
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভারতীয় উপমহাদেশের সংগীত ইতিহাসের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই। ৯৩ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। ভারতের মুম্বাই-এর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (১১ এপ্রিল) তার মৃত্যু হয়।
পরিবারের বরাতে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। হৃদ্যন্ত্র ও শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত সমস্যার অবনতি ঘটলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরে আইসিইউতে নেওয়া হয়। রোববার তার ছেলে আনন্দ ভোঁসলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। একই দিন তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
তিনি ছিলেন আরেক কিংবদন্তি শিল্পী লতা মঙ্গেশকর এর আপন ছোট বোন। সংগীতময় পরিবারে বেড়ে ওঠা এই শিল্পী অল্প বয়সেই গানের জগতে প্রবেশ করেন। মাত্র ৯ বছর বয়সে পেশাদার সংগীতজীবন শুরু করে ১৯৪০ এর দশকেই চলচ্চিত্রে গান গাওয়া শুরু করেন। ১৯৫০ এর দশকে বলিউডে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান গড়ে তোলেন তিনি।
দীর্ঘ ছয় দশকেরও বেশি সময়জুড়ে ক্যারিয়ারে তিনি হাজারো গান উপহার দিয়েছেন। “পিয়া তু আব তো আজা”, “চুরা লিয়া হ্যায় তুমনে”, “দিল চিজ কেয়া হ্যায়” এর মতো কালজয়ী গান আজও শ্রোতাদের হৃদয়ে অমলিন। তিনি সাতবার ফিল্মফেয়ার সেরা নারী প্লেব্যাক গায়িকার পুরস্কার এবং দুইবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।
তার সংগীতজীবনের বৈচিত্র্য ছিল বিস্ময়কর। ক্যাবারে, পপ, গজল, শাস্ত্রীয়- সব ধারাতেই সাবলীল দক্ষতায় তিনি নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। বিশেষ করে “উমরাও জান” চলচ্চিত্রে তার গাওয়া গজলগুলো আজও সংগীতপ্রেমীদের কাছে মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।
ব্যক্তিগত জীবনেও নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়েছেন এই শিল্পী। কৈশোরে পরিবারকে না জানিয়ে বিয়ে, পরবর্তীতে বিচ্ছেদ, এবং পরে সংগীত পরিচালক রাহুল দেব বর্মন-এর সঙ্গে দাম্পত্য- সব মিলিয়ে তার জীবন ছিল ঘটনাবহুল। ১৯৯৪ সালে স্বামীর মৃত্যুর পর দীর্ঘ সময় একাকী জীবনযাপন করেন তিনি।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর যুক্তরাষ্ট্র শাখাসহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, আশা ভোঁসলে শুধু একজন শিল্পী নন, তিনি উপমহাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তার কণ্ঠ কোটি মানুষের আবেগ, প্রেম ও স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে।
তারা আরও বলেন, তাঁর মৃত্যুতে বিশ্ব সংগীত অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হলো, যা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
সংগীতের জগতে তাঁর অবদান, বৈচিত্র্যপূর্ণ কণ্ঠ ও অসামান্য দক্ষতা তাকে চিরকাল অমর করে রাখবে- এমনটাই মনে করছেন।
Leave a Reply