
সমরেশ রায় ও শম্পা দাস, পশ্চিমবঙ্গ
কলকাতা, ২৬ নভেম্বর,
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রাজধানী কলকাতা-র কেন্দ্রস্থল রানী রাসমণি রোডের সংযোগস্থলে বুধবার সকাল দশটা থেকে শ্রমিক ও কৃষকদের একটি বৃহৎ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সংযুক্ত কিষান মোর্চা এবং একাধিক কেন্দ্রীয় ও শিল্পভিত্তিক ট্রেড ইউনিয়নের ডাকে আয়োজিত এই জমায়েতে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। একই সময়ে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলাতেও অনুরূপ কর্মসূচি পালিত হয়।
সমাবেশে বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়ন ও কৃষক সংগঠনের কয়েকশ’ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। মঞ্চে বক্তব্য রাখেন পশ্চিমবঙ্গ প্রাদেশিক কৃষক সভার স্টেট সেক্রেটারি পরেশ পাল, CITU-এর রাজ্য নেতৃত্ব, এআইকেকেএমএস ও অগ্রগামী কৃষক সভার কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিসহ সংযুক্ত কৃষক মঞ্চের রাজ্য ও জাতীয় নেতৃবৃন্দ। অন্যান্য ট্রেড ইউনিয়নের শীর্ষ কর্মকর্তারাও কর্মসূচিতে অংশ নেন।

দাবি ও বক্তব্য
সমাবেশ থেকে ঘোষিত প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—শ্রম কোড প্রত্যাহার, ১০০ দিনের কাজ কার্যকর করা, কৃষিপণ্যের লাভজনক ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ, শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ, খেতমজুর ও শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, রাষ্ট্রায়ত্ত খাতে বেসরকারিকরণ রোধ এবং নতুন পেনশন আইন বাতিল।
নেতারা বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের একের পর এক আইন শ্রমজীবী ও কৃষকদের জীবিকাকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে। তাঁদের অভিযোগ, পূর্ববর্তী শ্রম আইনসমূহ বাতিল করে চারটি নতুন শ্রম কোড চালু করায় নিয়োগকর্তাদের হাতে শ্রমিক ছাঁটাই সহজ হয়েছে এবং স্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ কমেছে। কৃষকরা ফসলের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় ঋণগ্রস্ত হচ্ছেন; কৃষি সংকটের সামাজিক প্রভাব হিসেবে আত্মহত্যার ঘটনাও বাড়ছে বলে বক্তারা মন্তব্য করেন। পাশাপাশি বেকারত্ব বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে শিল্প বন্ধ ও বেসরকারিকরণের অভিযোগ তোলা হয়।
সরকারবিরোধী অবস্থান
সমাবেশে বক্তারা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন সরকারের নীতিকে “শ্রমিক ও কৃষকবিরোধী” বলে আখ্যা দেন এবং ২০২০–২১ সালের কৃষক আন্দোলনের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তাঁদের বক্তব্য, প্রয়োজনে রাজধানীতে গিয়ে নতুন করে বৃহত্তর গণআন্দোলন—ধর্মঘট ও অবরোধ—গড়ে তোলা হবে। বিশেষভাবে তাঁরা শ্রমিক অধিকার সুরক্ষা, কৃষি আয়ের নিশ্চয়তা এবং গণতান্ত্রিক পরামর্শপ্রক্রিয়া পুনর্বহালের দাবি জানান।
সমাবেশ শেষে আয়োজকেরা জানায়, দাবি আদায়ে দেশব্যাপী ধারাবাহিক আন্দোলন জোরদার করা হবে এবং কেন্দ্রীয় সরকার আলোচনায় না বসলে কর্মসূচির পরিধি আরও বিস্তৃত করা হবে।
Leave a Reply