
নিউজ ডেস্ক
ভারতের দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানকে কয়েক ঘণ্টা আটকে রাখা এবং কথিত হেনস্থার অভিযোগে জাতীয় সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এক সংসদ সদস্য। ঘটনাটিকে ‘জাতীয় মর্যাদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্পর্শকাতর বিষয়’ উল্লেখ করে সরকারের অবস্থান ও পদক্ষেপ জানতে চাওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেন ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা মো. সাইফুল আলম খান মিলন। তিনি অভিযোগ করেন, প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক যোগাযোগ সম্পন্ন হওয়ার পরও ডা. জাহেদকে দিল্লি বিমানবন্দরে প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষায় রাখা হয়, যা অনভিপ্রেত।
সংসদ সদস্য বলেন, সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাকে শেষ পর্যন্ত ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও পরিস্থিতিকে অপমানজনক মনে করে তিনি সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরে আসেন। এ ঘটনায় কোনো কূটনৈতিক দুর্বলতা ছিল কি না এবং সরকার কী ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেন তিনি।
এ সময় বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় সংসদের ৩০০ বিধিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়ারও আহ্বান জানান সাইফুল আলম খান মিলন।
তবে স্পিকার বিষয়টিকে পয়েন্ট অব অর্ডার হিসেবে গ্রহণ করেননি। তিনি বলেন, সদস্য চাইলে পরবর্তীতে এ বিষয়ে আলাদা নোটিশ দিতে পারবেন, যা বিধি অনুযায়ী বিবেচনা করা হবে।
জানা গেছে, রোববার (১৪ জুন) সন্ধ্যায় দিল্লিতে পৌঁছান ডা. জাহেদ উর রহমান। সেখানে ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল তার।
তবে অভিযোগ ওঠে, পূর্বানুমতি ও কূটনৈতিক চিঠি থাকার পরও ভারতের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ প্রথমে তাকে প্রবেশে বাধা দেয়। পরে উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপে অনুমতি মিললেও তিনি বৈঠকে অংশ না নিয়ে কলম্বো হয়ে ঢাকায় ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। সোমবার দুপুরে তিনি দেশে ফিরে আসেন।
ঘটনাটি নিয়ে কূটনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। এদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে তলব করে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
Leave a Reply