
মোহাম্মাদ শাহাবুদ্দীনের জন্ম ঈশ্বরদী। আত্নীয় স্বজন বলতে তার স্ত্রী, পুত্র আর পুত্রবধূ। বেকারত্ব ছেলেকে গ্রাস করায় বাবাই সংসার চালিয়ে যাচ্ছেন। ২৫ বছর সিরাজগঞ্জে বাস করছেন।
১৮ বছর হলো পায়ে হেটে পত্রিকা বিক্রয় করে যাচ্ছেন শহরের আনাচে কানাচে। এক চোখে নেই তার আলো তবুও তার দূরদর্শিতায় এগিয়ে তিনি। কখনো প্রখর রোদে কখনো বৃষ্টিতে কাক ভেজা হয়ে জ্বর বাধিয়েও কাজ করতে হয়েছে জীবিকার দায়ে। বয়স কাবু করে ফেললেও তার মনবল তাকে সম্মানের সাথে বাঁচিয়ে রেখেছে। তার মতে যতদিন শরীরে শক্তি আছে ততদিন কাজ করে বেঁচে থাকাতেই জীবনের আসল সৌন্দর্য।
তাসনিম সানজিদার লিখোনির মাধ্যমে উঠে আসে শাহাবুদ্দীনের ৭৯ বছর ধরে পত্রিকা বিক্রি করে সংসার চালানোর জীবন কাহিনী।
শেষ বয়সে একটু আরামের ফুসরতও জীবন কাউকে দেয় না তিনিই তার জ্বলজ্যান্ত দলিল। এই ইট পাথরের শহরে কেই বা কার আপন? তার মতে জীবনে সম্মান আর সহানুভূতি ছাড়া তার প্রাপ্তির খাতা শুন্যই বলা চলে। অবস্থার উন্নতিতে সহায়তার হাত কেউ বাড়ায়নি কখনো। এভাবেই হয়তো কোনো একদিন হারিয়ে যাবে সিরাজগঞ্জের পেপার বিক্রেতা শাহাবুদ্দিন। যে মানুষটা খবর বিক্রি করছেন তার খবর আসলে কে রাখছে কিংবা রাখবে?
Leave a Reply