঠ শ্রেণির চারুপাঠ বইয়ে ‘কার্টুন ব্যঙ্গচিত্র ও পোস্টারের ভাষা’ নামে জুলাই আন্দোলনের ওপর ভিত্তি করে লেখা একটি গদ্য যোগ করা হয়েছে। বাদ দেওয়া হয়েছে রোকনুজ্জামান খানের লেখা ‘মুজিব’ কবিতাটি।

একই শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি বই থেকে ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ প্রবন্ধটি বাদ দেয়া হয়েছে।

ষষ্ঠ শ্রেণির ইংলিশ ফর টুডে বই থেকে ‘সন অব দ্য সয়েল’ এবং ‘মুজিব ইন স্কুল ডেজ’সহ তিনটি লেসনও বাদ দেয়া হয়েছে।

সপ্তম শ্রেণির ‘সপ্তবর্ণা’ বই থেকে সেলিনা হোসেনের লেখা ‘রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন’ গদ্যটি বাদ দেওয়া হয়েছে। এই বইয়ে হাসান রোবায়েতের লেখা ‘সিঁথি’ নামে একটি কবিতা যুক্ত করা হয়েছে। এই কবিতা জুলাই বিপ্লবের ওপর লেখা।

অন্যদিকে গৌরী প্রসন্ন মজুমদারের লেখা ‘শোনো একটি মুজিবরের থেকে’ এবং সুনির্মল বসুর লেখা ‘সবার আমি ছাত্র’ নামে দুটি কবিতা বাদ দেয়া হয়েছে।

সপ্তম শ্রেণির ইংলিশ ফর টুডে বইয়ে জুলাই বিপ্লবের ওপর লেখা ‘আ নিউ জেনারেশন’ এবং ‘আওয়ার উইনার ইন দ্য গ্লোবাল এরেনা’ নামে দুটি নতুন লেসন যুক্ত করা হয়েছে।

অন্যদিকে ‘বঙ্গমাতা: আওয়ার সোর্স অব ইন্সপিরেশন’, ‘বঙ্গবন্ধু’স লাভ ফর স্পোর্টস’ এবং ‘বঙ্গবন্ধু’স রেসপন্স টু ন্যাচারাল ক্যালামিটিস’ নামে তিনটি লেসন বাদ দেওয়া হয়েছে।

অষ্টম শ্রেণির সাহিত্য কণিকা বইয়ে জুলাই বিপ্লবের ওপর লেখা সংকলিত গদ্য ‘গণ অভ্যুত্থানের কথা’ যুক্ত করা হয়েছে। অষ্টম শ্রেণির ইংলিশ ফর টুডে বই থেকে ‘বঙ্গবন্ধু অ্যান্ড বাংলাদেশ’ নামে একটি লেখা বাদ দেওয়া হয়েছে। আর দুটি লেখা যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো জুলাই বিপ্লবের ওপর লেখা ‘উইমেন’স রোলস ইন আপরাইজিং’।

নবম-দশম শ্রেণির বাংলা সাহিত্যবিষয়ক বইয়ে যুক্ত হয়েছে জুলাই অভ্যুত্থানের ওপর লেখা একটি সংকলিত গদ্য। অন্যদিকে ইতিহাস ও সমাজবিজ্ঞান নামে কোনও বই এবারে থাকছে না। ওই বইয়ে ‘বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু: মানবতাবাদী ধারণা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা’ নামে অধ্যায় ছিল।

একই শ্রেণির ইংরেজি বইয়ে জুলাই অভ্যুত্থানের গ্রাফিতি নিয়ে লেখাসহ নতুন তিনটি অধ্যায় যুক্ত হয়েছে।

উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণির বই থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা বায়ান্নর দিনগুলো এবং ইংলিশ ফর টুডে বই থেকে দ্য আনফরগেটেবল হিস্ট্রি অধ্যায়টি বাদ পড়েছে। এছাড়া বাংলা বইয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মজীবনী ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র একটি অংশ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে ছিলো যা এবার বাদ দেওয়া হয়েছে। সেইসাথে তথ্য ও প্রযুক্তি বইটি একাদশের নতুন বইয়ের পিডিএফ তালিকায় পাওয়া যায়নি। আগের এই বইটিতে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে বিষয়ে লেখা ছিলো।

Facebook Comments Box

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরও খবর
Theme Customized By Shakil IT Park