
লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ
লালমনিরহাটে সরস্বতী প্রতিমা তৈরির উপকরণ মাটি, খড়, রং ও বাঁশের দাম বাড়লেও কারিগরদের আয় আগের চেয়ে বাড়েনি। কারিগর সংকট এবং কাঁচামালের চড়া দামের কারণে প্রতিমা তৈরিতে খরচ অনেক বেশি হলেও, বিক্রি মূল্য সেই অনুপাতে না বাড়ায় শিল্পীরা আর্থিক সংকটে পড়েছেন। একটি প্রতিমা তৈরিতে কাজ শেষে খুব কম টাকাই লাভ হিসেবে থাকে বলে জানান মৃৎশিল্পীরা।
সরস্বতী পূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিদ্যা ও সঙ্গীতের দেবী সরস্বতীর আরাধনাকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠেয় একটি অন্যতম প্রধান উৎসব ও বিদ্যার দেবী সরস্বতী পূজা আরাধনা করা হয়।শাস্ত্রীয় বিধান অনুসারে মাঘ মাসের শুক্লা পঞ্চমী তিথিতে সরস্বতী পূজা আয়োজিত হয়।
জ্ঞানের আলো ছড়াতে আগামী শুক্রবার ৯ মাঘ (২৩ জানুয়ারি) ১২: ২৯ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে সরস্বতী পূজা। এ পূজা উপলক্ষে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন লালমনিরহাটের মৃৎ শিল্পীরা।
মৃৎশিল্পী জানান যেভাবে মানুষ মাটির তৈরি জিনিসপত্র ব্যবহার করতো, সেই চাহিদা নাা থাকায় আমাদের প্রায় সারা বছরই অলস সময় কাটাতে হয়। তবে দুর্গাপূজা চলাকালে প্রতিমা তৈরি করে যে টাকা আয় হয় তা দিয়ে কোনোমতে সংসার চালানো যায় এবং তা দিয়ে কি ১২ মাস সংসারে চালানো উপযোগী মুসকিল হয় দাড়ায়,সামনের সরস্বতী পূজা যেন কোনো আমেজ নেই, ১৫/২০ টি প্রতিমা অর্ডার নিয়েছি তা আগের রেটে বিক্রি করতে হয়, এটা দিয়ে সংসারের আয় সন্নিকটে দাড়ায়, জিনিসপতির দাম বাড়ায় আমরা অল্প অল্প করে প্রতিমা তৈরি করে কোনরকম জীবনযাপন পার করে থাকি।
মৃৎশিল্পী কার্তিক চন্দ্র জানান, গত কয়েক বছর ধরে প্রতিমা তৈরির উপকরণের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে যাচ্ছে। কিন্তু ক্রেতারা প্রতিমার দাম বাড়াচ্ছে না। এতে আমাদের যে টাকা আয় হওয়ার কথা, তা আর হচ্ছে না।
একই কথা কুলাঘাট ইউনিয়নের পশ্চিম বড়ুয়া গ্রামের মৃৎশিল্পী লংকেশ্বর বর্মন তিনি বলেন, বাপু এখন আর আগের মতো লাভ থাকে না। মাটির দাম, কাঠের দাম, বাঁশের দাম এখন দ্বিগুণ। কিন্তু আমাদের দাম বাড়েনি। তাই খুব একটা লাভ টিকে না।এখন লাভ না টিকলেও বাপদাদার পেশা, তাই ধরে রেখেছি। গত বছর ৪২ টি কাজ নিয়েছিলাম। আর এবার ১৮টি কাজ রেখেছি। যদি সরকার আমাদেরকে আর্থিকভাবে কিছুটা সহযোগিতা করতো, তাহলে এই পেশাটা পরবর্তী প্রজন্মও ধরে রাখতে পারতো।
লালমনিরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনোনীতা দাস জানান,যুগ যুগ ধরে সকল সম্প্রদায়ের মানুষ এখানে সুন্দরভাবে সহাবস্থান করে আসছে। আমি বিশ্বাস করি, পারস্পরিক এ সম্প্রীতি সামনের দিনগুলোতে আরো সুদৃঢ় হবে। দেবী সরস্বতী সত্য, ন্যায়, জ্ঞান, বিদ্যা, বাণী ও সুরের প্রতীক। আমি হিন্দু সম্প্রদায়ের সকলকে দেবী সরস্বতীর পূজার্চনা উপলক্ষে জ্ঞানার্জনে ব্রতী হয়ে সকল স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রী আত্মনিয়োগের করার আহবান জানাচ্ছি।
Leave a Reply