
নিজস্ব প্রতিবেদক,
নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলায় এক শিক্ষকের মারধরে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী আহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আপোষ-মীমাংসার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রাব্বী হোসেন (৯) উপজেলার পাহাড়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। অভিযোগ অনুযায়ী, সহপাঠীর সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ানোর পর বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শামিম রেজা তাকে ডেকে নিয়ে বাম কানে কয়েকটি থাপ্পড় দেন। এতে রাব্বীর কান থেকে রক্তক্ষরণ শুরু হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনাটি বাড়িতে জানালে তাঁরা প্রথমে স্থানীয় গ্রাম্য চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পরও রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়ায় পরে নওগাঁ শহরের নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। বর্তমানে রাব্বীর চিকিৎসা চলমান রয়েছে এবং সে ঠিকমতো শুনতে পারছে না বলে অভিযোগ করেছেন তার স্বজনরা।
রাব্বীর মা বলেন, “ঘটনার পর শিক্ষক আমাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেননি। আমরা অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমাদের ডেকে নেন। পরে অভিযুক্ত শিক্ষক ক্ষমা চান এবং চিকিৎসা ব্যয় হিসেবে ১২ হাজার টাকা দেন। ভবিষ্যতে অপারেশন প্রয়োজন হলে সেই খরচ বহনের কথাও বলেছেন।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় আলোচনা শুরু হয়। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠক হয়। সেখানে অভিযুক্ত শিক্ষক শামিম রেজা ক্ষমা চান এবং আর্থিক সহায়তা দেন।
তবে অভিযুক্ত শিক্ষক শামিম রেজা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “বিদ্যালয়ে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।”
অন্যদিকে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “একটি ছোট ঘটনা ঘটেছিল। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা হয়েছে।”
Leave a Reply