
নিজস্ব প্রতিবেদক
সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন উপদেষ্টার বিরুদ্ধে শত শত দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এ। দায়িত্ব ছাড়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই লিখিত এসব অভিযোগ জমা পড়ে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
দুদকের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, “যে হারে অভিযোগ জমা পড়ছে, তাতে অভিযোগের সংখ্যায় রেকর্ড হতে পারে। তবে অভিযোগ মানেই সত্য নয়, সবগুলোই নিয়ম অনুযায়ী যাচাই করা হবে।”
দুদক সূত্র জানায়, অন্যান্য অভিযোগের মতোই এসব অভিযোগও প্রাথমিক যাচাইয়ের মাধ্যমে দেখা হবে। যেগুলোর প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যাবে, সেগুলো অনুসন্ধানের আওতায় আনা হবে।
প্রধান উপদেষ্টাসহ একাধিক উপদেষ্টার বিরুদ্ধে অভিযোগ
সূত্রগুলো বলছে, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস-সহ সরকারের প্রায় সব উপদেষ্টার বিরুদ্ধেই নানা ধরনের অভিযোগ জমা হয়েছে।
কিছু অভিযোগে আর্থিক অনিয়ম, আয়কর ফাঁকি, প্রকল্পের অর্থ ব্যবহারে অসঙ্গতি এবং বিদেশে অর্থ পাচারের দাবি করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের একটি অংশ নাম-পরিচয় গোপন রেখেছেন, আবার কয়েকটি অভিযোগে পূর্ণ পরিচয় উল্লেখ করে তথ্য-প্রমাণ সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিভিন্ন খাতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে-
বিচারিক ও প্রশাসনিক পদায়নে অনিয়ম,
প্রকল্প ও টেন্ডার ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতির অভিযোগ,
বিদ্যুৎ ও অবকাঠামো খাতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনে অসঙ্গতির দাবি, স্বাস্থ্য খাতে ক্রয়সংক্রান্ত অনিয়ম, তথ্য ও সম্প্রচার সংশ্লিষ্ট অনুমোদনে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ।
দুদকের কর্মকর্তারা বলছেন, এসব অভিযোগের অনেকগুলোই প্রাথমিক পর্যায়ে নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং তথ্য যাচাইয়ের কাজ চলছে।
এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন,
“কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন। অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে হবে। আবার অভিযোগের নামে কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, অভিযোগ আমলযোগ্য হলে তদন্ত করতে হবে এবং আমলযোগ্য না হলে তার যুক্তিও প্রকাশ করা উচিত, যাতে প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় থাকে।
দুদকের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, অভিযোগের প্রাথমিক যাচাই ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হবে না। সংস্থাটি আইন অনুযায়ী তথ্য সংগ্রহ, নথি পর্যালোচনা এবং প্রয়োজন হলে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু করবে।
Leave a Reply