
নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর
কোরবানির মাংস বণ্টনের পদ্ধতি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২৮ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় কয়েকটি বাড়িঘরে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনায় ঈদের জামাতও পণ্ড হয়ে যায়।
আজ বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল আটটার দিকে উপজেলার আলগী ইউনিয়নের পূর্ব আড়ুয়াকান্দী গ্রামের ঈদগাহ মাঠে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পূর্ব আড়ুয়াকান্দী গ্রামে কামরুজ্জামান মোল্লা ও জাহাঙ্গীর মাতুব্বরের সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে। প্রতিবছর কোরবানির মাংসের তিন ভাগের একটি অংশ দরিদ্রদের জন্য নির্ধারণ করা হয়। সেই মাংস গ্রামের সব পরিবার থেকে একত্র করে বিতরণ করা হয়ে থাকে। তবে এবার মাংস মসজিদ থেকে বিতরণ করা হবে, নাকি প্রত্যেকে নিজ নিজ বাড়ি থেকে বিতরণ করবে এ নিয়ে ঈদের নামাজ শুরুর আগে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।
একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ঈদের নামাজ ও কোরবানি শুরু হওয়ার আগেই দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
আলগী ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মজিবর মোল্লা বলেন, “ঈদের দিনের মতো আনন্দের মুহূর্তে এমন ঘটনা খুবই দুঃখজনক। সামান্য মাংস বণ্টনের বিষয় নিয়ে সংঘর্ষ কোনোভাবেই কাম্য নয়। ঈদের নামাজ ও পশু জবাই শুরুর আগেই দুই পক্ষ মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে।”
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
Leave a Reply