
বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় এক মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে মোবাইল ফোন দিয়ে আঘাত করে শিশু শিক্ষার্থীর মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীর পরিবার বদলগাছী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, উপজেলার ভান্ডারপুর এলাকার ভান্ডারপুর নুরানি হাফেজীয়া মডেল মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির (আবাসিক) শিক্ষার্থী মো. রাফি মণ্ডল সম্প্রতি মাদ্রাসা থেকে কাউকে না জানিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পথে মাদ্রাসার শিক্ষক মো. দিপু কাজী তাকে দেখতে পেয়ে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন।
শিশুটির পরিবারের দাবি, রাফি ভ্যানে করে বাড়ির দিকে যাচ্ছিল। এ সময় শিক্ষক তাকে মাদ্রাসায় ফিরে যেতে বললেও সে অস্বীকৃতি জানায়। একপর্যায়ে শিক্ষক ক্ষিপ্ত হয়ে হাতে থাকা মোবাইল ফোন দিয়ে রাফির মাথায় আঘাত করেন। এতে মোবাইলের কোণায় মাথা কেটে যায় এবং রক্তক্ষরণ শুরু হয়।
পরে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনেরা আহত রাফিকে উদ্ধার করে বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার মাথায় সেলাই দেন। বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে পরিবার জানিয়েছে।
রাফির মা-বাবা সন্তানের ওপর শারীরিক নির্যাতনের বিচার দাবি করে বদলগাছী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি মুহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. দিপু কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন ব্যক্তিরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের প্রতি শারীরিক নির্যাতন বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
Leave a Reply