
নিজস্ব প্রতিবেদক, বদলগাছী (নওগাঁ):
পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় দই-মিষ্টির বাজারে যেন নেমেছে ‘অঘোষিত মূল্যবৃদ্ধির উৎসব’। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় কিছু মিষ্টি ব্যবসায়ী ও মৌয়ালরা (দই-মিষ্টি প্রস্তুত ও বিক্রেতা) সুযোগ বুঝে অতিরিক্ত দাম আদায় করছেন। এতে চরম ক্ষোভ ও ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েকদিন আগেও যে বড় ভান্ডের দই ২৬০ থেকে ২৭০ টাকায় বিক্রি হতো, ঈদ মৌসুম শুরু হতেই সেটির দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০০ টাকায়। একইভাবে প্রতি কেজি মিষ্টি, যা আগে ২২০ থেকে ২৩০ টাকায় পাওয়া যেত, বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায়। কোনো ধরনের সরকারি মূল্য তালিকা বা যৌক্তিক ব্যাখ্যা ছাড়াই এমন মূল্যবৃদ্ধিতে ক্ষুব্ধ ক্রেতারা।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ঈদ উপলক্ষে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে দই-মিষ্টি পাঠানো এবং আপ্যায়নের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেকেই বলছেন, “ঈদ এলেই কিছু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়ে দেয়। বাধ্য হয়ে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।”

ক্রেতা আব্দুর রউফ জানান, যে দই ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা দিয়ে কেনা হতো সেই দই আজকে আমার কাছ থেকে ৫০০ টাকা নিয়েছে। যা কোনভাবেই সহনীয় নয়।
আরেক ক্রেতা লিটন হোসেন জানান, মেয়ের বাড়িতে মিষ্টি পাঠাবো জন্য ১ কেজি মিষ্টি ৫০০ টাকায় কিনতে হলো। অথচ এই মিষ্টি কয়েকদিন আগেও ২৪০ টাকা কেজি কিনেছি।
এছাড়াও একাধিক ক্রেতা জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি চাপের মধ্যে ঈদের কেনাকাটা সামলাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। এর মধ্যে দই-মিষ্টির এমন অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, বাজারে মনিটরিং না থাকায় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামতো দাম নির্ধারণ করছেন। তারা অবিলম্বে উপজেলা প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে কয়েকজন মিষ্টি ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তারা দুধ, চিনি ও শ্রমিক খরচ বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করলেও ক্রেতারা সেই যুক্তিকে ‘অযৌক্তিক’ বলে দাবি করেছেন। কারণ, তাদের মতে, কাঁচামালের দাম বাড়লেও দই-মিষ্টির মূল্য প্রায় দ্বিগুণ হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ঈদের আনন্দকে কেন্দ্র করে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীর এমন ‘মূল্য নৈরাজ্য’ বন্ধে দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
এবিষয়ে বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনি বলেন, বাজার তদারকি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Leave a Reply