
নিজস্ব প্রতিনিধি:
নওগাঁর বদলগাছী থেকে চুরি যাওয়া ইয়ামাহা R15 মোটরসাইকেল রংপুরের পীরগঞ্জ থেকে উদ্ধার করেছে নওগাঁ জেলা পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মোটরসাইকেলটির অবস্থান শনাক্ত করে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও বদলগাছী থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার শীতলগাড়ী নয়াপাড়া গ্রামের উত্তম কুমারের ছেলে শ্যাম কুমার (২২) এবং পীরগঞ্জ উপজেলার লালদিঘী আরিজপুর গ্রামের তোজাম্মেল মণ্ডলের ছেলে শহিদুল ইসলাম (৪১)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ আগস্ট বিকেল ৩টার দিকে ফুয়াদ নামে এক ব্যক্তি নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার শ্রীকৃষ্ণপুর এলাকায় হামিদুলের বাড়িতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যান। এ সময় তিনি তার ব্যবহৃত ইয়ামাহা R15 মোটরসাইকেলটি বাড়ির বাইরে রেখে অনুষ্ঠানে অংশ নেন। পরে দাওয়াত শেষে বাইরে এসে তিনি দেখতে পান, সেখানে রাখা তার মোটরসাইকেলটি নেই।
ঘটনার পর বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে বদলগাছী থানা পুলিশকে জানানো হয়। মোটরসাইকেলটি খুঁজে না পেয়ে ভুক্তভোগী পুলিশের কাছে বিষয়টি অবহিত করলে চুরির ঘটনা তদন্তে কাজ শুরু করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, ঘটনাটি নওগাঁর পুলিশ সুপারের নজরে আসার পর দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি চুরি যাওয়া মোটরসাইকেলটি উদ্ধার এবং এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য বদলগাছী থানার অফিসার ইনচার্জকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও সাইবার ইউনিটকে তদন্তে সম্পৃক্ত করা হয়।
এরপর পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে চুরি যাওয়া মোটরসাইকেলটির অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চালায়। তদন্তের একপর্যায়ে মোটরসাইকেলটির অবস্থান রংপুর জেলার মিঠাপুকুর ও পীরগঞ্জ এলাকায় শনাক্ত করা হয় বলে পুলিশ জানায়।
পরে নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও বদলগাছী থানা পুলিশের একটি যৌথ দল রংপুরের মিঠাপুকুর ও পীরগঞ্জ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে রাতভর অভিযান চালিয়ে পুলিশ শ্যাম কুমার ও শহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার শহিদুল ইসলামের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শ্যাম কুমারের হেফাজত থেকে চুরি যাওয়া ইয়ামাহা R15 মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তিকে রংপুর থেকে নওগাঁয় নিয়ে আসা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এ ঘটনায় মোটরসাইকেল চুরির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, চুরি করা মোটরসাইকেল অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়ার সঙ্গে কোনো চক্রের সম্পৃক্ততা আছে কি না—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পুলিশ জানিয়েছে, চুরি যাওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধার ও দুইজনকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন তৎপরতায় চুরি যাওয়া যানবাহন উদ্ধারে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং আন্তঃজেলা সমন্বিত অভিযানের কার্যকারিতা আবারও সামনে এসেছে।
Leave a Reply