
ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ার দায়ে নেওয়া বদনা, আংটি ও নাকফুল অবশেষে ফিরে পেয়েছেন বাগেরহাটের চিতলমারীর গৃহবধূ শ্রাবণী হীরা। বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর বিষয়টি তদন্তে নামে সংশ্লিষ্ট এনজিও ডাম ফাউন্ডেশন ফর ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট (ডিএফইডি)।
ডিএফইডির কর্মকর্তারা বুধবার শ্রাবণীর বাড়িতে গিয়ে তাঁর হাতে শখের দুটি বদনা, নাকফুল, আংটি এবং দুটি ফাঁকা স্ট্যাম্প ফেরত দেন। এ সময় শ্রাবণী হীরা সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ডিএফইডি কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপে সন্তোষ জানান।
ঘটনার পর ডিএফইডির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার সাহিদুল কবীর সংশ্লিষ্ট শাখার ম্যানেজার বাসুদেব দেবনাথ ও মাঠকর্মী নেওয়াজ শরীফকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। পাশাপাশি সহকারী ব্যবস্থাপক (নিরীক্ষা) মো. মনিরুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ডিএফইডি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শ্রাবণী হীরা তাঁর সুবিধামতো সময়ে ঋণের বকেয়া কিস্তি পরিশোধ করতে পারবেন।
শ্রাবণী হীরা জানান, তিনি চিতলমারী শাখা থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। তাঁর স্বামী রিপন রায় এলাকা ছাড়ার পর তিনি কিস্তি পরিশোধে অক্ষম হয়ে পড়েন। গত ২৯ অক্টোবর এনজিওর কর্মীরা তাঁকে ডেকে নিয়ে গিয়ে দুটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করান এবং বদনা ও অলংকার নিয়ে যান বলে তাঁর অভিযোগ ছিল।
অন্যদিকে ডিএফইডির নরসিংদী জোনাল ম্যানেজার তৌহিদুল ইসলাম বলেন, শ্রাবণী হীরা নিজের ইচ্ছাতেই এসব জিনিস দিয়েছিলেন এবং পরে ৯ হাজার ৫০০ টাকা জমা দেওয়ার পর মালামাল ফেরত নেওয়া হয়েছে।
Leave a Reply