
নিজস্ব প্রতিবেদক,
নওগাঁর বদলগাছীতে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগে এক ডিলারকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সেনাবাহিনী। শনিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার জিতেন্দ্রনাথ ট্রেডার্স ও শাওন ট্রেডার্স এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির সময় স্থানীয়রা একটি সারভর্তি চার্জার ভ্যান হাতেনাতে আটক করেন। পরে ভ্যানচালককে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি জানান, সারগুলো জিতু–শামসুলের দোকান থেকে কেনা হয়েছে। এ সময় প্রতি বস্তা ইউরিয়া ১ হাজার ৩৩০ টাকা, এমওপি ১ হাজার ১০০ টাকা, ডিএপি ১ হাজার ২৫০ টাকা, জিপসাম ৭৮০ টাকা ও মহাজীব ১ হাজার টাকা দরে কেনার ভাউচার জব্দ করা হয়।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইউরিয়া সার ডিলার পর্যায়ে কেজিপ্রতি ২০ টাকা এবং কৃষক পর্যায়ে ২২ টাকা দরে বিক্রির কথা থাকলেও বাস্তবে কৃষকদের ৩০ থেকে ৩৪ টাকা কেজি দরে কিনতে হচ্ছে। এতে প্রতি বস্তা ইউরিয়ার দাম দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা। একইভাবে ডিএপি সারের সরকারি খুচরা মূল্য কেজিপ্রতি ১৬ টাকা (৫০ কেজির বস্তা ৮০০ টাকা) নির্ধারিত থাকলেও কৃষক পর্যায়ে তা ২৭–২৮ টাকা কেজি, অর্থাৎ বস্তাপ্রতি ১ হাজার ৩৫০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পটাশ (এমওপি) সারের সরকারি দাম কেজিপ্রতি ২০ টাকা হলেও কৃষকদের কিনতে হচ্ছে ২৫ থেকে ২৮ টাকা দরে, যা বস্তাপ্রতি ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, ডিলার পর্যায়ে কেজিপ্রতি ১৮ থেকে ২০ টাকা দরে সার সরবরাহ হলেও খুচরা পর্যায়ে তা ৩০ থেকে ৪০ টাকা কিংবা তারও বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। এদিকে এসব ডিলাররা সার সঙ্কট দেখিয়ে অতিরিক্ত দাম নিচ্ছে। অতিরিক্ত দামে সার কিনে ফসল উৎপাদন করতে গিয়ে আমরা চরম আর্থিক চাপে পড়ছি। নিয়মিত বাজার মনিটরিং করার দাবী জানান তাঁরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার পর ডিলার সামসুল হক কৌশলে খুচরা সার ক্রেতা মোরশেদ আলীকে ডেকে সরকার নির্ধারিত দামের আরেকটি ভাউচার দেখানোর চেষ্টা করেন। তবে সেনা কর্মকর্তা ও স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে ডিলার শামসুল হক এবং ক্রেতা মোরশেদ আলী স্বীকার করেন, তাঁরা উচ্চ মূল্যে সার কেনাবেচার একটি সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত।

জিজ্ঞাসাবাদে ডিলার শামসুল হক ভবিষ্যতে আর বেশি দামে সার বিক্রি করবেন না বলে মৌখিক অঙ্গীকার করেন এবং ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান। অপরদিকে, ক্রেতা মোরশেদ আলী স্বীকার করেন, এসব সার আরও বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে তিনি নিয়ে যাচ্ছিলেন।
চার্জার ভ্যানচালক বছির উদ্দীন দাবি করেন, তিনি বিষয়টি জানতেন না এবং ভাড়ার বিনিময়ে ভ্যান চালান।
এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নিতে বদলগাছী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ উদ্দিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হলে তিনি নওগাঁয় বৈঠকে থাকার কথা জানান এবং কৃষি কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলবেন বলে জানান। তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সহায়তা না পাওয়ায় স্থানীয়রা সারভর্তি ভ্যানটি কর্মরত সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করেন।
পরে সেনা কর্মকর্তা নেজামুদ্দিন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ডিলার শামসুল হক ও ক্রেতা মোরশেদ আলীকে কঠোরভাবে সতর্ক করে মৌখিক মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের তদারকির অভাবে এবং উদাসীনতার কারণে এসব অবৈধ সিন্ডিকেট বারবার একই অপরাধ করেও পার পেয়ে যাচ্ছে। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় তাঁরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
Leave a Reply