
মো. মিঠু মিয়া, গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি
গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার আলহাজ্ব আহাম্মদ আলী দাখিল মাদ্রাসায় (EIIN: 121327) অবৈধ ইনডেক্স নাম্বার ব্যবহার করে একজন শিক্ষক নিয়োগ পেয়েছেন, এমন অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মাদ্রাসাটির সহকারী শিক্ষক (কৃষি) পদে নিয়োগপ্রাপ্ত আবু হায়দার মোহাম্মদ আলী আকন্দ (পিতা: মহিতুল্লা আকন্দ, মাতা: কাচিনা বিবি) পূর্বে ব্যবহৃত একটি অবৈধ ইনডেক্স নম্বর (R-2011011) ব্যবহার করে বর্তমান চাকরিতে যোগদান করেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, আবু হায়দার মোহাম্মদ আলী আকন্দ এর আগে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার লোনডলা উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক (কৃষি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সে সময় তিনি এইচএসসি পাস করলেও বিএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হন। পরবর্তীতে যোগসাজশের মাধ্যমে তিনি অবৈধভাবে চাকরিতে যোগ দিয়ে এমপিওভুক্ত হন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি তদন্তের আওতায় এলে তিনি ওই চাকরি থেকে পদত্যাগ করেন।
এরপর তিনি গাইবান্ধা সরকারি কলেজে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পড়াশোনা চালিয়ে যান। অভিযোগে বলা হয়, পরবর্তীতে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে তিনি পূর্বে ব্যবহৃত সেই একই অবৈধ ইনডেক্স নম্বর (R-2011011) ব্যবহার করে আলহাজ্ব আহাম্মদ আলী দাখিল মাদ্রাসায় পুনরায় শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান।
বর্তমানে তাঁর এমপিও কোড 8703222103, বেতন কোড ৮ এবং বেতন গ্রহণের জন্য সোনালী ব্যাংকের একটি শাখায় ব্যাংক হিসাব নম্বর 3681/21 ব্যবহৃত হচ্ছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগকারীরা দাবি করেন, ওই শিক্ষক তাঁর প্রকৃত বয়স ও শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য গোপন করে প্রতারণার মাধ্যমে অবৈধভাবে চাকরি গ্রহণ করেছেন। এ ঘটনায় শিক্ষা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান তাঁরা।
এ বিষয়ে আলহাজ্ব আহাম্মদ আলী দাখিল মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটি কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ও স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করার জন্য গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
Leave a Reply